সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নেই নামেই উন্নয়ন কমিটি
jugantor
শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি
সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নেই নামেই উন্নয়ন কমিটি

  বরিশাল ব্যুরো  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শত অভিযোগ থাকলেও বরিশালবাসীসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসার কেন্দ্রবিন্দু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। অন্যদিকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য সেরা বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। সার্বিক চিকিৎসা সেবায় কার্যকরী ভূমিকা রাখছে নগরীর সবচেয়ে পুরনো এ হাসপাতালটি। যে কোনো প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অগ্রভাগে ভূমিকা রাখে সুষ্ঠু ও কার্যকরী ব্যবস্থাপনা। কিন্তু বিস্ময়ের খবর হচ্ছে বিগত এক বছরেও এ দুটি প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়নি ব্যবস্থাপনা কমিটি অর্থাৎ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা। আর বিগত সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বলতে গেলে তার একটিও বাস্তবায়ন করেনি সংশ্লিষ্ট কমিটি বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তথ্যমতে, সর্ব শেষ ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর সদর বা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা কমিটির সভা কবে হয়েছিল সে তথ্য সঠিক কারও কাছে নেই। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসেই এ সভা হওয়ার কথা। নগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর চিকিৎসা সেবার এ দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা সভার এমন চিত্রে সহজেই অনুমেয় কতটা ব্যবস্থাপনাহীনতায় চলছে সার্বিক কার্যক্রম। যদিও করোনার প্রকোপে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যাপ্ত বাস্তবিকভাবে সভা অনুষ্ঠানের কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু গত মাস থেকে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় এখন এ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে খুব দ্রুত এ সভা হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। সম্প্রতি এ সভা করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সকল হাসপাতাল পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়কদের চিঠি দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সভা অনুষ্ঠান ও সভার সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয় ওই চিঠিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন কমিটির সভাপতি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদার) আলহাজ আবুল হাসানাত এমপি। উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমসহ জেলার ৬ আসনের সংসদ সদস্যরা। সভায় অনেক সিদ্ধান্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল এক মাসের মধ্যে ১৫১ অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৪০ আনসার সদস্য নিয়োগ প্রদান করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতাল চত্বরেই বর্জ্য ধ্বংস করার মেশিন স্থাপনসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতাল প্রশাসনকে নির্দেশ দেন সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, গত এক বছরে এ সব সিদ্ধান্তের একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেবাচিম হাসপাতাল প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠুভাবে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। আর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার কোনো বিকল্প নেই।

তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল পরিচালক সভার আহ্বান করে থাকেন। পরিচালকের গাফিলতি থাকলেই সভা অনিয়মিত হয়ে যায়। অপর এক কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে খুব বেশি একটা প্রয়োজন না হলে কোনো হাসপাতালের পরিচালকই চান না ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হোক। কারণ এক একটি সভা মানেই বেশ কিছু সিদ্ধান্তের সমষ্টি, যা বাস্তবায়ন করতে হয় পরিচালককেই। হাসপাতালের রুটিনওয়ার্কের ব্যস্ততার পর পরিচালকরা চান না বাড়তি কোনো ঝামেলা। এছাড়াও নানা ধরনের চাপ আসে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা থেকে। তাই সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের একটা গাফিলতি সাধারণত থেকেই থাকে। আর কমিটির সভাপতিরা ভিআইপি ও ব্যস্ত মানুষ হওয়ায় তারা তো এ বিষয়টি মনেই রাখেন না। সভা অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, করোনার মধ্যে স্বাভাবিক কারণেই সভা করা সম্ভবপর ছিল না। আর বর্তমান সময়ে আমি খুব ব্যস্ত আছি। তাই এ মাসে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা সম্ভব নয়। সভাপতির সময় নিয়ে চেষ্টা করব আগামী মাসে সভা আহ্বানের।

শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি

সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নেই নামেই উন্নয়ন কমিটি

 বরিশাল ব্যুরো 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শত অভিযোগ থাকলেও বরিশালবাসীসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসার কেন্দ্রবিন্দু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। অন্যদিকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য সেরা বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল। সার্বিক চিকিৎসা সেবায় কার্যকরী ভূমিকা রাখছে নগরীর সবচেয়ে পুরনো এ হাসপাতালটি। যে কোনো প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অগ্রভাগে ভূমিকা রাখে সুষ্ঠু ও কার্যকরী ব্যবস্থাপনা। কিন্তু বিস্ময়ের খবর হচ্ছে বিগত এক বছরেও এ দুটি প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়নি ব্যবস্থাপনা কমিটি অর্থাৎ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা। আর বিগত সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বলতে গেলে তার একটিও বাস্তবায়ন করেনি সংশ্লিষ্ট কমিটি বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তথ্যমতে, সর্ব শেষ ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর সদর বা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা কমিটির সভা কবে হয়েছিল সে তথ্য সঠিক কারও কাছে নেই। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসেই এ সভা হওয়ার কথা। নগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর চিকিৎসা সেবার এ দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা সভার এমন চিত্রে সহজেই অনুমেয় কতটা ব্যবস্থাপনাহীনতায় চলছে সার্বিক কার্যক্রম। যদিও করোনার প্রকোপে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যাপ্ত বাস্তবিকভাবে সভা অনুষ্ঠানের কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু গত মাস থেকে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় এখন এ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে খুব দ্রুত এ সভা হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা। সম্প্রতি এ সভা করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সকল হাসপাতাল পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়কদের চিঠি দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সভা অনুষ্ঠান ও সভার সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয় ওই চিঠিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত শেবাচিম হাসপাতাল ব্যবস্থা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন কমিটির সভাপতি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদার) আলহাজ আবুল হাসানাত এমপি। উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমসহ জেলার ৬ আসনের সংসদ সদস্যরা। সভায় অনেক সিদ্ধান্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল এক মাসের মধ্যে ১৫১ অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৪০ আনসার সদস্য নিয়োগ প্রদান করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য হাসপাতাল চত্বরেই বর্জ্য ধ্বংস করার মেশিন স্থাপনসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য হাসপাতাল প্রশাসনকে নির্দেশ দেন সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, গত এক বছরে এ সব সিদ্ধান্তের একটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেবাচিম হাসপাতাল প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠুভাবে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। আর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার কোনো বিকল্প নেই।

তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল পরিচালক সভার আহ্বান করে থাকেন। পরিচালকের গাফিলতি থাকলেই সভা অনিয়মিত হয়ে যায়। অপর এক কর্মকর্তা বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে খুব বেশি একটা প্রয়োজন না হলে কোনো হাসপাতালের পরিচালকই চান না ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হোক। কারণ এক একটি সভা মানেই বেশ কিছু সিদ্ধান্তের সমষ্টি, যা বাস্তবায়ন করতে হয় পরিচালককেই। হাসপাতালের রুটিনওয়ার্কের ব্যস্ততার পর পরিচালকরা চান না বাড়তি কোনো ঝামেলা। এছাড়াও নানা ধরনের চাপ আসে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা থেকে। তাই সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের একটা গাফিলতি সাধারণত থেকেই থাকে। আর কমিটির সভাপতিরা ভিআইপি ও ব্যস্ত মানুষ হওয়ায় তারা তো এ বিষয়টি মনেই রাখেন না। সভা অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, করোনার মধ্যে স্বাভাবিক কারণেই সভা করা সম্ভবপর ছিল না। আর বর্তমান সময়ে আমি খুব ব্যস্ত আছি। তাই এ মাসে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা সম্ভব নয়। সভাপতির সময় নিয়ে চেষ্টা করব আগামী মাসে সভা আহ্বানের।