বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা
jugantor
যুগান্তরের সুরঞ্জনা’র অনলাইন আলোচনায় বক্তারা
বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ নানা ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে। রোজগার না থাকায় অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন অনেকে। দেশীয় তাঁতশিল্প, কুটির শিল্প, ফ্যাশন, বিউটি স্যালুন, ইন্টেরিয়রের সঙ্গে যারা জড়িত, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিক, তারাও একটা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এ অবস্থার মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে, রুটি-রোজগারের চাকা সচল রাখতে এবং এগিয়ে যেতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো পথ নেই। যার যার অবস্থান থেকে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত নানা উদ্যোগের সমন্বয়েই মোকাবেলা করতে হবে পরিস্থিতি।

শনিবার যুগান্তরের ‘সুরঞ্জনা’ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারী : কোভিড-১৯ এর আগ্রাসন’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল এবং শীর্ষ নকশাকার, ইউনেস্কোর ডিজাইনার ফর ডেভেলপমেন্ট বিবি রাসেল, দেশের খ্যাতনামা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার এবং রেডিয়েন্ট ইন্সটিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপারসন গুলসান নাসরীন চৌধুরী ও রেড বিউটি স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনের প্রতিষ্ঠাতা ও উজ্জলা প্রাইভেট লিমিটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা পারভীন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন যুগান্তর ‘প্রতিমঞ্চ’র বিভাগীয় সম্পাদক যাকারিয়া ইবনে ইউসূফ ও ‘চাকরির খবর’র বিভাগীয় সম্পাদক তারিকুর রহমান বাদল।

বিবি রাসেল বলেন, এমন একটা পরিস্থিতির জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। করোনা শুরুর পর আমার যে শপটি ছিল সেটি বন্ধ করে দিই। কিন্তু আমার কাজের সঙ্গে একটা বড় টিম, তাঁতি, ক্রাফটম্যানরা জড়িত। আমি এই অবস্থার মধ্যেও টিমের সবার বেতন দিয়ে এসেছি। কিন্তু টিকে থাকব কিভাবে? অনলাইন আমাদের জন্য নতুন দ্বার খুলে দিল। কিন্তু মানুষের কাছে তো এখন টাকা নেই। তাই রিজেনেবল দামে পোশাক যাতে কিনতে পারে সবাই সেদিকে মনোযোগী হলাম। বলতে গেলে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে সব। আমি বসে নেই, আমরা বসে নেই। ধীরে ধীরে আবার জেগে উঠছে শিল্পগুলো। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রণোদনা বা সহযোগিতা পেলে ভালো। তবে তার জন্য আমি অপেক্ষায় নেই। আমি আমার কাজটি করে যাচ্ছি। তেমনি আরও অনেকেই হয়তো নিজের মতো করেই কাজ করে যাচ্ছেন। আসলে যার যার অবস্থান থেকেই কাজ করে যেতে হবে। কারণ আমরা তো জানি না কবে এই পরিস্থিতি ঠিক হবে। পাশাপাশি মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার দিক থেকে আরও সচেতন করে তুলতে হবে। গুলসান নাসরীন চৌধুরী বলেন, ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের অনেকেই হয়তো অনলাইনে কাজ করছেন। কারণ জীবন-জীবিকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমার মতো নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যারা কাজ না করলে স্যাটিসফ্যাকশান আসে না তারা তো সত্যিই একটু বিপাকে রয়েছি। তবে করোনার একটি বিষয় খুব লক্ষণীয়- সবাই সবার প্রতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক।

আফরোজা পারভীন বলেন, বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের জায়গায় এখন সাড়ে তিন লাখ উদ্যোক্তা। অনেকেই এই সময়ে সমস্যায় পড়েছেন। সরকারিভাবে প্রণোদনা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে যেসব শর্ত মেনে ঋণ দেয়া হবে তা বেশ জটিল। এতে কতজন এই সুবিধাটি নিতে পারবেন তা দেখার বিষয়। সরকারিভাবে যদি সাবসিডি হিসেবে ভ্যাট-ট্যাক্স এই সময়ে মওকুফ করা হতো তাহলে সেটা এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গল বয়ে আনত।

যুগান্তরের সুরঞ্জনা’র অনলাইন আলোচনায় বক্তারা

বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা

 সাংস্কৃতিক রিপোর্টার 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বেই অর্থনৈতিক ও সামাজিকসহ নানা ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে। রোজগার না থাকায় অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন অনেকে। দেশীয় তাঁতশিল্প, কুটির শিল্প, ফ্যাশন, বিউটি স্যালুন, ইন্টেরিয়রের সঙ্গে যারা জড়িত, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিক, তারাও একটা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এ অবস্থার মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে, রুটি-রোজগারের চাকা সচল রাখতে এবং এগিয়ে যেতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো পথ নেই। যার যার অবস্থান থেকে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত নানা উদ্যোগের সমন্বয়েই মোকাবেলা করতে হবে পরিস্থিতি।

শনিবার যুগান্তরের ‘সুরঞ্জনা’ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারী : কোভিড-১৯ এর আগ্রাসন’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি ফ্যাশন মডেল এবং শীর্ষ নকশাকার, ইউনেস্কোর ডিজাইনার ফর ডেভেলপমেন্ট বিবি রাসেল, দেশের খ্যাতনামা ইন্টেরিয়র ডিজাইনার এবং রেডিয়েন্ট ইন্সটিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপারসন গুলসান নাসরীন চৌধুরী ও রেড বিউটি স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনের প্রতিষ্ঠাতা ও উজ্জলা প্রাইভেট লিমিটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা পারভীন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন যুগান্তর ‘প্রতিমঞ্চ’র বিভাগীয় সম্পাদক যাকারিয়া ইবনে ইউসূফ ও ‘চাকরির খবর’র বিভাগীয় সম্পাদক তারিকুর রহমান বাদল।

বিবি রাসেল বলেন, এমন একটা পরিস্থিতির জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। করোনা শুরুর পর আমার যে শপটি ছিল সেটি বন্ধ করে দিই। কিন্তু আমার কাজের সঙ্গে একটা বড় টিম, তাঁতি, ক্রাফটম্যানরা জড়িত। আমি এই অবস্থার মধ্যেও টিমের সবার বেতন দিয়ে এসেছি। কিন্তু টিকে থাকব কিভাবে? অনলাইন আমাদের জন্য নতুন দ্বার খুলে দিল। কিন্তু মানুষের কাছে তো এখন টাকা নেই। তাই রিজেনেবল দামে পোশাক যাতে কিনতে পারে সবাই সেদিকে মনোযোগী হলাম। বলতে গেলে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে সব। আমি বসে নেই, আমরা বসে নেই। ধীরে ধীরে আবার জেগে উঠছে শিল্পগুলো। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রণোদনা বা সহযোগিতা পেলে ভালো। তবে তার জন্য আমি অপেক্ষায় নেই। আমি আমার কাজটি করে যাচ্ছি। তেমনি আরও অনেকেই হয়তো নিজের মতো করেই কাজ করে যাচ্ছেন। আসলে যার যার অবস্থান থেকেই কাজ করে যেতে হবে। কারণ আমরা তো জানি না কবে এই পরিস্থিতি ঠিক হবে। পাশাপাশি মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার দিক থেকে আরও সচেতন করে তুলতে হবে। গুলসান নাসরীন চৌধুরী বলেন, ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের অনেকেই হয়তো অনলাইনে কাজ করছেন। কারণ জীবন-জীবিকার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমার মতো নিজে দাঁড়িয়ে থেকে যারা কাজ না করলে স্যাটিসফ্যাকশান আসে না তারা তো সত্যিই একটু বিপাকে রয়েছি। তবে করোনার একটি বিষয় খুব লক্ষণীয়- সবাই সবার প্রতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আন্তরিক।

আফরোজা পারভীন বলেন, বিউটি অ্যান্ড গ্রুমিংয়ের জায়গায় এখন সাড়ে তিন লাখ উদ্যোক্তা। অনেকেই এই সময়ে সমস্যায় পড়েছেন। সরকারিভাবে প্রণোদনা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে যেসব শর্ত মেনে ঋণ দেয়া হবে তা বেশ জটিল। এতে কতজন এই সুবিধাটি নিতে পারবেন তা দেখার বিষয়। সরকারিভাবে যদি সাবসিডি হিসেবে ভ্যাট-ট্যাক্স এই সময়ে মওকুফ করা হতো তাহলে সেটা এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবার মঙ্গল বয়ে আনত।