শেরেবাংলা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ৪ মাস বন্ধ
jugantor
চিকিৎসক নেই
শেরেবাংলা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ৪ মাস বন্ধ

  বরিশাল ব্যুরো  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৪ মাস বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বার্ন ওয়ার্ডে কোনো রোগী ভর্তি নেয়া না হলেও পুড়ে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে সার্জারি ওয়ার্ডে। চিকিৎসক না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর যেসব রোগীর অবস্থা একটু সংকটাপন্ন তাদের উন্নত চিকিৎসার নামে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ঢাকায়।

এ অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১২ মার্চ মেডিকেলের নিচতলার পূর্বদিকে আটটি বেড নিয়ে বার্ন ইউনিটের পথচলা শুরু হয়। নারী ও পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা দিতে সেখানে আট চিকিৎসক, ১৬ নার্স ও ব্রাদারের পদ রাখা হয়। এরপর ওই ওয়ার্ডটিকে ১০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও রোগীদের চাপ সামাল দিতে ৩০-৩২টি বেড সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ। পদ যাই রাখা হোক, শুরু থেকেই ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এমএ আজাদ সজল। এরপর সেখানে সহযোগী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেনকেও দেয়া হয়। তবে গেল মার্চ থেকে চিকিৎসাজনিত ছুটিতে চলে যান সহযোগী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি এখনও ছুটিতে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। ২৬ এপ্রিল সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এমএ আজাদ সজলের মৃত্যু হওয়ার পর ওয়ার্ডটি চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। তারপর মে মাসের শেষ পর্যন্ত অন্য ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের সহায়তায় অভিজ্ঞ নার্সদের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেয়ার কার্যক্রম চলমান ছিল। কিন্তু বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ছাড়া এভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া কষ্টকর হয়ে উঠলে জুন মাসের শুরুর দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ডটিতে রোগী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেইসঙ্গে পুড়ে আসা রোগীদের সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের সহায়তায়ই আগুনে ও এসিডে পুড়ে আসা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে গুরুতরদের পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সাবেক ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার লিংকন জানান, বার্ন ওয়ার্ডটি হাসপাতালের বর্তমান পরিচালকের অক্লান্ত পরিশ্রমে একটি বিশেষায়িত ওয়ার্ডে পরিণত হয়েছে। সজল স্যার থাকাকালীন নিয়মিত অপারেশন ও রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হতো। তখন ১০ শয্যার ওয়ার্ডটিতে গড়ে ৪০ জন রোগী থাকত প্রতিদিন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে এখন ওয়ার্ডটিতে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকায় দায়িত্বরত নার্স, ব্রাদার ও কর্মচারীরা রুটিন মাফিক মালামাল পাহারার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, আমরা রোগীদের সেবা দিতে চাই। আশা করি, দ্রুত প্রফেসরসহ মেডিকেল অফিসার যারা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির ওপরে ট্রেনিংপ্রাপ্ত তাদের যেন নিয়োগ দেয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, বার্ন ইউনিটটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন। শেবাচিম ইউনিট আছে কিন্তু এখন চিকিৎসকদের পদায়ন প্রয়োজন।

এ ছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) হাসপাতালের ৩৭টি ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মেডিকেলের প্রশাসনিক দফতর সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ২২৪ চিকিৎসকের স্থলে ১২৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসক নেই

শেরেবাংলা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট ৪ মাস বন্ধ

 বরিশাল ব্যুরো 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত ৪ মাস বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বার্ন ওয়ার্ডে কোনো রোগী ভর্তি নেয়া না হলেও পুড়ে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে সার্জারি ওয়ার্ডে। চিকিৎসক না থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর যেসব রোগীর অবস্থা একটু সংকটাপন্ন তাদের উন্নত চিকিৎসার নামে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ঢাকায়।

এ অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১২ মার্চ মেডিকেলের নিচতলার পূর্বদিকে আটটি বেড নিয়ে বার্ন ইউনিটের পথচলা শুরু হয়। নারী ও পুরুষ রোগীদের চিকিৎসা দিতে সেখানে আট চিকিৎসক, ১৬ নার্স ও ব্রাদারের পদ রাখা হয়। এরপর ওই ওয়ার্ডটিকে ১০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও রোগীদের চাপ সামাল দিতে ৩০-৩২টি বেড সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ। পদ যাই রাখা হোক, শুরু থেকেই ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এমএ আজাদ সজল। এরপর সেখানে সহযোগী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেনকেও দেয়া হয়। তবে গেল মার্চ থেকে চিকিৎসাজনিত ছুটিতে চলে যান সহযোগী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি এখনও ছুটিতে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। ২৬ এপ্রিল সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এমএ আজাদ সজলের মৃত্যু হওয়ার পর ওয়ার্ডটি চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। তারপর মে মাসের শেষ পর্যন্ত অন্য ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের সহায়তায় অভিজ্ঞ নার্সদের মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেয়ার কার্যক্রম চলমান ছিল। কিন্তু বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ছাড়া এভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া কষ্টকর হয়ে উঠলে জুন মাসের শুরুর দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ডটিতে রোগী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেইসঙ্গে পুড়ে আসা রোগীদের সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের সহায়তায়ই আগুনে ও এসিডে পুড়ে আসা রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে গুরুতরদের পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সাবেক ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার লিংকন জানান, বার্ন ওয়ার্ডটি হাসপাতালের বর্তমান পরিচালকের অক্লান্ত পরিশ্রমে একটি বিশেষায়িত ওয়ার্ডে পরিণত হয়েছে। সজল স্যার থাকাকালীন নিয়মিত অপারেশন ও রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হতো। তখন ১০ শয্যার ওয়ার্ডটিতে গড়ে ৪০ জন রোগী থাকত প্রতিদিন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে এখন ওয়ার্ডটিতে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকায় দায়িত্বরত নার্স, ব্রাদার ও কর্মচারীরা রুটিন মাফিক মালামাল পাহারার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, আমরা রোগীদের সেবা দিতে চাই। আশা করি, দ্রুত প্রফেসরসহ মেডিকেল অফিসার যারা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির ওপরে ট্রেনিংপ্রাপ্ত তাদের যেন নিয়োগ দেয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, বার্ন ইউনিটটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন। শেবাচিম ইউনিট আছে কিন্তু এখন চিকিৎসকদের পদায়ন প্রয়োজন।

এ ছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) হাসপাতালের ৩৭টি ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মেডিকেলের প্রশাসনিক দফতর সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ২২৪ চিকিৎসকের স্থলে ১২৮টি পদ শূন্য রয়েছে।