সমাজ ও সরকার প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা
সমাজ ও সরকার প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না
প্রবীণবান্ধব পরিবার গড়ে তোলার তাগিদ

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবীণদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে; কিন্তু বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় তারা বঞ্চিত। সমাজ ও সরকার প্রবীণদের অতীত অবদানের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করছে না। এমনকি পারিবারিকভাবেও তারা উপযুক্ত মর্যাদা ও অধিকার পাচ্ছেন না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রবীণদের মধ্যে এক ধরনের বোধ তৈরি হয়েছে-সমাজের তারা অপাঙ্ক্তেয়, রাষ্ট্রে অবদানহীন এবং পরিবারে অপ্রয়োজনীয়। এ অবস্থার উত্তরণে প্রবীণবান্ধব পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এটি আয়োজন করে। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, সংগঠনের মহাসচিব প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন সরকার, সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া, ড. শরীফা বেগম, প্রবীণ বিশেষজ্ঞ হাসান আলী প্রমুখ। এ সময় ‘আমাদের কথা’ নামে সংগঠনের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সাইফুল আলম। সংগঠনের যুগ্ম সচিব কাজী শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. ফজলুল হক বলেন, ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। ফলে প্রতিবছর সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর বাংলাদেশে দিবসটির স্লোগান হল- ‘বৈশ্বিক মহামারীর বার্তা, প্রবীণদের সেবায় নতুন মাত্রা’। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ৬০ বছরের বেশি বয়সের নাগরিককে প্রবীণ বলা হয়। বর্তমানে দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ। আগামী ২০৫০ সালে তা সাড়ে ৫ কোটিতে উন্নীত হবে। যা ওই সময়ের মোট জনশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ। এ কারণে প্রবীণদের অধিকার ও তাদের সুরক্ষায় এখনই জোর দিতে হবে।

সাইফুল আলম বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক মানুষ নিয়ে এই সিনিয়র সিটিজেন সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, প্রবীণদের জন্য ভাববার বা কিছু করবার সময় এসেছে। তিনি বলেন, প্রবীণরা জীবনের অধিকাংশ সময়ই পরিবারকে দাঁড় করানো এবং সন্তানদের মানুষ করার জন্য উৎসর্গ করেছেন। এ সময়ে তারা নিজেদের দিকে তাকানোর সময় পাননি। আর জীবন সায়াহ্নে এসে হিসাব চলে আসে-জীবন তো একটাই। কী পেলাম এই জীবনে। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে প্রবীণদের এ রকম হা-হুতাশের মধ্যদিয়ে বিদায় নিতে হয়।

তিনি বলেন, সে রকম একটি প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রবীণদের নিয়ে ভাবা হচ্ছে-এটি একটি বড় বিষয়। তিনি বলেন, সরকার জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু শুধু আইন দিয়ে জীবনের দুশ্চিন্তা দূর করে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, সমাজতন্ত্র এবং সব মানুষের প্রতি সমান অধিকারের চিন্তা থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। এ জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন এবং ২ লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ গণমানুষের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না। তিনি বলেন, আগামী বছর আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপন করতে যাচ্ছি। কিন্তু রাষ্ট্রকে গণমানুষের এবং মানবিক মূল্যবোধের রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারলে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতির পিতার যে স্বপ্ন ছিল, সেটি কতদিনে বাস্তবায়ন হবে-আমরা ঠিক জানি না। তিনি আরও বলেন, দেশে সামাজিক সুরক্ষায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি চালু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রবীণদের সুরক্ষার বিষয়টি সবার আগে চিন্তা করা দরকার। কারণ, তারা জীবনকে খুব বেশি উপভোগ করতে পারেননি। তার মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করার আগে, প্রবীণবান্ধব পরিবার গড়ে তোলা দরকার। প্রতিটি পরিবার থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে প্রবীণবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রও সেইভাবে চিন্তা করবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের কী করণীয়, সেটি নিয়েও চিন্তা করার সময় এসেছে। শুধু দুটি আইন দিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। প্রবীণদের জন্য সামাজিক মূল্যবোধের জায়গা তৈরি করতে হবে।

যুগান্তর সম্পাদক বলেন, আগে আমরা পিতামাতাকে সম্মান করব। তাদের সুখ-দুঃখ সবার আগে দেখব। তারপর নিজের দিকে তাকাব। এভাবে শুরুতেই আমাদের সন্তানদের সেই রকম মানসিকতার জায়গা তৈরি করতে না পারলে, পরবর্তী সময়ে তা কঠিন হয়। তিনি বলেন, বিশ্বের বহুদেশে প্রবীণরা ভাবনাহীন ও আনন্দে জীবনযাপন করেন। একটি মায়ার বন্ধনে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু কিছু ঘটনায় মনে হচ্ছে, মায়ার বন্ধনটি ঠুনকো হয়ে গেছে।

বিচারপতি মমতাজ উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তায় নিুমধ্যবিত্তরা গুরুত্ব পেয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৫৫ বছর সময় পেয়েছিলেন। বাংলার মানুষকে ধারণ করেছিলেন। প্রতিটি প্রান্তে ঘুরে ঘুরে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তার কর্মী হিসেবে আমরাও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করি। তিনি বলেন, আমরা নিুমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সে হিসেবে মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করেছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছি।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬টি দাবি তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে রয়েছে- বিদ্যমান আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, প্রবীণদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন, চিকিৎসা ও যাতায়াতে ১০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, প্রবীণদের জন্য সরকারি উদ্যোগে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, শারীরিকভাবে সক্ষমদের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিষ্ঠায় সুপারিশ তৈরির জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

সমাজ ও সরকার প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না

প্রবীণবান্ধব পরিবার গড়ে তোলার তাগিদ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবীণদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে; কিন্তু বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় তারা বঞ্চিত। সমাজ ও সরকার প্রবীণদের অতীত অবদানের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করছে না। এমনকি পারিবারিকভাবেও তারা উপযুক্ত মর্যাদা ও অধিকার পাচ্ছেন না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রবীণদের মধ্যে এক ধরনের বোধ তৈরি হয়েছে-সমাজের তারা অপাঙ্ক্তেয়, রাষ্ট্রে অবদানহীন এবং পরিবারে অপ্রয়োজনীয়। এ অবস্থার উত্তরণে প্রবীণবান্ধব পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বুধবার আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি এটি আয়োজন করে। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, সংগঠনের মহাসচিব প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন সরকার, সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া, ড. শরীফা বেগম, প্রবীণ বিশেষজ্ঞ হাসান আলী প্রমুখ। এ সময় ‘আমাদের কথা’ নামে সংগঠনের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সাইফুল আলম। সংগঠনের যুগ্ম সচিব কাজী শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. ফজলুল হক বলেন, ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। ফলে প্রতিবছর সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর বাংলাদেশে দিবসটির স্লোগান হল- ‘বৈশ্বিক মহামারীর বার্তা, প্রবীণদের সেবায় নতুন মাত্রা’। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ৬০ বছরের বেশি বয়সের নাগরিককে প্রবীণ বলা হয়। বর্তমানে দেশে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ। আগামী ২০৫০ সালে তা সাড়ে ৫ কোটিতে উন্নীত হবে। যা ওই সময়ের মোট জনশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ। এ কারণে প্রবীণদের অধিকার ও তাদের সুরক্ষায় এখনই জোর দিতে হবে।

সাইফুল আলম বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক মানুষ নিয়ে এই সিনিয়র সিটিজেন সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, প্রবীণদের জন্য ভাববার বা কিছু করবার সময় এসেছে। তিনি বলেন, প্রবীণরা জীবনের অধিকাংশ সময়ই পরিবারকে দাঁড় করানো এবং সন্তানদের মানুষ করার জন্য উৎসর্গ করেছেন। এ সময়ে তারা নিজেদের দিকে তাকানোর সময় পাননি। আর জীবন সায়াহ্নে এসে হিসাব চলে আসে-জীবন তো একটাই। কী পেলাম এই জীবনে। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে প্রবীণদের এ রকম হা-হুতাশের মধ্যদিয়ে বিদায় নিতে হয়।

তিনি বলেন, সে রকম একটি প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রবীণদের নিয়ে ভাবা হচ্ছে-এটি একটি বড় বিষয়। তিনি বলেন, সরকার জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু শুধু আইন দিয়ে জীবনের দুশ্চিন্তা দূর করে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, সমাজতন্ত্র এবং সব মানুষের প্রতি সমান অধিকারের চিন্তা থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। এ জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন এবং ২ লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ গণমানুষের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না। তিনি বলেন, আগামী বছর আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপন করতে যাচ্ছি। কিন্তু রাষ্ট্রকে গণমানুষের এবং মানবিক মূল্যবোধের রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারলে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জাতির পিতার যে স্বপ্ন ছিল, সেটি কতদিনে বাস্তবায়ন হবে-আমরা ঠিক জানি না। তিনি আরও বলেন, দেশে সামাজিক সুরক্ষায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মসূচি চালু হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রবীণদের সুরক্ষার বিষয়টি সবার আগে চিন্তা করা দরকার। কারণ, তারা জীবনকে খুব বেশি উপভোগ করতে পারেননি। তার মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করার আগে, প্রবীণবান্ধব পরিবার গড়ে তোলা দরকার। প্রতিটি পরিবার থেকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলে প্রবীণবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রও সেইভাবে চিন্তা করবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রের কী করণীয়, সেটি নিয়েও চিন্তা করার সময় এসেছে। শুধু দুটি আইন দিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। প্রবীণদের জন্য সামাজিক মূল্যবোধের জায়গা তৈরি করতে হবে।

যুগান্তর সম্পাদক বলেন, আগে আমরা পিতামাতাকে সম্মান করব। তাদের সুখ-দুঃখ সবার আগে দেখব। তারপর নিজের দিকে তাকাব। এভাবে শুরুতেই আমাদের সন্তানদের সেই রকম মানসিকতার জায়গা তৈরি করতে না পারলে, পরবর্তী সময়ে তা কঠিন হয়। তিনি বলেন, বিশ্বের বহুদেশে প্রবীণরা ভাবনাহীন ও আনন্দে জীবনযাপন করেন। একটি মায়ার বন্ধনে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু কিছু ঘটনায় মনে হচ্ছে, মায়ার বন্ধনটি ঠুনকো হয়ে গেছে।

বিচারপতি মমতাজ উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তায় নিুমধ্যবিত্তরা গুরুত্ব পেয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৫৫ বছর সময় পেয়েছিলেন। বাংলার মানুষকে ধারণ করেছিলেন। প্রতিটি প্রান্তে ঘুরে ঘুরে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তার কর্মী হিসেবে আমরাও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করি। তিনি বলেন, আমরা নিুমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। সে হিসেবে মানুষের অধিকারের জন্য কাজ করেছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছি।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬টি দাবি তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে রয়েছে- বিদ্যমান আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, প্রবীণদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গঠন, চিকিৎসা ও যাতায়াতে ১০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, প্রবীণদের জন্য সরকারি উদ্যোগে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, শারীরিকভাবে সক্ষমদের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিষ্ঠায় সুপারিশ তৈরির জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা।