তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে মরিয়া শিক্ষা কর্মকর্তা
jugantor
দশমিনায় ঘুষ কেলেঙ্কারি
তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে মরিয়া শিক্ষা কর্মকর্তা

  পটুয়াখালী (দক্ষিণ) প্রতিনিধি  

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর দশমিনায় ৫৩ শিক্ষকের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন।

সাক্ষ্য দিতে আসা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং তদন্তস্থলে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মহড়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত বানচাল করতে বহিরাগতদের দিয়ে আবেদনকারী ও গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে অভিযুক্ত। ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্তে শনিবার শিক্ষা অধিদফতরের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম উপজেলায় এলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়। এদিকে স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সই জাল করে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে ডিও লেটার দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে ওই জাহিদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি বছরের ১০ জুন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু জাহিদ হোসেনকে জড়িয়ে দুই কোটি টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির একটি প্রতিবেদন যুগান্তরে প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) আবদুল আলিম দশমিনা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদকে স্ট্যান্ড রিলিস করে মির্জাগঞ্জে পদায়ন করেন। একই সাথে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় শিক্ষা অধিদফতর (প্রশাসন-১) এর উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তার জোর তদবির বদল হয় তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের সহকারী পরিচালক আরিফ বিল্লাহকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে তাকে নিয়েও সৃষ্টি হয় বিতর্ক।

পরে উচ্চপর্যায়ের এক আদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) যুগ্ম সচিব ড. উত্তম দাশকে প্রধান করে পুনরায় আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, স্টোর অফিসার গিয়াস উদ্দিন। ঢাকা থেকে শনিবার উপজেলায় এসে দু’দিন তদন্তকাজ চালায় কমিটি।

তদন্ত কর্মকর্তা ড. উত্তম দাশ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে জানান, সুষ্ঠুভাবেই তদন্ত কার্য সম্পন্ন হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তকালে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে তা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী রুবায়েত ফেরদৌস মাসুম বলেন, তদন্ত দলের নোটিশ পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে সাক্ষ্য দিতে শনিবার সকালে উপজেলা চত্বরে পৌঁছান। এ সময় শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদের উপস্থিতিতে তার অনুসারী শিক্ষক আবদুর রহমান, মোহম্মদ সুমন ও রাসেলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন মাসুমকে লাঞ্ছিত করেন।

একই অভিযোগ করে শিক্ষিকা ফজিলাতুনেচ্ছাসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তদন্তকারীদের কাছে সাক্ষ্য দিতে পৌঁছালে জাহিদের লোকজন নানাভাবে ভীতি প্রদর্শন করে। হুমকির ঘটনা তারা তদন্ত দলকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন জানান, তদন্ত কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাকর ছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ বলেন, আমি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নই, তদন্তের সাক্ষ্য দিয়ে বাড়ি চলে আসছি।

দশমিনায় ঘুষ কেলেঙ্কারি

তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে মরিয়া শিক্ষা কর্মকর্তা

 পটুয়াখালী (দক্ষিণ) প্রতিনিধি 
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর দশমিনায় ৫৩ শিক্ষকের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরিয়া অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন।

সাক্ষ্য দিতে আসা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং তদন্তস্থলে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মহড়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্ত বানচাল করতে বহিরাগতদের দিয়ে আবেদনকারী ও গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে অভিযুক্ত। ঘুষ কেলেঙ্কারি তদন্তে শনিবার শিক্ষা অধিদফতরের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম উপজেলায় এলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়। এদিকে স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের সই জাল করে সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে ডিও লেটার দাখিল করার অভিযোগ উঠেছে ওই জাহিদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি বছরের ১০ জুন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু জাহিদ হোসেনকে জড়িয়ে দুই কোটি টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির একটি প্রতিবেদন যুগান্তরে প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) আবদুল আলিম দশমিনা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদকে স্ট্যান্ড রিলিস করে মির্জাগঞ্জে পদায়ন করেন। একই সাথে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় শিক্ষা অধিদফতর (প্রশাসন-১) এর উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তার জোর তদবির বদল হয় তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের সহকারী পরিচালক আরিফ বিল্লাহকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে তাকে নিয়েও সৃষ্টি হয় বিতর্ক।

পরে উচ্চপর্যায়ের এক আদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) যুগ্ম সচিব ড. উত্তম দাশকে প্রধান করে পুনরায় আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, স্টোর অফিসার গিয়াস উদ্দিন। ঢাকা থেকে শনিবার উপজেলায় এসে দু’দিন তদন্তকাজ চালায় কমিটি।

তদন্ত কর্মকর্তা ড. উত্তম দাশ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে জানান, সুষ্ঠুভাবেই তদন্ত কার্য সম্পন্ন হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তকালে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে তা তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী রুবায়েত ফেরদৌস মাসুম বলেন, তদন্ত দলের নোটিশ পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে সাক্ষ্য দিতে শনিবার সকালে উপজেলা চত্বরে পৌঁছান। এ সময় শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদের উপস্থিতিতে তার অনুসারী শিক্ষক আবদুর রহমান, মোহম্মদ সুমন ও রাসেলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন মাসুমকে লাঞ্ছিত করেন।

একই অভিযোগ করে শিক্ষিকা ফজিলাতুনেচ্ছাসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তদন্তকারীদের কাছে সাক্ষ্য দিতে পৌঁছালে জাহিদের লোকজন নানাভাবে ভীতি প্রদর্শন করে। হুমকির ঘটনা তারা তদন্ত দলকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

এ প্রসঙ্গে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন জানান, তদন্ত কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাকর ছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদ বলেন, আমি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নই, তদন্তের সাক্ষ্য দিয়ে বাড়ি চলে আসছি।