ঝিমিয়ে পড়েছে ইবি ছাত্রলীগ
jugantor
ঝিমিয়ে পড়েছে ইবি ছাত্রলীগ
ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত সভাপতি-সম্পাদক * দুই সদস্যের কমিটি নিয়ে মেয়াদ পার

  এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়েছে। দুই সদস্যের কমিটি নিয়ে মেয়াদ পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। মেয়াদের এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। উল্টো নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন এ দুই নেতা। এক বছর ধরে তারা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত। বিদ্রোহীদের প্রতিরোধের মুখে মেয়াদকালে একদিনও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনো আধিপত্য নেই। নেই কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম। কেন্দ্রের কোনো নজরদারি না থাকায় শিবির অধ্যুষিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে ছাত্রলীগ।

গত বছরের ১৪ জুলাই কোনো কারণ ছাড়াই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কোনো সম্মেলন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত দুই নেতা এসএম রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। ওই কমিটির সভাপতি পলাশ কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের এলাকা কুড়িগ্রামের ছেলে ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব ছিলেন ক্যাম্পাসে নানা কারণে বিতর্কিত ছাত্র। ওই কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ১৫ দিনের মাথায় ১ আগস্ট নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। কেলেঙ্কারি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে দুই নেতার বিরুদ্ধে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর নেতা হতে ৪০ লাখ টাকা লেনদেনের অডিও ফাঁস হলে পলাশ ও রাকিবকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে পলাশ ও রাকিব কয়েক দফা ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলেও কর্মীদের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যান। সর্বশেষ এ বছরের ২১ জানুয়ারি পলাশ ও রাকিব বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাস তাদের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করতে তৎকালীন ভিসি ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী ও সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত দু’জনকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করে নিয়ে আসেন। ছাত্রলীগ নেতা তৌকির মাহফুজ মাসুদ বলেন, মেগা প্রকল্পের ৫৩৭ কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত দু’জনকে নেতা বানিয়েছেন সাবেক ভিসি ও প্রক্টর। কমিটিতে ছাত্রলীগের নেতাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি সাবেক ভিসি ও প্রক্টর সব সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছেন। বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তাই আমরা কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। তবে করোনার সময়ে নিজ নিজ এলাকায় আমরা সেবামূলক কার্যক্রম করেছি। বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই কেন্দ্রে কমিটি জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।

ঝিমিয়ে পড়েছে ইবি ছাত্রলীগ

ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত সভাপতি-সম্পাদক * দুই সদস্যের কমিটি নিয়ে মেয়াদ পার
 এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড ঝিমিয়ে পড়েছে। দুই সদস্যের কমিটি নিয়ে মেয়াদ পার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। মেয়াদের এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। উল্টো নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন এ দুই নেতা। এক বছর ধরে তারা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত। বিদ্রোহীদের প্রতিরোধের মুখে মেয়াদকালে একদিনও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনো আধিপত্য নেই। নেই কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম। কেন্দ্রের কোনো নজরদারি না থাকায় শিবির অধ্যুষিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে ছাত্রলীগ।

গত বছরের ১৪ জুলাই কোনো কারণ ছাড়াই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কোনো সম্মেলন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত দুই নেতা এসএম রবিউল ইসলাম পলাশকে সভাপতি ও রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। ওই কমিটির সভাপতি পলাশ কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের এলাকা কুড়িগ্রামের ছেলে ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব ছিলেন ক্যাম্পাসে নানা কারণে বিতর্কিত ছাত্র। ওই কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ১৫ দিনের মাথায় ১ আগস্ট নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাকিবকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। কেলেঙ্কারি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে দুই নেতার বিরুদ্ধে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর নেতা হতে ৪০ লাখ টাকা লেনদেনের অডিও ফাঁস হলে পলাশ ও রাকিবকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে পলাশ ও রাকিব কয়েক দফা ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলেও কর্মীদের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যান। সর্বশেষ এ বছরের ২১ জানুয়ারি পলাশ ও রাকিব বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাস তাদের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করতে তৎকালীন ভিসি ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী ও সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত দু’জনকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করে নিয়ে আসেন। ছাত্রলীগ নেতা তৌকির মাহফুজ মাসুদ বলেন, মেগা প্রকল্পের ৫৩৭ কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত দু’জনকে নেতা বানিয়েছেন সাবেক ভিসি ও প্রক্টর। কমিটিতে ছাত্রলীগের নেতাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। এমনকি সাবেক ভিসি ও প্রক্টর সব সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছেন। বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তাই আমরা কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। তবে করোনার সময়ে নিজ নিজ এলাকায় আমরা সেবামূলক কার্যক্রম করেছি। বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই কেন্দ্রে কমিটি জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।