জাহাজমারা সৈকতে ভেসে এলো ইরাবতি ডলফিন
jugantor
জাহাজমারা সৈকতে ভেসে এলো ইরাবতি ডলফিন

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীজুড়ে বিপন্নপ্রায় ইরাবতি ডলফিন। দেশের উপকূলীয় সমুদ্রসীমার নোনা জলে এদের আবাসস্থল ও বিচরণ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা সৈকতের বালুচরে ভেসে এসেছে এমন প্রজাতির একটি ডলফিন।

শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, জাহাজমারা সৈকতের বালুচরে বিশাল আকৃতির একটি মৃত ডলফিন পড়ে আছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে জোয়ারে ভেসে এসে বালুচরে আটকা পড়ে এটি। জেলেদের জালে আটকা পড়ে ৩-৪ দিন আগে ডলফিনটি মারা যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জাহাজমারা সংলগ্ন ভূঁইয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ডলফিনটি জাহাজমারায় পড়ে থাকতে দেখেছি। রাতে শেয়াল-কুকুরে হানাও দিয়েছে মনে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলফিনের সব প্রজাতির মধ্যে ইরাবতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজাতিগতভাবে স্তন্যপায়ী হলেও এ প্রজাতির ডলফিনের সঙ্গে মানুষের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের মতোই এদের রক্ত গরম। একটি পরিবারের মতোই এরা নদনদী ও সাগরে দলবেঁধে বিচরণ করে। একটি জরিপের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশে ডলফিন টিকে আছে। কিন্তু ডলফিনের বসতি এলাকায় মানুষের যে উৎপাত বেড়েছে, এতে ভবিষ্যতে ডলফিনের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ফিশারিজ, একোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, ইরাবতি ডলফিন সারা পৃথিবীতে একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। একমাত্র বাংলাদেশেই এ প্রজাতিটি সর্বোচ্চ সংখ্যায় পাওয়া যায়। এদের রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসা দরকার। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য অধিদফত ও প্রশাসনের মেরিন প্রটেক্টেড অঞ্চল করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। পাশাপাশি জনগণ ও জেলেদের সচেতনতার জন্য কর্মসূচি হাতে নেয়া প্রয়োজন।

তিনি যুগান্তরকে আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী তিমি বা ডলফিন হত্যার দায়ে কেউ অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। তিমি বা ডলফিনের দেহাবশেষ সংগ্রহ করলে তার জন্য সর্বোচ্চ দু’বছরের সাজা অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।

জাহাজমারা সৈকতে ভেসে এলো ইরাবতি ডলফিন

 রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীজুড়ে বিপন্নপ্রায় ইরাবতি ডলফিন। দেশের উপকূলীয় সমুদ্রসীমার নোনা জলে এদের আবাসস্থল ও বিচরণ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা সৈকতের বালুচরে ভেসে এসেছে এমন প্রজাতির একটি ডলফিন।

শুক্রবার সকালে দেখা গেছে, জাহাজমারা সৈকতের বালুচরে বিশাল আকৃতির একটি মৃত ডলফিন পড়ে আছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে জোয়ারে ভেসে এসে বালুচরে আটকা পড়ে এটি। জেলেদের জালে আটকা পড়ে ৩-৪ দিন আগে ডলফিনটি মারা যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জাহাজমারা সংলগ্ন ভূঁইয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ডলফিনটি জাহাজমারায় পড়ে থাকতে দেখেছি। রাতে শেয়াল-কুকুরে হানাও দিয়েছে মনে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলফিনের সব প্রজাতির মধ্যে ইরাবতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজাতিগতভাবে স্তন্যপায়ী হলেও এ প্রজাতির ডলফিনের সঙ্গে মানুষের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের মতোই এদের রক্ত গরম। একটি পরিবারের মতোই এরা নদনদী ও সাগরে দলবেঁধে বিচরণ করে। একটি জরিপের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশে ডলফিন টিকে আছে। কিন্তু ডলফিনের বসতি এলাকায় মানুষের যে উৎপাত বেড়েছে, এতে ভবিষ্যতে ডলফিনের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ফিশারিজ, একোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, ইরাবতি ডলফিন সারা পৃথিবীতে একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। একমাত্র বাংলাদেশেই এ প্রজাতিটি সর্বোচ্চ সংখ্যায় পাওয়া যায়। এদের রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসা দরকার। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য অধিদফত ও প্রশাসনের মেরিন প্রটেক্টেড অঞ্চল করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। পাশাপাশি জনগণ ও জেলেদের সচেতনতার জন্য কর্মসূচি হাতে নেয়া প্রয়োজন।

তিনি যুগান্তরকে আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী তিমি বা ডলফিন হত্যার দায়ে কেউ অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। তিমি বা ডলফিনের দেহাবশেষ সংগ্রহ করলে তার জন্য সর্বোচ্চ দু’বছরের সাজা অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে।