খুলনায় ফাঁকা পড়ে আছে করোনা বেড
jugantor
খুলনায় ফাঁকা পড়ে আছে করোনা বেড

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে নগরীর নূরনগরের খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালটিকে করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেডের সংখ্যা শতাধিক। খুলনা সদর হাসপাতালেও করোনা রোগীর বেড রয়েছে ৪২টি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়াও খুলনার চারটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা বেডের সংখ্যা আছে ১৮০টি। সব মিলিয়ে খুলনা জেলায় করোনা রোগীদের সেবা দিতে ৩২২টি বেড প্রস্তুত থাকলেও রোগী রয়েছে মাত্র ৩১ জন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে খুলনার সিভিল সার্জন অফিস।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার ফলেই খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনায় ২৬ হাজার করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ বা করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২৪৮ জন। এসব রোগীর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৬৬৩ জন রোগী। এখন পর্যন্ত খুলনায় করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৪০৮ জন এবং মারা গেছেন ৯৩ জন।

জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনার ছয়টি হাসপাতালে মাত্র ৩১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বেশির ভাগ রোগী এখন বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা ছয়টি হাসপাতালের অধিকাংশেই বেড ফাঁকা পড়ে আছে। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে একশ, খুলনা সদর হাসপাতালে ৪২টি, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ৫০টি, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, গাজী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ৫০টি এবং আদ্-দীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০টি করোনা বেড প্রস্তুত আছে। এসব হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে। এদিকে খুলনার ৯টি উপজেলাসহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা সদর হাসপাতালের বুথে রোগীদের করোনাভাইরাসের নমুনা নেয়া হচ্ছে। এমনকি কল সেন্টারের মাধ্যমে গুরুতর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রোগীর বাসা থেকেও নিয়ে আসা হচ্ছে নমুনা।

করোনার নমুনা দেয়ার সংখ্যা আগের তুলনায় নিম্নগামী। তবে বিদেশযাত্রীদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে তারা করোনা টেস্ট করাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিদেশযাত্রীদের কাছ থেকে আগে করোনা টেস্টের জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা নেয়া হলেও এটি কমিয়ে এখন দেড় হাজার টাকায় আনা হয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, খুলনায় ছয়টি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য যথেষ্ট বেড প্রস্তুত আছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইসিইউ ও অক্সিজেন সরবরাহেরও ব্যবস্থা আছে। তবে করোনা রোগীর সংখ্যা খুবই কম। জেলা শহরে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাত্র ৩১ জন রোগী। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া ফলেই খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

খুলনায় ফাঁকা পড়ে আছে করোনা বেড

 নূর ইসলাম রকি, খুলনা 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে নগরীর নূরনগরের খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতালটিকে করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বেডের সংখ্যা শতাধিক। খুলনা সদর হাসপাতালেও করোনা রোগীর বেড রয়েছে ৪২টি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়াও খুলনার চারটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা বেডের সংখ্যা আছে ১৮০টি। সব মিলিয়ে খুলনা জেলায় করোনা রোগীদের সেবা দিতে ৩২২টি বেড প্রস্তুত থাকলেও রোগী রয়েছে মাত্র ৩১ জন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে খুলনার সিভিল সার্জন অফিস।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার ফলেই খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনায় ২৬ হাজার করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ বা করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২৪৮ জন। এসব রোগীর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৬৬৩ জন রোগী। এখন পর্যন্ত খুলনায় করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৪০৮ জন এবং মারা গেছেন ৯৩ জন।

জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনার ছয়টি হাসপাতালে মাত্র ৩১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বেশির ভাগ রোগী এখন বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা ছয়টি হাসপাতালের অধিকাংশেই বেড ফাঁকা পড়ে আছে। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে একশ, খুলনা সদর হাসপাতালে ৪২টি, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ৫০টি, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, গাজী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ৫০টি এবং আদ্-দীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০টি করোনা বেড প্রস্তুত আছে। এসব হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে। এদিকে খুলনার ৯টি উপজেলাসহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা সদর হাসপাতালের বুথে রোগীদের করোনাভাইরাসের নমুনা নেয়া হচ্ছে। এমনকি কল সেন্টারের মাধ্যমে গুরুতর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রোগীর বাসা থেকেও নিয়ে আসা হচ্ছে নমুনা।

করোনার নমুনা দেয়ার সংখ্যা আগের তুলনায় নিম্নগামী। তবে বিদেশযাত্রীদের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে তারা করোনা টেস্ট করাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিদেশযাত্রীদের কাছ থেকে আগে করোনা টেস্টের জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা নেয়া হলেও এটি কমিয়ে এখন দেড় হাজার টাকায় আনা হয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, খুলনায় ছয়টি হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য যথেষ্ট বেড প্রস্তুত আছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইসিইউ ও অক্সিজেন সরবরাহেরও ব্যবস্থা আছে। তবে করোনা রোগীর সংখ্যা খুবই কম। জেলা শহরে লাখ লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মাত্র ৩১ জন রোগী। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া ফলেই খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।