খুলনার পাসপোর্ট অফিস পরিচালক যেন সামন্ত প্রভু
jugantor
খুলনার পাসপোর্ট অফিস পরিচালক যেন সামন্ত প্রভু

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের আচরণ অনেকটা সামন্ত প্রভুর মতো। তার নির্দেশ ছাড়া পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে কেউই প্রবেশ করতে পারে না। গণমাধ্যম কর্মীরা গেটের বাইরে থেকেই মোবাইল বা টেলিফোনে কথা বলে কাজ সারেন। পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে আবেদনকারীদের হয়রানি অথবা টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে যাতে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে না পারেন সেজন্য এমন নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন এই পরিচালক। সম্প্রতি এক অভিযানে তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন দুদক সদস্যরা।

খুলনায় বদলি হওয়ার আগে তিনি প্রধান কার্যালয়ে উপ-পরিচালক (অর্থ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন দেশের ২৯টি অফিস থেকে মাসোয়ারা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে- যা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এছাড়া তিনি খুলনায় যোগদানের পর গত বছরের ২ ডিসেম্বর পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। এ সময় আনসার সদস্য ফরমান সরদার ও রবিউল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী হোসনে আরা খাতুন এবং নৈশপ্রহরী আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে দুদক। এছাড়া পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ করেন দুদকের অভিযান পরিচালনা দলের সদস্যরা।

সরেজমিন রোববার বেলা ১১টায় নগরীর নূরনগরে পাসপোর্ট অফিসের গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেটে সোহাগ নামে এক আনসার সদস্য ডিউটি করছেন। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ভেতরে যাওয়ার কারণ জেনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনার পরই তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন। এখানে কোনো সাংকেতিক বিষয় আছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। এদিকে পুলিশের সদস্যরা কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই পাসপোর্টের ফাইল নিয়েই ভেতরে যাচ্ছেন। খুলনার পাসপোর্ট কার্যক্রমের সঙ্গে এক শ্রেণির পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা বহু বছর থেকেই চলে আসছে। কোনো গ্রাহক পাসপোর্টের আবেদনের বিষয় জানতে বা তথ্য সেবা নিতেও ভেতরে যেতে পারছেন না। এমনকি মিডিয়া কর্মীর পরিচয় দিলে তো আরও বিপদ। সরাসরি পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম যদি অনুমতি দেন তবেই তার ভেতরে যাওয়ার সুযোগ হয়, অন্যথায় নয়। এখানে গ্রাহক হয়রানি এবং দালালের খপ্পরে পড়ে বেশি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করার বিষয়টি নতুন নয়। প্রশাসনের চাপে পড়ে রাঘববোয়ালরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। কিছু দালাল কাজ করে পাসপোর্ট অফিসের বাইরে- যারা বিভিন্নভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা কারণ দেখিয়ে টাকা নেয়। আর কিছু দালাল কাজ করে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে। তবে পুলিশ ও দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের তুলনায় বাইরের দালাল চক্রই বেশি আটক হয়।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি যুগান্তরকে জানান, ভেতরে আসার সুযোগ নেই। কোনো কিছু জানতে চাইলে ফোনে বলতে হবে। ভেতরে দালালদের অবস্থান অথবা গ্রাহকরা হয়রানি হচ্ছেন কিনা সেটা বোঝার উপায় কি এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দালাল বাইরে আছে কিনা দেখেন। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু উন্মুক্ত করে দিলেও পাসপোর্ট অফিসে তিনি জনস্বার্থে প্রবেশ অধিকার বিঘ্নিত করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী (পিবিজিএমএস, এনডিসি, পিএসসি) রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, খুলনার বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস সবার জন্য উন্মুক্ত। পরিচালকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিষয়গুলো তিনি দেখবেন বলে জানান।

খুলনার পাসপোর্ট অফিস পরিচালক যেন সামন্ত প্রভু

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের আচরণ অনেকটা সামন্ত প্রভুর মতো। তার নির্দেশ ছাড়া পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে কেউই প্রবেশ করতে পারে না। গণমাধ্যম কর্মীরা গেটের বাইরে থেকেই মোবাইল বা টেলিফোনে কথা বলে কাজ সারেন। পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে আবেদনকারীদের হয়রানি অথবা টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে যাতে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে না পারেন সেজন্য এমন নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন এই পরিচালক। সম্প্রতি এক অভিযানে তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন দুদক সদস্যরা।

খুলনায় বদলি হওয়ার আগে তিনি প্রধান কার্যালয়ে উপ-পরিচালক (অর্থ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তৎকালীন দেশের ২৯টি অফিস থেকে মাসোয়ারা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে- যা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এছাড়া তিনি খুলনায় যোগদানের পর গত বছরের ২ ডিসেম্বর পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। এ সময় আনসার সদস্য ফরমান সরদার ও রবিউল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী হোসনে আরা খাতুন এবং নৈশপ্রহরী আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে দুদক। এছাড়া পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ করেন দুদকের অভিযান পরিচালনা দলের সদস্যরা।

সরেজমিন রোববার বেলা ১১টায় নগরীর নূরনগরে পাসপোর্ট অফিসের গিয়ে দেখা যায়, প্রধান গেটে সোহাগ নামে এক আনসার সদস্য ডিউটি করছেন। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে ভেতরে যাওয়ার কারণ জেনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনার পরই তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন। এখানে কোনো সাংকেতিক বিষয় আছে কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। এদিকে পুলিশের সদস্যরা কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই পাসপোর্টের ফাইল নিয়েই ভেতরে যাচ্ছেন। খুলনার পাসপোর্ট কার্যক্রমের সঙ্গে এক শ্রেণির পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা বহু বছর থেকেই চলে আসছে। কোনো গ্রাহক পাসপোর্টের আবেদনের বিষয় জানতে বা তথ্য সেবা নিতেও ভেতরে যেতে পারছেন না। এমনকি মিডিয়া কর্মীর পরিচয় দিলে তো আরও বিপদ। সরাসরি পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম যদি অনুমতি দেন তবেই তার ভেতরে যাওয়ার সুযোগ হয়, অন্যথায় নয়। এখানে গ্রাহক হয়রানি এবং দালালের খপ্পরে পড়ে বেশি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করার বিষয়টি নতুন নয়। প্রশাসনের চাপে পড়ে রাঘববোয়ালরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। কিছু দালাল কাজ করে পাসপোর্ট অফিসের বাইরে- যারা বিভিন্নভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা কারণ দেখিয়ে টাকা নেয়। আর কিছু দালাল কাজ করে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে। তবে পুলিশ ও দুদকের অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরের তুলনায় বাইরের দালাল চক্রই বেশি আটক হয়।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি যুগান্তরকে জানান, ভেতরে আসার সুযোগ নেই। কোনো কিছু জানতে চাইলে ফোনে বলতে হবে। ভেতরে দালালদের অবস্থান অথবা গ্রাহকরা হয়রানি হচ্ছেন কিনা সেটা বোঝার উপায় কি এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, দালাল বাইরে আছে কিনা দেখেন। সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু উন্মুক্ত করে দিলেও পাসপোর্ট অফিসে তিনি জনস্বার্থে প্রবেশ অধিকার বিঘ্নিত করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী (পিবিজিএমএস, এনডিসি, পিএসসি) রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, খুলনার বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস সবার জন্য উন্মুক্ত। পরিচালকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিষয়গুলো তিনি দেখবেন বলে জানান।