আ’লীগের চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী বিএনপিতে ভোটের হাওয়া
jugantor
যশোর সদর উপজেলা উপনির্বাচন
আ’লীগের চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী বিএনপিতে ভোটের হাওয়া

  ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই করা জেলা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে উভয় পক্ষের একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় একক কিংবা সংক্ষিপ্ত প্রার্থী তালিকা তৈরিতেও হিমশিম খেতে হবে। চলছে নানা সমীকরণ। অপরদিকে বিএনপিতেও লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। উপনির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর যশোর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৬ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর ২০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেতে ১৯ জন আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। শিগগিরই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।’

চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও হায়দার গণি খান পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, এসএম আফজাল হোসেন ও মীর জহুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য খলিলুর রহমান, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন দিপু, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক শরীফ আবদুল্লা হেল মুকিত ও কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তোহা।

এদিকে, বিএনপিও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। প্রার্থীদের তালিকা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে পাঠাবে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে প্রার্থী। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আবু মুরাদ একাই আবেদন করেছিলেন। শুক্রবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট কতজন আবেদন করেছেন সেটি জানাতে পারেননি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার বিকালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একজন আবেদন জমা দিয়েছে। আজ (শুক্রবার) কেউ জমা দিয়েছে কিনা জানা নেই। এখনও সময় আছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর মার্চে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। ওই নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তখন নির্বাচন কমিশন থেকে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

যশোর সদর উপজেলা উপনির্বাচন

আ’লীগের চ্যালেঞ্জ একক প্রার্থী বিএনপিতে ভোটের হাওয়া

 ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাই করা জেলা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে উভয় পক্ষের একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় একক কিংবা সংক্ষিপ্ত প্রার্থী তালিকা তৈরিতেও হিমশিম খেতে হবে। চলছে নানা সমীকরণ। অপরদিকে বিএনপিতেও লেগেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। উপনির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ১৪ সেপ্টেম্বর যশোর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৬ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর ২০ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হবে।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেতে ১৯ জন আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। শিগগিরই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।’

চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও হায়দার গণি খান পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, এসএম আফজাল হোসেন ও মীর জহুরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এএসএম হুমায়ুন কবীর কবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপপ্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সদর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরজাহান ইসলাম নীরা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য খলিলুর রহমান, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার হোসেন দিপু, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক শরীফ আবদুল্লা হেল মুকিত ও কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তোহা।

এদিকে, বিএনপিও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। প্রার্থীদের তালিকা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে পাঠাবে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে প্রার্থী। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আবু মুরাদ একাই আবেদন করেছিলেন। শুক্রবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট কতজন আবেদন করেছেন সেটি জানাতে পারেননি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার বিকালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু বলেন, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একজন আবেদন জমা দিয়েছে। আজ (শুক্রবার) কেউ জমা দিয়েছে কিনা জানা নেই। এখনও সময় আছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর মার্চে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। ওই নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তখন নির্বাচন কমিশন থেকে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।