আবার বরিশাল জেলখাল উদ্ধার অভিযান
jugantor
আবার বরিশাল জেলখাল উদ্ধার অভিযান

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উদ্ধারে নানা পদক্ষেপ নিলেও দখল, দূষণ ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জেলখাল। এখন মিলছে শুধু পলিথিনের স্তূপ। যদিও ফের কয়েক দিন ধরে এ খালে পরিচ্ছন্নতা কাজ শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ফলে যে গতিতে পরিচ্ছন্নতা কাজ এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই গতির কয়েক গুণ হ্রাস পেয়েছে। খালপারের মানুষই এ খালের বেহাল করেছে। দখল করে নিয়েছেন খালপার। এ অবস্থায় পলিথিনসহ কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ও নদী খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি।

১৯৯১-৯৬-এর বিএনপির শাসনামলে তৎকালীন সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার জেলখাল উদ্ধারে অভিযান চালান। ২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ হয়ে এসে ফের অবৈধ উচ্ছেদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালান। এরপর তিনিই বরিশালের সিটি মেয়র হয়ে আবারও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকার আমলে সেনাবাহিনী ফের উদ্ধার অভিযান ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তৎকালীন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরণ অবৈধ উচ্ছেদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানোর লক্ষ্যে নৌ শোভাযাত্রা করে কার্যক্রম শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে জরিপকার্য পরিচালনা করে ৩১১ জন দখলদার চিহ্নিত করা হয়। তবে এরপর তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের অনুদানে জেলখাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। তখন নগরীর নথুল্লাবাদ থেকে কীর্তনখোলা নদী পর্যন্ত ৩.২ কিলোমিটার জেলখাল যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খননে অর্থায়ন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। এর আগে ২০১৬ সালে জেলখাল অপদখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পরে ২০১৮ সালেও জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল নগরের ঐতিহ্যবাহী জেলখাল পুনঃসংস্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাশ। সর্বশেষ বরিশাল জেলখাল উদ্ধার, পুনঃসংস্কার, পাড় সংস্কার নিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১৪শ’ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠান। যদিও এখন পর্যন্ত সেই প্রকল্প পাস হয়নি। তারপরও সিটি কর্পোরেশন নিজ উদ্যোগে ৮ দিন ধরে এ খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। পরিচ্ছন্নতা কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক ময়লা বা বর্জ্য উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বলতে গেলে সবই পলিথিন ও প্লাস্টিক।

বেলার বরিশাল সমন্বয়কারী লিংকন বাইন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের এ কাজকে আমরা সাধুবাদ জানাই। নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন জানান, সিএস ও আরএস মানচিত্র অনুযায়ী, জেল খালের দুই পাড়ের অনেক অংশ দখল হওয়ায় সেটি সরু হয়ে গেছে। দুই পাড়ের মানুষ সচেতন না হলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে না।

আবার বরিশাল জেলখাল উদ্ধার অভিযান

 সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উদ্ধারে নানা পদক্ষেপ নিলেও দখল, দূষণ ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী জেলখাল। এখন মিলছে শুধু পলিথিনের স্তূপ। যদিও ফের কয়েক দিন ধরে এ খালে পরিচ্ছন্নতা কাজ শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ফলে যে গতিতে পরিচ্ছন্নতা কাজ এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই গতির কয়েক গুণ হ্রাস পেয়েছে। খালপারের মানুষই এ খালের বেহাল করেছে। দখল করে নিয়েছেন খালপার। এ অবস্থায় পলিথিনসহ কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ও নদী খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটি।

১৯৯১-৯৬-এর বিএনপির শাসনামলে তৎকালীন সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার জেলখাল উদ্ধারে অভিযান চালান। ২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ হয়ে এসে ফের অবৈধ উচ্ছেদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালান। এরপর তিনিই বরিশালের সিটি মেয়র হয়ে আবারও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্ব¡াবধায়ক সরকার আমলে সেনাবাহিনী ফের উদ্ধার অভিযান ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তৎকালীন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরণ অবৈধ উচ্ছেদ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালানোর লক্ষ্যে নৌ শোভাযাত্রা করে কার্যক্রম শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে জরিপকার্য পরিচালনা করে ৩১১ জন দখলদার চিহ্নিত করা হয়। তবে এরপর তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০১৭ সালে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের অনুদানে জেলখাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। তখন নগরীর নথুল্লাবাদ থেকে কীর্তনখোলা নদী পর্যন্ত ৩.২ কিলোমিটার জেলখাল যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় খননে অর্থায়ন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। এর আগে ২০১৬ সালে জেলখাল অপদখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। পরে ২০১৮ সালেও জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল নগরের ঐতিহ্যবাহী জেলখাল পুনঃসংস্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাশ। সর্বশেষ বরিশাল জেলখাল উদ্ধার, পুনঃসংস্কার, পাড় সংস্কার নিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১৪শ’ কোটি টাকার প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠান। যদিও এখন পর্যন্ত সেই প্রকল্প পাস হয়নি। তারপরও সিটি কর্পোরেশন নিজ উদ্যোগে ৮ দিন ধরে এ খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। পরিচ্ছন্নতা কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক ময়লা বা বর্জ্য উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বলতে গেলে সবই পলিথিন ও প্লাস্টিক।

বেলার বরিশাল সমন্বয়কারী লিংকন বাইন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের এ কাজকে আমরা সাধুবাদ জানাই। নদী-খাল বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন জানান, সিএস ও আরএস মানচিত্র অনুযায়ী, জেল খালের দুই পাড়ের অনেক অংশ দখল হওয়ায় সেটি সরু হয়ে গেছে। দুই পাড়ের মানুষ সচেতন না হলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে না।