বিনিয়োগ বাড়ায় গতি ফিরছে আবাসনে
jugantor
বিনিয়োগ বাড়ায় গতি ফিরছে আবাসনে

  মতিন আব্দুল্লাহ  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় বিপর্যস্ত আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। মার্চ থেকে প্লট ও ফ্ল্যাটের বিক্রি শূন্যের কোঠায় নেমেছিল। তবে গত দু’মাসে সেই অবস্থার অনেকাংশে উন্নতি হয়েছে। সামনের দিনগুলোয় এ ধারা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে প্লট, ফ্ল্যাটের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। যে কারণে বিক্রিও কম হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের কারণে নির্মাণাধীন ভবনের কাজও বন্ধ ছিল। ধাপে ধাপে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর আবাসন খাতে গতি ফিরেছে। গত দুই মাসে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় প্লট, ফ্ল্যাটের বিক্রি ২০ শতাংশ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাসন খাতে কোনো প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় ক্রেতাদের যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। আবাসন ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পরিকল্পিতভাবে ফ্ল্যাট ও প্লট প্রস্তত করছে। আগের মতো বিপুল বিনিয়োগ করে ফ্ল্যাট রেডি করে রাখছেন তারা। ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সব ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর ক্রেতারাও দীর্ঘমেয়াদি বা অনিশ্চিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। দাম কিছু বেশি পড়লেও তারা রেডি ফ্ল্যাট বা খুবই কম সময়ে প্রস্তুত হবে এমন ফ্ল্যাট ক্রয় করছেন। ফলে একদিকে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন না, অন্যদিকে অল্প সময়ে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়ায় তারা সেখানে বসবাস শুরু করতে পারছেন অথবা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। এতে গ্রাহকরা তাদের বিনিয়োগের রিটার্ন পাচ্ছেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনার ধাক্কায় গত মার্চ থেকে আবাসন খাত স্থবির হয়ে পড়ে এবং সেসময় জমি ও ফ্ল্যাটের দামও কমেছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে প্লট ও ফ্ল্যাটের বিক্রি বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আবাসনসহ অনেক খাতে প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। যার সুবাতাস আবাসন খাতেও বইতে শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে প্লট ও ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়বে। আর দামও বাড়ছে। বর্তমান অবস্থা খুব বেশিদিন থাকছে না।’

আবাসন উদ্যোক্তা ও রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনায় ধাক্কায় অন্যান্য ব্যবসার মতো আবাসন খাতও বিপর্যন্ত হয়েছিল। ধাপে ধাপে সরকারি নির্দেশনা শিথিল হওয়ার পর আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত দুই মাসে আবাসন খাতে অন্তত ২০ ভাগ বিক্রি বেড়েছে। সামনের দিনে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছি আমরা।’

জানা গেছে, ঢাকায় জমির অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বর্গফুট প্রতি ফ্ল্যাটের দামের ভিন্নতা রয়েছে। সর্বনিু প্রতি বর্গফুট ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে। তবে ফ্ল্যাটের দামের ভিন্নতা রয়েছে, বেশকিছু এলাকায়। অভিজাত, শুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরাসহ ঢাকার আকর্ষণীয় স্থানে বর্গফুটপ্রতি ফ্ল্যাট ১৫, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫ এবং ৪০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালের আগেও এমন দাম ছিল। কখনও দাম একই রয়েছে। তবে মাঝের সময়ে কিছুটা দরপতন হলেও সেসময় বিক্রি ছিল খুবই কম। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করায় আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। আর এ সুযোগে প্লট বা ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকায় এলাকাভেদে কাঠাপ্রতি আবাসিক জমি ১৫ থেকে ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাণিজ্যিক এলাকায় আবাসিকের চেয়ে ১০-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে অভিজাত এলাকায় জমির দাম স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। আর সম্প্রতি মেট্রোরেলকে কেন্দ্রে করে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকার জমির দাম অনেকাংশে বেড়েছে।

ধানমণ্ডির বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য দুই মাস ধরে ঢাকার বেশ কয়েকটি কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেছি। এর আগে জানুয়ারিতেও ফ্ল্যাটের দরদাম করেছিলাম। কিন্তু সে সময়ের তুলনায় ফ্ল্যাটের দাম এখন আরও বেশি মনে হচ্ছে। অনেকের কাছে শুনেছিলাম ফ্ল্যাটের দাম কমেছে, কিন্তু বাস্তবতা তেমন মনে হয়নি।’

আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং মিরপুরের বাসিন্দা ইমদাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনাকালে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে প্রশ্নছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে ফ্ল্যাট বা প্লটের দাম অন্যান্য সময়ের চেয়েও বেশি বলে মনে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছে দাম কম। যেটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।’

বিনিয়োগ বাড়ায় গতি ফিরছে আবাসনে

 মতিন আব্দুল্লাহ 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় বিপর্যস্ত আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। মার্চ থেকে প্লট ও ফ্ল্যাটের বিক্রি শূন্যের কোঠায় নেমেছিল। তবে গত দু’মাসে সেই অবস্থার অনেকাংশে উন্নতি হয়েছে। সামনের দিনগুলোয় এ ধারা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে প্লট, ফ্ল্যাটের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। যে কারণে বিক্রিও কম হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের কারণে নির্মাণাধীন ভবনের কাজও বন্ধ ছিল। ধাপে ধাপে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর আবাসন খাতে গতি ফিরেছে। গত দুই মাসে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় প্লট, ফ্ল্যাটের বিক্রি ২০ শতাংশ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাসন খাতে কোনো প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় ক্রেতাদের যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। আবাসন ব্যবসায়ীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পরিকল্পিতভাবে ফ্ল্যাট ও প্লট প্রস্তত করছে। আগের মতো বিপুল বিনিয়োগ করে ফ্ল্যাট রেডি করে রাখছেন তারা। ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই সব ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর ক্রেতারাও দীর্ঘমেয়াদি বা অনিশ্চিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নন। দাম কিছু বেশি পড়লেও তারা রেডি ফ্ল্যাট বা খুবই কম সময়ে প্রস্তুত হবে এমন ফ্ল্যাট ক্রয় করছেন। ফলে একদিকে গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন না, অন্যদিকে অল্প সময়ে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়ায় তারা সেখানে বসবাস শুরু করতে পারছেন অথবা ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। এতে গ্রাহকরা তাদের বিনিয়োগের রিটার্ন পাচ্ছেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনার ধাক্কায় গত মার্চ থেকে আবাসন খাত স্থবির হয়ে পড়ে এবং সেসময় জমি ও ফ্ল্যাটের দামও কমেছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে প্লট ও ফ্ল্যাটের বিক্রি বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আবাসনসহ অনেক খাতে প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। যার সুবাতাস আবাসন খাতেও বইতে শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, কিছুদিনের মধ্যে প্লট ও ফ্ল্যাটের চাহিদা বাড়বে। আর দামও বাড়ছে। বর্তমান অবস্থা খুব বেশিদিন থাকছে না।’

আবাসন উদ্যোক্তা ও রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনায় ধাক্কায় অন্যান্য ব্যবসার মতো আবাসন খাতও বিপর্যন্ত হয়েছিল। ধাপে ধাপে সরকারি নির্দেশনা শিথিল হওয়ার পর আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত দুই মাসে আবাসন খাতে অন্তত ২০ ভাগ বিক্রি বেড়েছে। সামনের দিনে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছি আমরা।’

জানা গেছে, ঢাকায় জমির অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বর্গফুট প্রতি ফ্ল্যাটের দামের ভিন্নতা রয়েছে। সর্বনিু প্রতি বর্গফুট ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে। তবে ফ্ল্যাটের দামের ভিন্নতা রয়েছে, বেশকিছু এলাকায়। অভিজাত, শুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরাসহ ঢাকার আকর্ষণীয় স্থানে বর্গফুটপ্রতি ফ্ল্যাট ১৫, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫ এবং ৪০ হাজার টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। করোনাকালের আগেও এমন দাম ছিল। কখনও দাম একই রয়েছে। তবে মাঝের সময়ে কিছুটা দরপতন হলেও সেসময় বিক্রি ছিল খুবই কম। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করায় আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। আর এ সুযোগে প্লট বা ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা।

 

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকায় এলাকাভেদে কাঠাপ্রতি আবাসিক জমি ১৫ থেকে ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাণিজ্যিক এলাকায় আবাসিকের চেয়ে ১০-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে অভিজাত এলাকায় জমির দাম স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। আর সম্প্রতি মেট্রোরেলকে কেন্দ্রে করে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকার জমির দাম অনেকাংশে বেড়েছে।

ধানমণ্ডির বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য দুই মাস ধরে ঢাকার বেশ কয়েকটি কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেছি। এর আগে জানুয়ারিতেও ফ্ল্যাটের দরদাম করেছিলাম। কিন্তু সে সময়ের তুলনায় ফ্ল্যাটের দাম এখন আরও বেশি মনে হচ্ছে। অনেকের কাছে শুনেছিলাম ফ্ল্যাটের দাম কমেছে, কিন্তু বাস্তবতা তেমন মনে হয়নি।’

আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং মিরপুরের বাসিন্দা ইমদাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনাকালে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে প্রশ্নছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে ফ্ল্যাট বা প্লটের দাম অন্যান্য সময়ের চেয়েও বেশি বলে মনে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছে দাম কম। যেটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।’