করোনায় বিক্রি কমলেও চাঁদার হার কমেনি
jugantor
করোনায় বিক্রি কমলেও চাঁদার হার কমেনি

  ইকবাল হাসান ফরিদ  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। করোনায়ও থেমে নেই এ চাঁদাবাজি। মহামারীর এ ধাক্কায় বিক্রি কমলেও কমেনি চাঁদার হার। বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত ঘিরে মাসে কোটি কোটি টাকার চাঁদা তোলা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা যেন বিষয়টি মেনে নিয়েছেন, ঝামেলা এড়াতে চাঁদা দিলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা গোপনে রাখছেন।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেন না। তবে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের সীমা অতিক্রম করলে কাউকে কাউকে আইনের দ্বারস্থ হতেও দেখা যাচ্ছে। তবে এসব চাঁদাবাজ সাধারণত প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া আবার কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়েও সক্রিয় রয়েছেন।

২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন টাউনহল মার্কেটের এক ব্যবসায়ী। ‘সিঙ্গাপুর জুস অ্যান্ড কফি বার নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তরিকুল ইসলাম মামলায় উল্লেখ করেছেন, কাউন্সিলর সেন্টু তার অফিস স্টাফ কামরুল ইসলামের মাধ্যমে আমাকে গত ২০ সেপ্টেম্বর খবর পাঠান ৫ লাখ টাকা নিয়ে অফিসে হাজির হতে। কিন্তু চাঁদার টাকা নিয়ে হাজির না হওয়ায় পরদিন রাত সাড়ে ১০টায় সেন্টু দলবল নিয়ে দোকানে এসে মারধর ও ভাংচুর করেন। তরিকুলের দাবি, সেন্টু নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে চাঁদা নেন। রোহিঙ্গাদের খাবার দেয়ার অজুহাতে ৫০ হাজার, করোনা পরিস্থিতিতে তহবিল সংগ্রহসহ দফায় দফায় চাঁদা নিয়েছেন কাউন্সিলর। যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টু যুগান্তরকে বলেন, আমি তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। আমার বিরুদ্ধে এলাকায় কোনো অভিযোগ নেই। আমি ফুটপাতে রাখা জিনিসপত্র সরানোর কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

এমন অবস্থা কেবল মোহাম্মদপুরেই নয়, মিরপুরেও বছরজুড়ে চলে চাঁদাবাজি। অবৈধ অটো রিকশা, ঝুট ব্যবসা, বস্তি বাণিজ্য, সরকারি জায়গা দখল, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের অবৈধ বাণিজ্য, রাস্তায় বাজার বসানো এবং ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে নীরবে এসব চাঁদাবাজি চললেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যান না ভুক্তভোগীরা।

ঢাকা উত্তরের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পি যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত এলাকায় আগের চেয়ে বেশি তৎপর। শাহাদাত এবং তার সহযোগীরা ফোন দিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। এছাড়া সম্প্রতি মামুন, জামিল ও তার সহযোগীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এটি নিত্যনৈমিত্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাসীদের ধরতে কাজ করছে। আগস্টে মিরপুরের ভাসানটেক এলাকা থেকে ৫ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরা সবাই ভারতে পলাতক শাহাদাতের হয়ে চাঁদা তুলছিল। এ ধরনের একাধিক গ্রুপ মিরপুরে সক্রিয়। মিরপুরের ৭ থানা এলাকাতেই এদের তৎপরতা চলছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, গ্রেফতার এই পাঁচজনই স্বীকার করেছে তারা শাহাদাত বাহিনীর সদস্য।

তবে বিভিন্ন এলাকায় শাহাদাতের বাইরেও আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। ভাসানটেক, মাটিকাটা, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকায় কারাবন্দি কিলার আব্বাসের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। মিরপুর ১, ২, ৬, ১১, পল্লবী ও রূপনগরের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছেন শাহাদতের সহযোগী ভারতে পলাতক মোক্তারের লোকজন। ভাসানটেক ও মিরপুর-১৪ নম্বরজুড়ে আধিপত্য ইব্রাহিমের। মিরপুর-৬ ও ১১ নম্বর সেকশন নিয়ন্ত্রণ করে নেপালে অবস্থানরত মামুন ও জামিল। আর শাহিন সিকদারের নিয়ন্ত্রণে কাফরুল এলাকা।

এছাড়া রাজধানীর পুরান ঢাকার অবৈধ বিভিন্ন কারখানা ঘিরেও সক্রিয় চাঁদাবাজরা। চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অবৈধ কারখানা। এর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। নকল প্রসাধনী থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি পারফিউম, সেন্ডেল, জুতার সোল, পলিথিন, নানা খাদ্যসামগ্রী তৈরি হয় এসব কারখানায়। কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, মাসোহারা দিয়েই তারা অবৈধ কারখানাগুলো চালান। এদিকে অবৈধ এসব কারখানায় প্রতিদিন নানা পরিচয়ে হানা দেয় চাঁদাবাজরা। চকবাজারের ইসলামবাগ এলাকার এক কারখানা মালিক যুগান্তরকে বলেন, কেউ গণমাধ্যম কর্মী পরিচয়ে, কেউ মানবাধিকার কর্মীর পরিচয়ে টাকার জন্য কারখানায় হাজির হন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়ার ভয় দেখান। ফলে তাদের আবদার নীরবেই মেটাতে হয়। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ রিকশার গ্যারেজ ও চোরাই গ্যাসের ব্যবহার করা হয়। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চললেও বন্ধ হয় না এসব। নগরীর গুলিস্তান, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানপাটেও চলে নীরব চাঁদাবাজি। গুলিস্তানের আলিম নামের এক হকার বলেন, চাঁদাবাজি তো নতুন কিছু না। আমরা তো চাঁদার টাকা দিয়েই বসি। এগুলো এখন আর চাঁদা মনে করি না। নিউমার্কেট এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, করোনায় বিক্রিবাট্টা কমে গেলেও কমেনি চাঁদার হার। এখানে আগের মতো চাঁদা দিয়েই দোকান করতে হয়। তিনি বলেন, পুলিশে অভিযোগ করলে সমস্যা আরও বাড়ে।

বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, রাজধানীতে এক লাখ ১০ হাজারের মতো হকার আছে। করোনার কারণে অনেকেই বাড়ি চলে গেছে। তবে যারা দোকানপাট নিয়ে বসার চেষ্টা করছে, তাদের ১০০ থেকে ৪০০ টাকা দিনে চাঁদা দিতে হয়। এভাবে মাসে কোটি কোটি টাকা হকারদের কাছ থেকেই হাতিয়ে নেয় চাঁদাবাজচক্র। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) ওয়ালিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চাঁদাবাজির তথ্য পেলেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। চাঁদাবাজ সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। কেউ চাঁদা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবির বিষয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে বিভিন্ন লোকজনের কাছে চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ এভাবে চাঁদা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।

করোনায় বিক্রি কমলেও চাঁদার হার কমেনি

 ইকবাল হাসান ফরিদ 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। করোনায়ও থেমে নেই এ চাঁদাবাজি। মহামারীর এ ধাক্কায় বিক্রি কমলেও কমেনি চাঁদার হার। বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত ঘিরে মাসে কোটি কোটি টাকার চাঁদা তোলা হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা যেন বিষয়টি মেনে নিয়েছেন, ঝামেলা এড়াতে চাঁদা দিলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা গোপনে রাখছেন।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেন না। তবে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের সীমা অতিক্রম করলে কাউকে কাউকে আইনের দ্বারস্থ হতেও দেখা যাচ্ছে। তবে এসব চাঁদাবাজ সাধারণত প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া আবার কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়েও সক্রিয় রয়েছেন।

২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন টাউনহল মার্কেটের এক ব্যবসায়ী। ‘সিঙ্গাপুর জুস অ্যান্ড কফি বার নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তরিকুল ইসলাম মামলায় উল্লেখ করেছেন, কাউন্সিলর সেন্টু তার অফিস স্টাফ কামরুল ইসলামের মাধ্যমে আমাকে গত ২০ সেপ্টেম্বর খবর পাঠান ৫ লাখ টাকা নিয়ে অফিসে হাজির হতে। কিন্তু চাঁদার টাকা নিয়ে হাজির না হওয়ায় পরদিন রাত সাড়ে ১০টায় সেন্টু দলবল নিয়ে দোকানে এসে মারধর ও ভাংচুর করেন। তরিকুলের দাবি, সেন্টু নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে চাঁদা নেন। রোহিঙ্গাদের খাবার দেয়ার অজুহাতে ৫০ হাজার, করোনা পরিস্থিতিতে তহবিল সংগ্রহসহ দফায় দফায় চাঁদা নিয়েছেন কাউন্সিলর। যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টু যুগান্তরকে বলেন, আমি তিনবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। আমার বিরুদ্ধে এলাকায় কোনো অভিযোগ নেই। আমি ফুটপাতে রাখা জিনিসপত্র সরানোর কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।

এমন অবস্থা কেবল মোহাম্মদপুরেই নয়, মিরপুরেও বছরজুড়ে চলে চাঁদাবাজি। অবৈধ অটো রিকশা, ঝুট ব্যবসা, বস্তি বাণিজ্য, সরকারি জায়গা দখল, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের অবৈধ বাণিজ্য, রাস্তায় বাজার বসানো এবং ব্যবসায়ী ও বাড়ির মালিকদের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তবে নীরবে এসব চাঁদাবাজি চললেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যান না ভুক্তভোগীরা।

ঢাকা উত্তরের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পি যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত এলাকায় আগের চেয়ে বেশি তৎপর। শাহাদাত এবং তার সহযোগীরা ফোন দিয়ে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করছে। এছাড়া সম্প্রতি মামুন, জামিল ও তার সহযোগীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এটি নিত্যনৈমিত্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাসীদের ধরতে কাজ করছে। আগস্টে মিরপুরের ভাসানটেক এলাকা থেকে ৫ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরা সবাই ভারতে পলাতক শাহাদাতের হয়ে চাঁদা তুলছিল। এ ধরনের একাধিক গ্রুপ মিরপুরে সক্রিয়। মিরপুরের ৭ থানা এলাকাতেই এদের তৎপরতা চলছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, গ্রেফতার এই পাঁচজনই স্বীকার করেছে তারা শাহাদাত বাহিনীর সদস্য।

তবে বিভিন্ন এলাকায় শাহাদাতের বাইরেও আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। ভাসানটেক, মাটিকাটা, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকায় কারাবন্দি কিলার আব্বাসের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। মিরপুর ১, ২, ৬, ১১, পল্লবী ও রূপনগরের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করছেন শাহাদতের সহযোগী ভারতে পলাতক মোক্তারের লোকজন। ভাসানটেক ও মিরপুর-১৪ নম্বরজুড়ে আধিপত্য ইব্রাহিমের। মিরপুর-৬ ও ১১ নম্বর সেকশন নিয়ন্ত্রণ করে নেপালে অবস্থানরত মামুন ও জামিল। আর শাহিন সিকদারের নিয়ন্ত্রণে কাফরুল এলাকা।

এছাড়া রাজধানীর পুরান ঢাকার অবৈধ বিভিন্ন কারখানা ঘিরেও সক্রিয় চাঁদাবাজরা। চকবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অবৈধ কারখানা। এর সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। নকল প্রসাধনী থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি পারফিউম, সেন্ডেল, জুতার সোল, পলিথিন, নানা খাদ্যসামগ্রী তৈরি হয় এসব কারখানায়। কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, মাসোহারা দিয়েই তারা অবৈধ কারখানাগুলো চালান। এদিকে অবৈধ এসব কারখানায় প্রতিদিন নানা পরিচয়ে হানা দেয় চাঁদাবাজরা। চকবাজারের ইসলামবাগ এলাকার এক কারখানা মালিক যুগান্তরকে বলেন, কেউ গণমাধ্যম কর্মী পরিচয়ে, কেউ মানবাধিকার কর্মীর পরিচয়ে টাকার জন্য কারখানায় হাজির হন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়ার ভয় দেখান। ফলে তাদের আবদার নীরবেই মেটাতে হয়। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ রিকশার গ্যারেজ ও চোরাই গ্যাসের ব্যবহার করা হয়। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চললেও বন্ধ হয় না এসব। নগরীর গুলিস্তান, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন দোকানপাটেও চলে নীরব চাঁদাবাজি। গুলিস্তানের আলিম নামের এক হকার বলেন, চাঁদাবাজি তো নতুন কিছু না। আমরা তো চাঁদার টাকা দিয়েই বসি। এগুলো এখন আর চাঁদা মনে করি না। নিউমার্কেট এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, করোনায় বিক্রিবাট্টা কমে গেলেও কমেনি চাঁদার হার। এখানে আগের মতো চাঁদা দিয়েই দোকান করতে হয়। তিনি বলেন, পুলিশে অভিযোগ করলে সমস্যা আরও বাড়ে।

বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, রাজধানীতে এক লাখ ১০ হাজারের মতো হকার আছে। করোনার কারণে অনেকেই বাড়ি চলে গেছে। তবে যারা দোকানপাট নিয়ে বসার চেষ্টা করছে, তাদের ১০০ থেকে ৪০০ টাকা দিনে চাঁদা দিতে হয়। এভাবে মাসে কোটি কোটি টাকা হকারদের কাছ থেকেই হাতিয়ে নেয় চাঁদাবাজচক্র। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) ওয়ালিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চাঁদাবাজির তথ্য পেলেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। চাঁদাবাজ সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। কেউ চাঁদা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবির বিষয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে বিভিন্ন লোকজনের কাছে চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ এভাবে চাঁদা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।