কুকুরের প্রতি সহিংসতা নয়
jugantor
কুকুর নিধন-অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ
কুকুরের প্রতি সহিংসতা নয়
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য অপরিহার্য

  শিপন হাবীব  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুকুরের প্রতি সহিংতা নয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কুকুরসহ অনেক প্রাণীর অবদান রয়েছে। এছাড়া জনগণের জানমাল রক্ষায়ও কুকুর প্রহরীর ভূমিকা পালন করে। তাই বেওয়ারিশ ও অবাঞ্ছিত প্রাণী উল্লেখ করে কুকুর নিধন-অপসারণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

বিশ্বস্ত এ প্রাণীটির ওপর প্রতিনিয়তই অত্যাচার চলছে। বয়স্ক কিংবা নবজাতক কুকুরকে কেউ ফুটন্ত পানি, কেউ গরম লোহা ছুড়ে দেন। কেউ আবার পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। কেউ মাথা ফাটিয়ে পাঁজর, চার পায়ের হাড়গোড় ভেঙে দেয়। কেউ মবিল, কেউ গরম তেল শরীরে লেপে দেয়।

কেউ দা-কোদাল দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। কেউ বা আবার অসহায় এ প্রাণীগুলোর লেজে পটকা বেঁধে উল্লাসে মেতে উঠেন। কেউ আবার লেজে পলিথিন-কাপড় প্যাঁচিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাজধানী থেকে গ্রাম- এমন ঘটনা নিত্যদিনের। এমন বর্বরতায় মুখ খোলেন না কেউ। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় না অপরাধীদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন-অপসারণে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কুকুর রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় ফেলে দেয়া হয়েছে।

যারা কুকুর নিধন-অপসারণের পেছনে নিজেদের নিরাপত্তার অজুহাত খোঁজেন, তাদের অনেকেরই সাফ বক্তব্য, সিটি কর্পোরেশনে কুকুর থাকতে পারবে না।

কুকুরের ভয়ে থাকতে হয়। পরিবেশবিদ তথা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ অনুযায়ী কুকুর নিধন-অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

যথাযথ উপায়ে রাস্তার কুকুরকে টিকা ও বন্ধাত্বকরণ নিশ্চিত করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন থেকে কুকুর নিধন কিংবা অপসারণের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক প্রফেসর ডা. বেনজির আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে জানান, দেশের প্রায় ১৭ লাখের মতো কুকুর রয়েছে।

যার মধ্যে বর্তমানে রাজধানীর দুই সিটিতে ৫৫ হাজারের মতো কুকুর রয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ডা. বেনজির বলেন, কুকুর মানুষের বিশ্বস্ত প্রাণী। কুকুরকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। জলাতঙ্ক রোধে টিকা নিশ্চিতকরণসহ সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্টদের সঠিক দায়িত্ব।

কুকুরকে ঘৃণা নয়, ভালোবাসতে হবে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জলাতঙ্ক তথা কুকুর উন্নয়নে ৩৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হলে কুকুরের সংখ্যা ও জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত।

প্রাণী কল্যাণ সংগঠন অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এমন উদ্যোগ মেনে নেয়া হবে না। প্রাণীপ্রেমী সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।

ঢাকায় ৭৫ শতাংশ কুকুর সরকারের বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচির আওতায় আছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে; কিন্তু দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন করছে না।

বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, কুকুরের মতো নিরীহ প্রাণীর ওপর ক্ষমতা প্রদর্শন মেনে নেয়া যায় না। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টদের এমন সিদ্ধান্ত শুধু অমানবিক ও অবৈজ্ঞানিক নয়, এটি বেআইনিও।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক যুগান্তরকে জানান, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২০ হাজারের উপরে কুকুর রয়েছে। আমরা এসব কুকুরকে রাজধানীতে রেখেই যথাযথ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিচ্ছি।

মেয়র কুকুরকে খাবার দিচ্ছেন। নগরবাসীর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি সামনে রেখে সব কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হবে। এদের বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করা হবে। এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শুরু করব। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি পরিবেশবিদ ড. আব্দুল মতিন জানান, রাজধানী থেকে কুকুরকে সরিয়ে নেয়া কিংবা কুকুরবিহীন রাজধানীর কথা চিন্তা করাটাই ভয়ানক ব্যাপার।

আমি তো মনে করি, কুকুর বন্ধ্যত্বকরণে টিকা নয়। স্বাভাবিকভাবে তাদের বাঁচতে দেয়া উচিত। কারণ পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণ করছে কুকুর।

পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের (প ফাউন্ডেশন) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল জানান, কুকুর নিধন, অপসারণ নিয়ে কোনো কথাই হতে পারে না।

উদ্যোগ নিতে হবে এ নগরে থাকা কুকুরগুলো যেন সুস্থ ও ভালো থাকে। তাদের খাবার ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষ দ্বারা যাতে কোনো কুকুরের ক্ষতি না হয়।

বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা সঠিক ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

‘একবেলা খাবার বোবা প্রাণীর জন্য’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অর্পিতা খান মোহুয়া জানান, করোনার এ সময়ে প্রায় ১৫শ’ কুকুরকে খাওয়ানো হয়েছে। একটি কুকুরও আমাদের সেচ্চাসেবীদের কামড়ায়নি।

বরং দেখেছি, কুকুরগুলো মানুষের আদর পেয়ে কী শান্ত-বিনীয়ভাবে ঘুমিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এদের যথাযথভাবে সুরক্ষা দেয়াসহ টিকা-বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করা হবে।

কুকুরের জন্য হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে কুকুর তথা প্রাণী কল্যাণে কাজ করছি।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে জানান, ঢাকা শহরে ৬০ হাজারের মতো বেওয়ারিশ কুকুর থাকতে পারে।

তহবিলের অভাবে কয়েক বছর ধরে বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনই নগরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাচ্ছি বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উৎপাদন বেড়েছে।

সাধারণ মানুষ কুকুরের ভয়ে রয়েছে। অভিযোগের কারণে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০-৬০টি কুকুরকে অচেতন করে মাতুইয়াল নিয়ে ফেলে আসা হয়েছে। ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে কুকুরগুলোকে ধরা হচ্ছে। এটা প্রাথমিকভাবে আমরা করছি।

কুকুর নিধন-অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ

কুকুরের প্রতি সহিংসতা নয়

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীববৈচিত্র্য অপরিহার্য
 শিপন হাবীব 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুকুরের প্রতি সহিংতা নয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কুকুরসহ অনেক প্রাণীর অবদান রয়েছে। এছাড়া জনগণের জানমাল রক্ষায়ও কুকুর প্রহরীর ভূমিকা পালন করে। তাই বেওয়ারিশ ও অবাঞ্ছিত প্রাণী উল্লেখ করে কুকুর নিধন-অপসারণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

বিশ্বস্ত এ প্রাণীটির ওপর প্রতিনিয়তই অত্যাচার চলছে। বয়স্ক কিংবা নবজাতক কুকুরকে কেউ ফুটন্ত পানি, কেউ গরম লোহা ছুড়ে দেন। কেউ আবার পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। কেউ মাথা ফাটিয়ে পাঁজর, চার পায়ের হাড়গোড় ভেঙে দেয়। কেউ মবিল, কেউ গরম তেল শরীরে লেপে দেয়।

কেউ দা-কোদাল দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। কেউ বা আবার অসহায় এ প্রাণীগুলোর লেজে পটকা বেঁধে উল্লাসে মেতে উঠেন। কেউ আবার লেজে পলিথিন-কাপড় প্যাঁচিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাজধানী থেকে গ্রাম- এমন ঘটনা নিত্যদিনের। এমন বর্বরতায় মুখ খোলেন না কেউ। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় না অপরাধীদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি রাজধানীর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন-অপসারণে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কুকুর রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় ফেলে দেয়া হয়েছে।

যারা কুকুর নিধন-অপসারণের পেছনে নিজেদের নিরাপত্তার অজুহাত খোঁজেন, তাদের অনেকেরই সাফ বক্তব্য, সিটি কর্পোরেশনে কুকুর থাকতে পারবে না।

কুকুরের ভয়ে থাকতে হয়। পরিবেশবিদ তথা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ অনুযায়ী কুকুর নিধন-অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

যথাযথ উপায়ে রাস্তার কুকুরকে টিকা ও বন্ধাত্বকরণ নিশ্চিত করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন থেকে কুকুর নিধন কিংবা অপসারণের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক প্রফেসর ডা. বেনজির আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে জানান, দেশের প্রায় ১৭ লাখের মতো কুকুর রয়েছে।

যার মধ্যে বর্তমানে রাজধানীর দুই সিটিতে ৫৫ হাজারের মতো কুকুর রয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ডা. বেনজির বলেন, কুকুর মানুষের বিশ্বস্ত প্রাণী। কুকুরকে সম্পদে পরিণত করতে হবে। জলাতঙ্ক রোধে টিকা নিশ্চিতকরণসহ সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্টদের সঠিক দায়িত্ব।

কুকুরকে ঘৃণা নয়, ভালোবাসতে হবে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জলাতঙ্ক তথা কুকুর উন্নয়নে ৩৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অর্থের যথাযথ ব্যবহার হলে কুকুরের সংখ্যা ও জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। 

প্রাণী কল্যাণ সংগঠন অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এমন উদ্যোগ মেনে নেয়া হবে না। প্রাণীপ্রেমী সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।

ঢাকায় ৭৫ শতাংশ কুকুর সরকারের বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচির আওতায় আছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে; কিন্তু দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন করছে না।

বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, কুকুরের মতো নিরীহ প্রাণীর ওপর ক্ষমতা প্রদর্শন মেনে নেয়া যায় না। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টদের এমন সিদ্ধান্ত শুধু অমানবিক ও অবৈজ্ঞানিক নয়, এটি বেআইনিও।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হক যুগান্তরকে জানান, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২০ হাজারের উপরে কুকুর রয়েছে। আমরা এসব কুকুরকে রাজধানীতে রেখেই যথাযথ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিচ্ছি।

মেয়র কুকুরকে খাবার দিচ্ছেন। নগরবাসীর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি সামনে রেখে সব কুকুরকে টিকার আওতায় আনা হবে। এদের বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করা হবে। এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শুরু করব। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি পরিবেশবিদ ড. আব্দুল মতিন জানান, রাজধানী থেকে কুকুরকে সরিয়ে নেয়া কিংবা কুকুরবিহীন রাজধানীর কথা চিন্তা করাটাই ভয়ানক ব্যাপার।

আমি তো মনে করি, কুকুর বন্ধ্যত্বকরণে টিকা নয়। স্বাভাবিকভাবে তাদের বাঁচতে দেয়া উচিত। কারণ পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণ করছে কুকুর।

পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের (প ফাউন্ডেশন) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রাকিবুল হক এমিল জানান, কুকুর নিধন, অপসারণ নিয়ে কোনো কথাই হতে পারে না।

উদ্যোগ নিতে হবে এ নগরে থাকা কুকুরগুলো যেন সুস্থ ও ভালো থাকে। তাদের খাবার ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষ দ্বারা যাতে কোনো কুকুরের ক্ষতি না হয়।

বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তা সঠিক ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

‘একবেলা খাবার বোবা প্রাণীর জন্য’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অর্পিতা খান মোহুয়া জানান, করোনার এ সময়ে প্রায় ১৫শ’ কুকুরকে খাওয়ানো হয়েছে। একটি কুকুরও আমাদের সেচ্চাসেবীদের কামড়ায়নি।

বরং দেখেছি, কুকুরগুলো মানুষের আদর পেয়ে কী শান্ত-বিনীয়ভাবে ঘুমিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এদের যথাযথভাবে সুরক্ষা দেয়াসহ টিকা-বন্ধ্যত্বকরণ নিশ্চিত করা হবে।

কুকুরের জন্য হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে কুকুর তথা প্রাণী কল্যাণে কাজ করছি।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে জানান, ঢাকা শহরে ৬০ হাজারের মতো বেওয়ারিশ কুকুর থাকতে পারে।

তহবিলের অভাবে কয়েক বছর ধরে বন্ধ্যত্বকরণ কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনই নগরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাচ্ছি বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উৎপাদন বেড়েছে।

সাধারণ মানুষ কুকুরের ভয়ে রয়েছে। অভিযোগের কারণে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০-৬০টি কুকুরকে অচেতন করে মাতুইয়াল নিয়ে ফেলে আসা হয়েছে। ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে কুকুরগুলোকে ধরা হচ্ছে। এটা প্রাথমিকভাবে আমরা করছি।