বেহাত জমি উদ্ধারে অভিযান অক্টোবরে তৈরি হচ্ছে তালিকা
jugantor
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
বেহাত জমি উদ্ধারে অভিযান অক্টোবরে তৈরি হচ্ছে তালিকা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেহাত হওয়া বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধারে অভিযানে নামছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। চসিকের ৪১ ওয়ার্ডে ২৪৪ দশমিক ৮৬৫৩ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু জমি বেদখল হয়ে আছে। চসিকের নতুন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। চসিকের প্রশাসক সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে অভিযান শুরু হবে। তবে কী পরিমাণ জমি বেহাত হয়ে আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সিটি কর্পোরেশনের কাছে নেই। সূত্র জানিয়েছে, বেহাত হওয়া জমি বা সম্পদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চসিক সূত্র জানায়, অবৈধ দখলে থাকা চসিকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দখল ছেড়ে দিতে অবৈধ দখলদারদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দখল ছেড়ে না দিলে চসিকের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানের খরচও দখলদারের কাছ থেকে আদায় করার হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

চসিকের প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন যেসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলে রয়েছে তাদেরকে এই নোটিশ প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল। অন্যথায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক উচ্ছেদের মাধ্যমে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং অবৈধ দখলদার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।’

নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে সংস্থাটির ২৪৪ দশমিক ৮৬৫৩ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটিকে তাদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়। সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে একবার অবৈধভাবে দখল হওয়া সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয়। ওইসময় চসিকের প্রণীত তালিকা অনুযায়ী সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২৩৪ দশমিক ০৮০০ একর। এরপর সম্পত্তির বিষয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক আরেকটি তালিকা করা হয় ২০১৮ সালে। এতে ৪১ ওয়ার্ডে ২৪৪ দশমিক ৮৬৫৩ একর সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ করে এস্টেট শাখা। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে সরকারি-বেসরকারি ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে সাতদিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

অভিযোগ আছে, তদারকির অভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চসিকের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে আছে। অবশ্য বেহাত হতে যাওয়া জায়গাগুলো উদ্ধারে চসিকের ভূসম্পত্তি বিভাগ মাঝেমধ্যে তৎপর হয়। বেদখলে থাকা জায়গা উদ্ধারে অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু ধারাবাহিকতা না থাকায় কার্যকর ফল আসে না। ফলে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নানাভাবে বেদখল হতে থাকে চসিকের সম্পত্তি।

চসিকের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, বেহাত হয়ে যাওয়া কর্পোরেশনের সব জমি আমরা উদ্ধার করব। কোনো জমিই বেদখল থাকতে দেব না। প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা বেহাত হওয়া জমির ব্যাপারে তথ্য চাচ্ছি। এখন বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে তথ্য নেয়া হচ্ছে। এরপর এসব যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে শুরু হবে বেহাত হওয়া জমির উচ্ছেদ অভিযান। আশা করি, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জমি উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারব। দখলদার যত শক্তিশালী হোক না কেন, কর্পোরেশনের জমি কর্পোরেশনে ফিরিয়ে আনা হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

বেহাত জমি উদ্ধারে অভিযান অক্টোবরে তৈরি হচ্ছে তালিকা

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বেহাত হওয়া বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধারে অভিযানে নামছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। চসিকের ৪১ ওয়ার্ডে ২৪৪ দশমিক ৮৬৫৩ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু জমি বেদখল হয়ে আছে। চসিকের নতুন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছেন। চসিকের প্রশাসক সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে অভিযান শুরু হবে। তবে কী পরিমাণ জমি বেহাত হয়ে আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সিটি কর্পোরেশনের কাছে নেই। সূত্র জানিয়েছে, বেহাত হওয়া জমি বা সম্পদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চসিক সূত্র জানায়, অবৈধ দখলে থাকা চসিকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দখল ছেড়ে দিতে অবৈধ দখলদারদের ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দখল ছেড়ে না দিলে চসিকের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানের খরচও দখলদারের কাছ থেকে আদায় করার হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

চসিকের প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন যেসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলে রয়েছে তাদেরকে এই নোটিশ প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হল। অন্যথায় সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক উচ্ছেদের মাধ্যমে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে এবং অবৈধ দখলদার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।’

নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে সংস্থাটির ২৪৪ দশমিক ৮৬৫৩ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটিকে তাদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়। সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে একবার অবৈধভাবে দখল হওয়া সম্পদ উদ্ধারে উদ্যোগ নেয়া হয়। ওইসময় চসিকের প্রণীত তালিকা অনুযায়ী সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২৩৪ দশমিক ০৮০০ একর। এরপর সম্পত্তির বিষয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক আরেকটি তালিকা করা হয় ২০১৮ সালে। এতে ৪১ ওয়ার্ডে ২৪৪ দশমিক ৮৬৫৩ একর সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ করে এস্টেট শাখা। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে সরকারি-বেসরকারি ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে সাতদিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

অভিযোগ আছে, তদারকির অভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চসিকের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে আছে। অবশ্য বেহাত হতে যাওয়া জায়গাগুলো উদ্ধারে চসিকের ভূসম্পত্তি বিভাগ মাঝেমধ্যে তৎপর হয়। বেদখলে থাকা জায়গা উদ্ধারে অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু ধারাবাহিকতা না থাকায় কার্যকর ফল আসে না। ফলে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নানাভাবে বেদখল হতে থাকে চসিকের সম্পত্তি।

চসিকের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, বেহাত হয়ে যাওয়া কর্পোরেশনের সব জমি আমরা উদ্ধার করব। কোনো জমিই বেদখল থাকতে দেব না। প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা বেহাত হওয়া জমির ব্যাপারে তথ্য চাচ্ছি। এখন বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে তথ্য নেয়া হচ্ছে। এরপর এসব যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে শুরু হবে বেহাত হওয়া জমির উচ্ছেদ অভিযান। আশা করি, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জমি উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারব। দখলদার যত শক্তিশালী হোক না কেন, কর্পোরেশনের জমি কর্পোরেশনে ফিরিয়ে আনা হবে।