চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে করোনা হাসপাতালগুলো
jugantor
চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে করোনা হাসপাতালগুলো

  এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে একে একে বন্ধ হচ্ছে করোনা-আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় গড়ে ওঠা ফিল্ড হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার। রোগী সংকট ও অর্থাভাবে ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ফৌজদারহাটে স্থাপিত দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া হালিশহর ওয়াপদা মোড়ে প্রিন্স অব চিটাগাং নামের কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিষ্ঠিত আইসোলেশন সেন্টারটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়ার পথে আরও কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্র ও আইসোলেশন সেন্টার। শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন সতর্কবাণী সত্ত্বেও হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি ও পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রশ্ন ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আজ প্রতিবেদন পেশ করার কথা রয়েছে। সূত্র জানায়, নগরীর জাকির হোসেন সড়কের হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি কোভিড রোগীর চিকিৎসায় গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি প্রস্তুত করা হয়। জুনে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ইউনিট-২ হিসেবে চালু করা হয় হাসপাতালটি। তবে শুরু থেকেই এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ছিল সমন্বয়হীনতা। দুইটি ইউনিটে ১০টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও ইসিজি মেশিন না থাকায় আইসিইউ সুবিধা পাননি রোগীরা।

চার মাসের মাথায় এখন হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর পর চার মাসে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নেন। বৃহস্পতিবার ১ জন রোগী ভর্তি ছিল। শুক্রবার থেকে হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি নেই। করোনা পরিস্থিতি যখন খারাপ ছিল, তখন একটি কমিটি গঠন করে হাসপাতালটি চালু করা হয়। হাসপাতাল বন্ধের ব্যাপারে ওই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে।

চসিকের আইসোলেশন সেন্টার : ২১ জুন চালুর পর দু’মাসের মাথায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারটি। নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সিটি হল কনভেনশন সেন্টারে চালু করা হয় এটি। এ সময়ে সেবা পেয়েছেন মাত্র ১২০ জন রোগী। কিন্তু এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সে হিসাবে রোগীর পেছনে ব্যয় হয় সোয়া ২ লাখ টাকা করে। অথচ ভবন ভাড়া কিংবা বিদ্যুৎ বিলের খরচ লাগেনি। চসিকের করোনা আইসোলেশন সেন্টার নিয়ে এমন নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইসোলেশন সেন্টারের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা চসিকের যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান সুমন বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, আইসোলেশন সেন্টার তৈরির সময় মালামাল ক্রয় এবং রিনোভেশনে খরচ নিয়ে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। সোমবার (আজ) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

১৩ জুন নগরীর হালিশহর ওয়াপদা মোড়ে প্রিন্স অব চিটাগাং নামক কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’। কয়েকজন তরুণ মিলে আইসোলেশন সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর এটিও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন উদ্যোক্তারা। অর্থাভাবে আইসোলেশন সেন্টারটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। সেন্টারটিতে মোট ৭৬২ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত এবং উপসর্গের রোগীকে সেবা দেয়া হয়েছে।

এই আইসোলেশন সেন্টারটির প্রধান সমন্বয়ক নুরুল আজিম বলেন, রোগী সংকট ও অর্থাভাবে সেন্টারটি বন্ধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় করোনা মোকাবেলার জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলো গোডাউনে রেখেছি। প্রয়োজন হলে আবার কার্যক্রম শুরু করব। এরপর চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো কোনো দাতব্য চিকিৎসালয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রামে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে করোনা হাসপাতালগুলো

 এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে একে একে বন্ধ হচ্ছে করোনা-আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় গড়ে ওঠা ফিল্ড হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার। রোগী সংকট ও অর্থাভাবে ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ফৌজদারহাটে স্থাপিত দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া হালিশহর ওয়াপদা মোড়ে প্রিন্স অব চিটাগাং নামের কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিষ্ঠিত আইসোলেশন সেন্টারটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়ার পথে আরও কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্র ও আইসোলেশন সেন্টার। শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এমন সতর্কবাণী সত্ত্বেও হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে আইসোলেশন সেন্টার তৈরি ও পরিচালনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রশ্ন ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আজ প্রতিবেদন পেশ করার কথা রয়েছে। সূত্র জানায়, নগরীর জাকির হোসেন সড়কের হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি কোভিড রোগীর চিকিৎসায় গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি প্রস্তুত করা হয়। জুনে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ইউনিট-২ হিসেবে চালু করা হয় হাসপাতালটি। তবে শুরু থেকেই এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ছিল সমন্বয়হীনতা। দুইটি ইউনিটে ১০টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও ইসিজি মেশিন না থাকায় আইসিইউ সুবিধা পাননি রোগীরা।

চার মাসের মাথায় এখন হাসপাতালটি বন্ধ করে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর পর চার মাসে ১১৫ জন রোগী চিকিৎসা নেন। বৃহস্পতিবার ১ জন রোগী ভর্তি ছিল। শুক্রবার থেকে হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি নেই। করোনা পরিস্থিতি যখন খারাপ ছিল, তখন একটি কমিটি গঠন করে হাসপাতালটি চালু করা হয়। হাসপাতাল বন্ধের ব্যাপারে ওই কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে।

চসিকের আইসোলেশন সেন্টার : ২১ জুন চালুর পর দু’মাসের মাথায় বন্ধ ঘোষণা করা হয় চসিকের ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারটি। নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সিটি হল কনভেনশন সেন্টারে চালু করা হয় এটি। এ সময়ে সেবা পেয়েছেন মাত্র ১২০ জন রোগী। কিন্তু এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সে হিসাবে রোগীর পেছনে ব্যয় হয় সোয়া ২ লাখ টাকা করে। অথচ ভবন ভাড়া কিংবা বিদ্যুৎ বিলের খরচ লাগেনি। চসিকের করোনা আইসোলেশন সেন্টার নিয়ে এমন নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইসোলেশন সেন্টারের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা চসিকের যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান সুমন বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, আইসোলেশন সেন্টার তৈরির সময় মালামাল ক্রয় এবং রিনোভেশনে খরচ নিয়ে তদন্ত শেষ পর্যায়ে। সোমবার (আজ) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

১৩ জুন নগরীর হালিশহর ওয়াপদা মোড়ে প্রিন্স অব চিটাগাং নামক কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’। কয়েকজন তরুণ মিলে আইসোলেশন সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর এটিও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন উদ্যোক্তারা। অর্থাভাবে আইসোলেশন সেন্টারটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। সেন্টারটিতে মোট ৭৬২ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত এবং উপসর্গের রোগীকে সেবা দেয়া হয়েছে।

এই আইসোলেশন সেন্টারটির প্রধান সমন্বয়ক নুরুল আজিম বলেন, রোগী সংকট ও অর্থাভাবে সেন্টারটি বন্ধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় করোনা মোকাবেলার জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামগুলো গোডাউনে রেখেছি। প্রয়োজন হলে আবার কার্যক্রম শুরু করব। এরপর চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো কোনো দাতব্য চিকিৎসালয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।