স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে হাতি কিনে দিলেন কৃষক স্বামী
jugantor
স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে হাতি কিনে দিলেন কৃষক স্বামী

  মিজানুর রহমান দুলাল, লালমনিরহাট  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কথায় আছে, হাতি মরলেও লাখ টাকা। আর সেই মূল্যবান হাতি ক’জনই বা কিনতে পারেন? ছোট্ট নাতনির জন্য গরিব দামুর হাতি জোগাড়ের কাহিনী নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি হয়তো অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবেও ঘটেছে এমন ঘটনা। স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে জমি বিক্রি করে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় হাতি কিনে দিয়েছেন এক কৃষক। তার নাম দুলাল চন্দ্র। বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রথিধর দেউতি গ্রামে। স্ত্রী তুলসী রানীর প্রতি বিরল ভালোবাসা আর দেবতার দৈববাণীতে এমন ভক্তির ঘটনা এখন জেলার সবার মুখে।

ওই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলসী রানীর কাছে স্বপ্নযোগে পরম ঈশ্বরের দৈব আদেশ আসে বাড়িতে হাতি এনে লালন-পালন করতে হবে। এ আদেশ পালন না করলে তাদের সংসারে নেমে আসবে কঠিন অভিশাপ। তাই স্ত্রীর দেখা স্বপ্ন পূরণ করতেই দুলাল চন্দ্র চাষাবাদের ৩ বিঘা জমি বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকায় সিলেট থেকে হাতি কিনে বাড়িতে তুলেছেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার দুলাল-তুলসী রানী দম্পতির। বাড়িতে থাকা একটি টিনের চালা ও একটি মাটির তৈরি ঘরেই তাদের বসবাস। মূলত কৃষি জমি চাষাবাদ করেই চলে তাদের সংসার।

হাতির বিষয়ে তুলসী রানী বলেন, দেবতা মহাদেব ও বিশ্বকর্মা স্বপ্নে নির্দেশ করেছেন, হাতি কিনে তার যত্নআত্তি নিতে হবে। তাই স্বামীর কাছে হাতি কেনার বায়না ধরি। সে কারণে আমার স্বামী হাতি কিনে এনেছেন। দেবতা যতদিন হাতিটি রাখতে বলবেন ততদিন হাতি তাদের বাড়িতে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগেও পরম ঈশ্বরের আদেশ পালনে কয়েক বছর আগে স্বামীকে দিয়ে একটি ঘোড়া, রাজহাঁস ও ছাগল কিনিয়ে সেগুলোর লালন-পালন করে আসছেন তুলসী রানী দাসী। কিন্তু এক বছর আগে আবার ঈশ্বরের আদেশ পান, হাতি কিনে যত্ন নেয়ার। তাই স্ত্রীর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই জমি বিক্রি করে হাতি কেনার পরিকল্পনা করেন দুলাল চন্দ্র। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের মৌলভীবাজার গিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। হাতিটি লালমনিরহাটে নিয়ে আসতে ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়েছে আরও ২০ হাজার টাকা। হাতি দেখভালের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে ইব্রাহীম মিয়া নামের এক মাহুতকেও আনা হয়েছে সিলেট থেকে। তিনি স্থানীয় দু’জনকে হাতির দেখভালের প্রশিক্ষণ দিয়ে এক সময় চলে যাবেন।

হাতি কেনার খবরে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দুলাল-তুলসী রানীর বাড়িতে। সেই হাতি নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। হাতিটির খাবার হিসেবে কলাগাছ খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন খাওয়ানো হচ্ছে ৩ কেজি ভুসি, ২ কেজি গুড় ও ২ কাঁদি কলা।

স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে হাতি কিনে দিলেন কৃষক স্বামী

 মিজানুর রহমান দুলাল, লালমনিরহাট 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কথায় আছে, হাতি মরলেও লাখ টাকা। আর সেই মূল্যবান হাতি ক’জনই বা কিনতে পারেন? ছোট্ট নাতনির জন্য গরিব দামুর হাতি জোগাড়ের কাহিনী নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি হয়তো অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবেও ঘটেছে এমন ঘটনা। স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে জমি বিক্রি করে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় হাতি কিনে দিয়েছেন এক কৃষক। তার নাম দুলাল চন্দ্র। বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রথিধর দেউতি গ্রামে। স্ত্রী তুলসী রানীর প্রতি বিরল ভালোবাসা আর দেবতার দৈববাণীতে এমন ভক্তির ঘটনা এখন জেলার সবার মুখে।

ওই দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলসী রানীর কাছে স্বপ্নযোগে পরম ঈশ্বরের দৈব আদেশ আসে বাড়িতে হাতি এনে লালন-পালন করতে হবে। এ আদেশ পালন না করলে তাদের সংসারে নেমে আসবে কঠিন অভিশাপ। তাই স্ত্রীর দেখা স্বপ্ন পূরণ করতেই দুলাল চন্দ্র চাষাবাদের ৩ বিঘা জমি বিক্রি করেন। জমি বিক্রির টাকায় সিলেট থেকে হাতি কিনে বাড়িতে তুলেছেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার দুলাল-তুলসী রানী দম্পতির। বাড়িতে থাকা একটি টিনের চালা ও একটি মাটির তৈরি ঘরেই তাদের বসবাস। মূলত কৃষি জমি চাষাবাদ করেই চলে তাদের সংসার।

হাতির বিষয়ে তুলসী রানী বলেন, দেবতা মহাদেব ও বিশ্বকর্মা স্বপ্নে নির্দেশ করেছেন, হাতি কিনে তার যত্নআত্তি নিতে হবে। তাই স্বামীর কাছে হাতি কেনার বায়না ধরি। সে কারণে আমার স্বামী হাতি কিনে এনেছেন। দেবতা যতদিন হাতিটি রাখতে বলবেন ততদিন হাতি তাদের বাড়িতে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগেও পরম ঈশ্বরের আদেশ পালনে কয়েক বছর আগে স্বামীকে দিয়ে একটি ঘোড়া, রাজহাঁস ও ছাগল কিনিয়ে সেগুলোর লালন-পালন করে আসছেন তুলসী রানী দাসী। কিন্তু এক বছর আগে আবার ঈশ্বরের আদেশ পান, হাতি কিনে যত্ন নেয়ার। তাই স্ত্রীর সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই জমি বিক্রি করে হাতি কেনার পরিকল্পনা করেন দুলাল চন্দ্র। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের মৌলভীবাজার গিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। হাতিটি লালমনিরহাটে নিয়ে আসতে ট্রাক ভাড়া গুনতে হয়েছে আরও ২০ হাজার টাকা। হাতি দেখভালের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে ইব্রাহীম মিয়া নামের এক মাহুতকেও আনা হয়েছে সিলেট থেকে। তিনি স্থানীয় দু’জনকে হাতির দেখভালের প্রশিক্ষণ দিয়ে এক সময় চলে যাবেন।

হাতি কেনার খবরে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দুলাল-তুলসী রানীর বাড়িতে। সেই হাতি নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। হাতিটির খাবার হিসেবে কলাগাছ খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন খাওয়ানো হচ্ছে ৩ কেজি ভুসি, ২ কেজি গুড় ও ২ কাঁদি কলা।