দিনাজপুরে বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না চাল
jugantor
দিনাজপুরে বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না চাল

  দিনাজপুর ও নওগাঁ প্রতিনিধি  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধানের জেলা দিনাজপুরে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চাল বিক্রি হচ্ছে না। বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আর কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা একে অপরকে দুষছেন। চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিকরা দাম না কমালে আমরা কীভাবে কমাব। অপরদিকে মিল মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচার চেক করলেই বোঝা যাবে কারা বেশি দাম নিচ্ছেন। এদিকে মোটা চালের সংকটে নওগাঁয় চিকন চালের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে গেছে।

চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করে ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি সাড়ে ৫১ টাকা এবং আটাশ জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। পাশাপাশি ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ভালো মানের মিনিকেট ২ হাজার ৫৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের মোটা চালের দাম ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু বুধবার দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা এবং বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল। ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫২ থেকে ৫৪ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের মোটা চাল বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫১ টাকা।

চাল বিক্রেতারা জানান, সরকার মিলগেটে মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও মিল মালিকরা বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও গত এক মাস থেকেই প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বাড়াতে শুরু করেন মিল মালিকরা। এ কারণেই চালের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, সরকারের বেঁধে দেয়া দামে আমরা এখনও চাল পাচ্ছি না। বিভিন্ন মিল থেকে বিভিন্ন দামে চাল আনতে হচ্ছে। মিল মালিকদের কাছ থেকেই ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকা দরে। তাছাড়া মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে মিল মালিকরা বলছেন অন্যকথা। দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘এই অভিযোগের ভিত্তি নেই। কারণ আড়তদাররা যে দামে মিল থেকে চাল কিনছে, তার ভাউচার চেক করা হউক। তাহলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে, মিলাররা কি দামে চাল বিক্রি করে এবং কারা দাম বাড়িয়েছে।’

সরকারের বেঁধে দেয়া দামের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চালের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটা আরও আগে করলে ভালো হতো। তিনি জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার বাজারে ধানের দাম অনেক বেশি ছিল। আমরাও চাই চালের বাজার সহনশীল থাকুক। এজন্য চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানিতে উৎসাহিত করা এবং খোলাবাজারে চাল বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, ধানের দাম অনুসারে উৎপাদন খরচের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হয় চালের দাম। বর্তমানে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে দাম। আর এসবের কারণেই চালের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যতটুকু প্রয়োজন, সেই চাহিদা অনুযায়ী চাল আমদানি করা উচিত। এ ছাড়াও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নওগাঁয় চিকন চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে : নওগাঁর বাজারে মোটা চাল না থাকায় চিকন চালের দিকে ঝুঁকেছেন ভোক্তারা। এ কারণে গত ১৫ দিনে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০০-২৫০ টাকা দাম বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা। আর চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিু আয়ের মানুষ।

চালকল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় চালের উৎপাদন কমেছে। গত কয়েক দফায় বন্যার কারণে বাজারে ধানের সংকটে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। কোথাও মজুদ থাকলেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।

বুধবার নওগাঁ পৌর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাল জাতের চাল কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা; ১৫ দিন অগে বিক্রি হয় ৩৮-৩৯ টাকা। সাদা চাল কেজি ৪৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হয় ৪২-৪৩ টাকা। জিরাশাইল কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা আগে বিক্রি হয় ৪৬-৪৭ টাকা। ব্রিআর-২৮ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা; যা ১৫ দিন আগে বিক্রি হয় ৪০-৪২ টাকা। পারিজা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা; যা ১৫ দিন আগে বিক্রি হয় ৪৪ টাকা।

বাজারে মিনিকেট/জিরাশাইল প্রতি মণ ধানের ১ হাজার ২২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কাটারি ১ হাজার ১৮০ থেকে ১২শ টাকা, পারিজা নতুন ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা এবং ৫৬/৭৬ জাতের ধান ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি মণে ৫০-৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ পৌর খুচরা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকার বলেন, বাজারে মোটা চাল নেই। এতে চিকন চালের দাম বেড়েছে। প্রতিবছর এ মৌসুমে নতুন ধানের চাল বাজারে আসার আগে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে বন্যার কারণে বাজারে ধানের সংকটে চালের উৎপাদন কম হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নওগাঁ জেলা চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, অতি বর্ষণের ফলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তারা বাজারে ধান নিয়ে আসছেন না। ফলে বাজারে ধানের সংকট রয়েছে।

একদিকে চাহিদা বেড়ে গেছে, আরেকদিকে কমেছে উৎপাদন। সরবরাহ কমে যাওয়ায়ই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, চালকল চালানোর জন্য কিছু ধান মজুদ রাখা হয়। ধান না থাকলে চালকল চালানো সম্ভব না। বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বন্যা কমে গেলে ধান ও চালের বাজার কমে আসবে।

দিনাজপুরে বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না চাল

 দিনাজপুর ও নওগাঁ প্রতিনিধি 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ধানের জেলা দিনাজপুরে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চাল বিক্রি হচ্ছে না। বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আর কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা একে অপরকে দুষছেন। চাল বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিকরা দাম না কমালে আমরা কীভাবে কমাব। অপরদিকে মিল মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচার চেক করলেই বোঝা যাবে কারা বেশি দাম নিচ্ছেন। এদিকে মোটা চালের সংকটে নওগাঁয় চিকন চালের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে গেছে।

চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করে ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি সাড়ে ৫১ টাকা এবং আটাশ জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। পাশাপাশি ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ভালো মানের মিনিকেট ২ হাজার ৫৫০ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের মোটা চালের দাম ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু বুধবার দিনাজপুরের প্রধান চালের বাজার বাহাদুরবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা এবং বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল। ভালো মানের মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫২ থেকে ৫৪ টাকা এবং বিআর-২৮ জাতের মোটা চাল বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫১ টাকা।

চাল বিক্রেতারা জানান, সরকার মিলগেটে মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও মিল মালিকরা বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও গত এক মাস থেকেই প্রতি সপ্তাহে চালের দাম বাড়াতে শুরু করেন মিল মালিকরা। এ কারণেই চালের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। চাল বিক্রেতা লিয়াকত আলী জানান, সরকারের বেঁধে দেয়া দামে আমরা এখনও চাল পাচ্ছি না। বিভিন্ন মিল থেকে বিভিন্ন দামে চাল আনতে হচ্ছে। মিল মালিকদের কাছ থেকেই ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকা দরে। তাছাড়া মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে মিল মালিকরা বলছেন অন্যকথা। দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির নেতা সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘এই অভিযোগের ভিত্তি নেই। কারণ আড়তদাররা যে দামে মিল থেকে চাল কিনছে, তার ভাউচার চেক করা হউক। তাহলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে, মিলাররা কি দামে চাল বিক্রি করে এবং কারা দাম বাড়িয়েছে।’

সরকারের বেঁধে দেয়া দামের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চালের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটা আরও আগে করলে ভালো হতো। তিনি জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার বাজারে ধানের দাম অনেক বেশি ছিল। আমরাও চাই চালের বাজার সহনশীল থাকুক। এজন্য চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানিতে উৎসাহিত করা এবং খোলাবাজারে চাল বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দিনাজপুর জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, ধানের দাম অনুসারে উৎপাদন খরচের ভিত্তিতেই নির্ধারণ হয় চালের দাম। বর্তমানে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে দাম। আর এসবের কারণেই চালের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে যতটুকু প্রয়োজন, সেই চাহিদা অনুযায়ী চাল আমদানি করা উচিত। এ ছাড়াও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নওগাঁয় চিকন চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে : নওগাঁর বাজারে মোটা চাল না থাকায় চিকন চালের দিকে ঝুঁকেছেন ভোক্তারা। এ কারণে গত ১৫ দিনে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০০-২৫০ টাকা দাম বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪-৫ টাকা। আর চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিু আয়ের মানুষ।

চালকল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় চালের উৎপাদন কমেছে। গত কয়েক দফায় বন্যার কারণে বাজারে ধানের সংকটে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। কোথাও মজুদ থাকলেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে।

বুধবার নওগাঁ পৌর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাল জাতের চাল কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা; ১৫ দিন অগে বিক্রি হয় ৩৮-৩৯ টাকা। সাদা চাল কেজি ৪৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হয় ৪২-৪৩ টাকা। জিরাশাইল কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা আগে বিক্রি হয় ৪৬-৪৭ টাকা। ব্রিআর-২৮ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকা; যা ১৫ দিন আগে বিক্রি হয় ৪০-৪২ টাকা। পারিজা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা; যা ১৫ দিন আগে বিক্রি হয় ৪৪ টাকা।

বাজারে মিনিকেট/জিরাশাইল প্রতি মণ ধানের ১ হাজার ২২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কাটারি ১ হাজার ১৮০ থেকে ১২শ টাকা, পারিজা নতুন ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা এবং ৫৬/৭৬ জাতের ধান ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি মণে ৫০-৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ পৌর খুচরা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকার বলেন, বাজারে মোটা চাল নেই। এতে চিকন চালের দাম বেড়েছে। প্রতিবছর এ মৌসুমে নতুন ধানের চাল বাজারে আসার আগে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে বন্যার কারণে বাজারে ধানের সংকটে চালের উৎপাদন কম হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নওগাঁ জেলা চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, অতি বর্ষণের ফলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তারা বাজারে ধান নিয়ে আসছেন না। ফলে বাজারে ধানের সংকট রয়েছে।

একদিকে চাহিদা বেড়ে গেছে, আরেকদিকে কমেছে উৎপাদন। সরবরাহ কমে যাওয়ায়ই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, চালকল চালানোর জন্য কিছু ধান মজুদ রাখা হয়। ধান না থাকলে চালকল চালানো সম্ভব না। বাজারে ধানের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বন্যা কমে গেলে ধান ও চালের বাজার কমে আসবে।