আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস
jugantor
আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের বাস্তবায়নে লেগে গেছে একযুগ। আবার করোনা মহামারীতে ধুলোয় মিশে গেছে সে স্বপ্ন। পর্যটন ব্যবসায় নেমে এসেছে একধরনের অনিশ্চয়তা। এরই মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২০ পালিত হচ্ছে।

বিশ্বভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিল বলছে, মহামারী করোনার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সাড়ে ৭ কোটি মানুষ চাকরি হারাবে। লোকসান হবে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মানে ঘণ্টায় অন্তত ১১৪ জন মানুষ চাকরি হারাবে। তবে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা বলছে, চলতি বছরই পর্যটন আবার পুরোপুরি চালু হলে তিনটি দৃশ্য দেখা যাবে। প্রথমত, জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ৬১ কোটি পর্যটক পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত, যদি নিষেধাজ্ঞা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে, পর্যটক পাওয়া যাবে ৪০ কোটি, আর যদি নিষেধাজ্ঞা ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে পর্যটক পাওয়া যাবে মাত্র ৩২ কোটি। বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যটন হিসেবে খ্যাত স্পট কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন স্থানে এখন অনেকে যাচ্ছে না। ফলে দেশের পর্যটন শিল্প এখন চাঙ্গা হয়নি। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে অপার সম্ভাবনাময় এই পর্যটনশিল্পে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোয় দক্ষ জনবল তৈরি করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার মাধ্যমে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশের অন্যতম এজেন্ডা ‘গ্রাম হবে শহর’, যা এ বছর জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত প্রতিপাদ্যের সঙ্গে অত্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম অবারিত বালুকাময় সমুদ্রসৈকতটি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত। দেশের উত্তর-পূর্বঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ হাওড়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়। সবুজে ঘেরা গ্রামীণ সৌন্দর্যও ছুটির দিনে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে।

বাংলাদেশে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আমি আশ করি, সরকারের এসব পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবাই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। টেলিভিশন, বেতার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের বাস্তবায়নে লেগে গেছে একযুগ। আবার করোনা মহামারীতে ধুলোয় মিশে গেছে সে স্বপ্ন। পর্যটন ব্যবসায় নেমে এসেছে একধরনের অনিশ্চয়তা। এরই মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২০ পালিত হচ্ছে।

বিশ্বভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিল বলছে, মহামারী করোনার কারণে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সাড়ে ৭ কোটি মানুষ চাকরি হারাবে। লোকসান হবে ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মানে ঘণ্টায় অন্তত ১১৪ জন মানুষ চাকরি হারাবে। তবে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা বলছে, চলতি বছরই পর্যটন আবার পুরোপুরি চালু হলে তিনটি দৃশ্য দেখা যাবে। প্রথমত, জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ৬১ কোটি পর্যটক পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত, যদি নিষেধাজ্ঞা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে, পর্যটক পাওয়া যাবে ৪০ কোটি, আর যদি নিষেধাজ্ঞা ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে পর্যটক পাওয়া যাবে মাত্র ৩২ কোটি। বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যটন হিসেবে খ্যাত স্পট কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন স্থানে এখন অনেকে যাচ্ছে না। ফলে দেশের পর্যটন শিল্প এখন চাঙ্গা হয়নি। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে অপার সম্ভাবনাময় এই পর্যটনশিল্পে অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোয় দক্ষ জনবল তৈরি করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখার মাধ্যমে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশের অন্যতম এজেন্ডা ‘গ্রাম হবে শহর’, যা এ বছর জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত প্রতিপাদ্যের সঙ্গে অত্যন্ত সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম অবারিত বালুকাময় সমুদ্রসৈকতটি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত। দেশের উত্তর-পূর্বঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ হাওড়, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনপ্রণালী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয়। সবুজে ঘেরা গ্রামীণ সৌন্দর্যও ছুটির দিনে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হতে পারে।

বাংলাদেশে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আমি আশ করি, সরকারের এসব পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে সবাই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। টেলিভিশন, বেতার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।