দায় রেলের, পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীর
jugantor
সময় মেনে চলে না ট্রেন
দায় রেলের, পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীর

  শিপন হাবীব  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলবে, যাত্রীরা যথাসময়ে স্টেশনে আসবেন, যথাসময়ে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে-এমনটিই হওয়ার কথা ছিল। উন্নত দেশ তো বটেই; অনুন্নত দেশগুলোয়ও রেলসেবার চিত্র এরকমই। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে? আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা তো পান্তাভাত, কখনও কখনও কোনো ট্রেন দেরিতে চলে ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঈদের সময় তা ১৫-২০ ঘণ্টায়ও ঠেকে। যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন, স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকেন, ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে নানা ক্ষতির মুখে পড়েন।

এ ভোগান্তি থেকে সামান্য রেহাই দিতে ‘ট্রেন ট্র্যাকিং ও মনিটরিং সিস্টেম (টিটিএমএস)’ চালু করেছে রেল। এ জন্য সাধুবাদও পেয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু এ সেবা নিতে চাইলে কোনো যাত্রীকে সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা ১০ পয়সা, সর্বোচ্চ একশ’ টাকা পর্যন্তও ব্যয় করতে হয়। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্বের দায় রেলওয়ের। যাত্রীকে সে তথ্য জানানোর দায়িত্বও তাদের। কিন্তু পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীর!

সূত্রমতে, যাত্রীবাহী, মালবাহী বা লাগেজ ভ্যান ট্রেনের ৯৭ শতাংশই কমবেশি দেরিতে চলাচল করে। বিগত ১০ বছরে রেলে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বা উন্নয়ন হলেও গতি বাড়েনি ট্রেনের, বরং কমেছে। সেবার মান কাক্সিক্ষত বাড়েনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমেছে। ট্রেনের অবস্থান জানার জন্য ২০১৪ সালের ১২ মে টিটিএমএস চালু করা হয়। যেহেতু যাতায়াতে যাত্রীদের গরজটাই বেশি, ট্রেনের অবস্থান জানতে ‘১৬৩১৮’ নম্বরে এসএমএস করেন তারা। ফিরতি এসএমএসে জানিয়ে দেয়া হয় ট্রেনের অবস্থান। প্রতিবার এসএমএস করার জন্য যাত্রীকে গুনতে হয় ৫ টাকা ১০ পয়সা। কোনো যাত্রী বা স্বজনেরা মিলে একেক যাত্রায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্তও এসএমএস করে থাকেন।

ট্রেনে ঢাকা থেকে প্রায়ই খুলনায় যান ব্যবসায়ী সৈয়দ জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নানা বিড়ম্বনার মধ্যে টিকিট কেটেও যথাসময়ে কোনোদিনই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। আবার বাসা থেকে রওনা দেয়া, স্টেশনে পৌঁছা বা পৌঁছেও ট্রেনের অবস্থান জানতে কয়েকবার এসএমএস করি। এতে অন্তত ২৫-৩০ টাকা খরচ হয়।’ কয়েকজন যাত্রী জানান, গুটিকয়েক স্টেশনে নামমাত্র ডিজিটাল ডিসপ্লে থাকলেও ট্রেনের অবস্থান ও দেরির সময় তাতে দেখানো হয় না। স্টেশনে মাইকেও তা ঘোষণা দেয়া হয় না। ফলে শত শত যাত্রী স্টেশনে অপেক্ষা করেও ট্রেনের সঠিক অবস্থান জানতে পারেন না। বাধ্য হয়েই এসএমএস করতে হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের ডিএসটিই (টেলিকম সদর) কর্মকর্তা আহমেদ ইশতিয়াক জহুর যুগান্তরকে বলেন, ট্রেনের অবস্থান জানার নিজস্ব টিটিএমএস বা টিকিট ক্রয়-বিক্রয়ের অ্যাপ নেই। সবই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি অনুযায়ী রেলকে বছরভিত্তিক টাকা দিচ্ছে। তিনি জানান, ‘রেল সেবা’ অ্যাপসহ টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত আইটি-সার্ভার-সবই চালায় সিএনএস লিমিটেড। টিটিএমএস সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করছে সানক্রপ্স লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চারটি ফোন কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে। তাদের এ সিস্টেমটি অ্যাপে উন্নয়ন করে কয়েক মাসের মধ্যে সেবা দেয়া হবে। নতুন অ্যাপটি চালু হলে যাত্রীদের খরচ একটু কমবে। এ বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান জানান, প্রতিটি যাত্রী ট্রেনে নির্ধারিত সময়ে ভ্রমণ করবে-এটাই রেলওয়ের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এখনও আমরা সময়সূচি মেনে শতভাগ ট্রেন চালাতে পারছি না। ট্রেনের অবস্থান ও সময় রেলেরই জানানোর কথা। যাত্রীরা টাকা খরচ করে জানবে তা নয়। তবে যাত্রী সুবিধার জন্যই এ সিস্টেমটি চালু করা হয়েছে, বিনা মূল্যে হলে তারা বিষয়টি সহজভাবে নিতেন। আমরা চেষ্টা করছি সিস্টেম ও অ্যাপ অত্যাধুনিক করে আরও স্বল্প খরচে সেবা দিতে। তিনি বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার চার্জ নির্ধারিত, এটা কমাতে হলে সরকারের নির্দেশনা লাগবে। মহাপরিচালক বলেন, রেলে আরও প্রায় ৪৭ হাজারের বেশি লোকবল নিয়োগ হচ্ছে। তখন শক্তিশালী একটি আইটি সেল হবে রেলে। তখন হয়তো সব সেবাই রেল কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে।

সময় মেনে চলে না ট্রেন

দায় রেলের, পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীর

 শিপন হাবীব 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলবে, যাত্রীরা যথাসময়ে স্টেশনে আসবেন, যথাসময়ে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে-এমনটিই হওয়ার কথা ছিল। উন্নত দেশ তো বটেই; অনুন্নত দেশগুলোয়ও রেলসেবার চিত্র এরকমই। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ে? আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা তো পান্তাভাত, কখনও কখনও কোনো ট্রেন দেরিতে চলে ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঈদের সময় তা ১৫-২০ ঘণ্টায়ও ঠেকে। যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন, স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকেন, ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে নানা ক্ষতির মুখে পড়েন।

এ ভোগান্তি থেকে সামান্য রেহাই দিতে ‘ট্রেন ট্র্যাকিং ও মনিটরিং সিস্টেম (টিটিএমএস)’ চালু করেছে রেল। এ জন্য সাধুবাদও পেয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু এ সেবা নিতে চাইলে কোনো যাত্রীকে সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা ১০ পয়সা, সর্বোচ্চ একশ’ টাকা পর্যন্তও ব্যয় করতে হয়। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় বা বিলম্বের দায় রেলওয়ের। যাত্রীকে সে তথ্য জানানোর দায়িত্বও তাদের। কিন্তু পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীর!

সূত্রমতে, যাত্রীবাহী, মালবাহী বা লাগেজ ভ্যান ট্রেনের ৯৭ শতাংশই কমবেশি দেরিতে চলাচল করে। বিগত ১০ বছরে রেলে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বা উন্নয়ন হলেও গতি বাড়েনি ট্রেনের, বরং কমেছে। সেবার মান কাক্সিক্ষত বাড়েনি; বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমেছে। ট্রেনের অবস্থান জানার জন্য ২০১৪ সালের ১২ মে টিটিএমএস চালু করা হয়। যেহেতু যাতায়াতে যাত্রীদের গরজটাই বেশি, ট্রেনের অবস্থান জানতে ‘১৬৩১৮’ নম্বরে এসএমএস করেন তারা। ফিরতি এসএমএসে জানিয়ে দেয়া হয় ট্রেনের অবস্থান। প্রতিবার এসএমএস করার জন্য যাত্রীকে গুনতে হয় ৫ টাকা ১০ পয়সা। কোনো যাত্রী বা স্বজনেরা মিলে একেক যাত্রায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্তও এসএমএস করে থাকেন।

ট্রেনে ঢাকা থেকে প্রায়ই খুলনায় যান ব্যবসায়ী সৈয়দ জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নানা বিড়ম্বনার মধ্যে টিকিট কেটেও যথাসময়ে কোনোদিনই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি। আবার বাসা থেকে রওনা দেয়া, স্টেশনে পৌঁছা বা পৌঁছেও ট্রেনের অবস্থান জানতে কয়েকবার এসএমএস করি। এতে অন্তত ২৫-৩০ টাকা খরচ হয়।’ কয়েকজন যাত্রী জানান, গুটিকয়েক স্টেশনে নামমাত্র ডিজিটাল ডিসপ্লে থাকলেও ট্রেনের অবস্থান ও দেরির সময় তাতে দেখানো হয় না। স্টেশনে মাইকেও তা ঘোষণা দেয়া হয় না। ফলে শত শত যাত্রী স্টেশনে অপেক্ষা করেও ট্রেনের সঠিক অবস্থান জানতে পারেন না। বাধ্য হয়েই এসএমএস করতে হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের ডিএসটিই (টেলিকম সদর) কর্মকর্তা আহমেদ ইশতিয়াক জহুর যুগান্তরকে বলেন, ট্রেনের অবস্থান জানার নিজস্ব টিটিএমএস বা টিকিট ক্রয়-বিক্রয়ের অ্যাপ নেই। সবই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তি অনুযায়ী রেলকে বছরভিত্তিক টাকা দিচ্ছে। তিনি জানান, ‘রেল সেবা’ অ্যাপসহ টিকিট বিক্রয় সংক্রান্ত আইটি-সার্ভার-সবই চালায় সিএনএস লিমিটেড। টিটিএমএস সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করছে সানক্রপ্স লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চারটি ফোন কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা করছে। তাদের এ সিস্টেমটি অ্যাপে উন্নয়ন করে কয়েক মাসের মধ্যে সেবা দেয়া হবে। নতুন অ্যাপটি চালু হলে যাত্রীদের খরচ একটু কমবে। এ বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান জানান, প্রতিটি যাত্রী ট্রেনে নির্ধারিত সময়ে ভ্রমণ করবে-এটাই রেলওয়ের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এখনও আমরা সময়সূচি মেনে শতভাগ ট্রেন চালাতে পারছি না। ট্রেনের অবস্থান ও সময় রেলেরই জানানোর কথা। যাত্রীরা টাকা খরচ করে জানবে তা নয়। তবে যাত্রী সুবিধার জন্যই এ সিস্টেমটি চালু করা হয়েছে, বিনা মূল্যে হলে তারা বিষয়টি সহজভাবে নিতেন। আমরা চেষ্টা করছি সিস্টেম ও অ্যাপ অত্যাধুনিক করে আরও স্বল্প খরচে সেবা দিতে। তিনি বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার চার্জ নির্ধারিত, এটা কমাতে হলে সরকারের নির্দেশনা লাগবে। মহাপরিচালক বলেন, রেলে আরও প্রায় ৪৭ হাজারের বেশি লোকবল নিয়োগ হচ্ছে। তখন শক্তিশালী একটি আইটি সেল হবে রেলে। তখন হয়তো সব সেবাই রেল কর্তৃপক্ষ দিতে পারবে।