আন্দোলনে নেমেছে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীরা
jugantor
পরীক্ষা স্থগিতের দাবি
আন্দোলনে নেমেছে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীরা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি উত্তরণের পর এই পরীক্ষা চায় তারা। সেটা সম্ভব না হলে জুন-জুলাইয়ে পরীক্ষার মতো অক্টোবর-নভেম্বরের পরীক্ষার্থীদেরও অটোপাস (গড় গ্রেড) দেয়ার দাবি করেছে তারা। এই দাবিতে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে রাজধানীর বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষক-অভিভাবকও যোগ দেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি গত ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে জানানো হয়েছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এই দুটি পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি সরকারি অনুমতির জন্যও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক ভাবছে বলে তারা খবর পেয়েছে। এরপর মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি হবে না- এমন কোনো আশ্বাস তারা পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে দাবি আদায়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই তাদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে। পরীক্ষার্থী নিসা আলম জানায়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তারা পরীক্ষার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত নয়। অনেকেই আছে ‘ট্রমা’র (মানসিক আঘাত) মধ্যে। কারও বাবা বা ভাই মারা গেছে করোনায়। আবার কারও পরিবারের সদস্য বা সে নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লেখাপড়া করতে পারেনি তারা। এই পরীক্ষার জন্য পত্রপ্রতি সাড়ে ১২ হাজার টাকা করে ফরম পূরণ ফি দিয়েছে তারা। কেউ পাঁচটি আবার কেউ সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই নিু বিত্ত এবং মধ্যবিত্তের পরিবারের সন্তান। এত টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করলে তারা মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

তামান্না নামে এক ছাত্রী জানায়, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বর্তমানে আরও ভয়াবহ। তাছাড়া সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে গেলে অনেকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- প্রত্যেকের পরিবারে বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থ মানুষ আছে। বাইরে থেকে করোনা নিয়ে বাসায় গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা আছে। ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিলে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই দায়ভার কে নেবে।

জারিফ নামে এক ছাত্র জানায়, তাদের দাবির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করে করোনার মধ্যে পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে ফলপ্রদান বা জুন-জুলাইয়ের মতো গ্রেড দেয়ার দাবি জানায় এই আন্দোলনকারী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার প্রায় ১২ হাজার পরীক্ষার্থী আছে। তাদের অনেকে জুন-জুলাইয়ে পরীক্ষার্থী থাকলেও অটোপাস নেয়নি। কেননা, তখন কেবল স্কুলের শিক্ষার্থীরা অটোপাস পেয়েছিল। প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরা পায়নি। প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হয় ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ এবং অ্যাডেক্সেলের কারিকুলাম অনুযায়ী। তবে অ্যাডেক্সেলের শিক্ষার্থীই বেশি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাডেক্সেল বাংলাদেশের প্রধান আবদুল্লাহ লিটন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশে পরীক্ষা আয়োজন করে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। সংস্থাটি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। তাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা আয়োজন করার কথা আছে। সরকার অনুমতি দিলে পরীক্ষা নেয়া হবে। অন্য দেশেও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘ও’ এবং ‘এ’ লেবেল পরীক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে নেয়া হয়ে থাকে। একটি দেশ বন্ধ করলে আরেক দেশও তা স্থগিত রাখবে কিনা সেটা জানা প্রয়োজন। যদি সেটা হয় তাহলে আমরাও বন্ধ রাখতে পারি। আর তা না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এসব ভাবনার বিষয় আছে। সবকিছু ভেবেচিন্তেই সরকার সিদ্ধান্ত দেবে।

প্রসঙ্গত, ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা এসএসসি এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা এইচএসসির সমমান। করোনার কারণে বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত আছে।

পরীক্ষা স্থগিতের দাবি

আন্দোলনে নেমেছে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীরা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি উত্তরণের পর এই পরীক্ষা চায় তারা। সেটা সম্ভব না হলে জুন-জুলাইয়ে পরীক্ষার মতো অক্টোবর-নভেম্বরের পরীক্ষার্থীদেরও অটোপাস (গড় গ্রেড) দেয়ার দাবি করেছে তারা। এই দাবিতে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে রাজধানীর বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষক-অভিভাবকও যোগ দেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়টি গত ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে জানানো হয়েছে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এই দুটি পরীক্ষা আয়োজনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি সরকারি অনুমতির জন্যও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক ভাবছে বলে তারা খবর পেয়েছে। এরপর মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি হবে না- এমন কোনো আশ্বাস তারা পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে দাবি আদায়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই তাদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে। পরীক্ষার্থী নিসা আলম জানায়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তারা পরীক্ষার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত নয়। অনেকেই আছে ‘ট্রমা’র (মানসিক আঘাত) মধ্যে। কারও বাবা বা ভাই মারা গেছে করোনায়। আবার কারও পরিবারের সদস্য বা সে নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে লেখাপড়া করতে পারেনি তারা। এই পরীক্ষার জন্য পত্রপ্রতি সাড়ে ১২ হাজার টাকা করে ফরম পূরণ ফি দিয়েছে তারা। কেউ পাঁচটি আবার কেউ সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই নিু বিত্ত এবং মধ্যবিত্তের পরিবারের সন্তান। এত টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করলে তারা মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

তামান্না নামে এক ছাত্রী জানায়, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বর্তমানে আরও ভয়াবহ। তাছাড়া সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে গেলে অনেকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- প্রত্যেকের পরিবারে বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থ মানুষ আছে। বাইরে থেকে করোনা নিয়ে বাসায় গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা আছে। ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিলে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই দায়ভার কে নেবে।

জারিফ নামে এক ছাত্র জানায়, তাদের দাবির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিতভাবে জানালেও কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করে করোনার মধ্যে পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে ফলপ্রদান বা জুন-জুলাইয়ের মতো গ্রেড দেয়ার দাবি জানায় এই আন্দোলনকারী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার প্রায় ১২ হাজার পরীক্ষার্থী আছে। তাদের অনেকে জুন-জুলাইয়ে পরীক্ষার্থী থাকলেও অটোপাস নেয়নি। কেননা, তখন কেবল স্কুলের শিক্ষার্থীরা অটোপাস পেয়েছিল। প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরা পায়নি। প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হয় ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ এবং অ্যাডেক্সেলের কারিকুলাম অনুযায়ী। তবে অ্যাডেক্সেলের শিক্ষার্থীই বেশি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যাডেক্সেল বাংলাদেশের প্রধান আবদুল্লাহ লিটন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশে পরীক্ষা আয়োজন করে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। সংস্থাটি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। তাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা আয়োজন করার কথা আছে। সরকার অনুমতি দিলে পরীক্ষা নেয়া হবে। অন্য দেশেও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘ও’ এবং ‘এ’ লেবেল পরীক্ষা আন্তর্জাতিকভাবে নেয়া হয়ে থাকে। একটি দেশ বন্ধ করলে আরেক দেশও তা স্থগিত রাখবে কিনা সেটা জানা প্রয়োজন। যদি সেটা হয় তাহলে আমরাও বন্ধ রাখতে পারি। আর তা না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে এসব ভাবনার বিষয় আছে। সবকিছু ভেবেচিন্তেই সরকার সিদ্ধান্ত দেবে।

প্রসঙ্গত, ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা এসএসসি এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা এইচএসসির সমমান। করোনার কারণে বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত আছে।