ফুলেল শ্রদ্ধায় মাহবুবে আলমকে চির বিদায়
jugantor
ফুলেল শ্রদ্ধায় মাহবুবে আলমকে চির বিদায়
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাহবুবে আলম

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সহকর্মী, বন্ধু-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, আইনজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জানাজায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে দুপুর ১টায় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে দাফন করা হয়।

মাহবুবে আলম রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সকাল ৮টায় সিএমএইচের হিমঘর থেকে তার মরদেহ মিন্টো রোডের বাসায় নেয়া হয়।

সেখানে শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। পরে মরদেহ নেয়া হয় সুপ্রিমকোর্টে।

সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সমবেতদের উদ্দেশে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘মাহবুবে আলম নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে গেছেন আইন পেশা ও আইনজীবীদের প্রতি দায়বদ্ধতা রক্ষার জন্য। সেই দায়বদ্ধতা রক্ষা করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল করে থাকেন, তবে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবার দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার বোন আইনজীবী সমিতির সদস্য, তার প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমার আর কিছু বলার নেই।’

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মাহবুবে আলমের কফিনে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার সুপ্রিমকোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম হয়নি। সকালে ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চের কাজ শুরু হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা ব্যথিত। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আদালত বসছে না।’

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘মাহবুবে আলমের আদর্শেই তরুণ আইনজীবীরা পেশাদারি হয়ে উঠবেন।

তার আদর্শ আইনজীবীদের পথ দেখাবে।’ ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মাহবুবে আলমের আদর্শ ও পেশাদারিত্ব অনুসরণীয়। আইন পেশায়, আইনজীবীদের মধ্যে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

মৃত্যুকালে মাহবুবে আলমের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর ৬ মাস। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন মাহবুবে আলম।

সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১৮ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

তবে সর্বশেষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ফুলেল শ্রদ্ধায় মাহবুবে আলমকে চির বিদায়

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মাহবুবে আলম
সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কফিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে -যুগান্তর

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সহকর্মী, বন্ধু-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, আইনজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জানাজায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে দুপুর ১টায় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে দাফন করা হয়।

মাহবুবে আলম রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সকাল ৮টায় সিএমএইচের হিমঘর থেকে তার মরদেহ মিন্টো রোডের বাসায় নেয়া হয়।

সেখানে শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। পরে মরদেহ নেয়া হয় সুপ্রিমকোর্টে।

সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সমবেতদের উদ্দেশে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘মাহবুবে আলম নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে গেছেন আইন পেশা ও আইনজীবীদের প্রতি দায়বদ্ধতা রক্ষার জন্য। সেই দায়বদ্ধতা রক্ষা করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল করে থাকেন, তবে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবার দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার বোন আইনজীবী সমিতির সদস্য, তার প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমার আর কিছু বলার নেই।’

জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মাহবুবে আলমের কফিনে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সোমবার সুপ্রিমকোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম হয়নি। সকালে ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চের কাজ শুরু হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা ব্যথিত। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আদালত বসছে না।’

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘মাহবুবে আলমের আদর্শেই তরুণ আইনজীবীরা পেশাদারি হয়ে উঠবেন।

তার আদর্শ আইনজীবীদের পথ দেখাবে।’ ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মাহবুবে আলমের আদর্শ ও পেশাদারিত্ব অনুসরণীয়। আইন পেশায়, আইনজীবীদের মধ্যে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

মৃত্যুকালে মাহবুবে আলমের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর ৬ মাস। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন মাহবুবে আলম।

সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১৮ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

তবে সর্বশেষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।