প্রেমে রাজি না হওয়ায় নীলাকে ছুরিকাঘাত
jugantor
প্রেমে রাজি না হওয়ায় নীলাকে ছুরিকাঘাত
-১৬৪ ধারায় মিজান

  হাসিব বিন শহিদ  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাভারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলা রায়কে (১৪) ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা আদালতকে জানিয়েছে তার ঘাতক মিজানুর রহমান চৌধুরী (২১)। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসানের কাছে বৃহস্পতিবার ১৬৪ ধারায় ওই স্বীকারোক্তি দেয় সে। মিজানুর জানায়, ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল নীলার সঙ্গে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার দুই বন্ধু সাকিব ও সেলিম নীলাকে হত্যার পরামর্শ দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মিজানুরকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাসফিকুল ইসলাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জবানবন্দি গ্রহণের নির্দেশ দেন। রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর বাবুল যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে মিজানুর জানায়, সে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। ফেসবুকের মাধ্যমে নীলার সঙ্গে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে প্রায়ই অ্যাসেড স্কুলের গেটে গিয়ে নীলার সঙ্গে দেখা করত। নীলাকে পছন্দ করায় মিজানুরের বাবা-মা দুই মাস আগে তাকে (মিজানুর) বিয়ে করিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পরও নীলাকে ভুলতে পারেননি মিজানুর। তাই বারবার নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু নীলা তা প্রত্যাখ্যান করে। বিষয়টি মিজানুর তার স্কুল বন্ধু সাকিব ও সেলিমকে জানায়। তারা তিনজন (মিজানুর, সাকিব ও সেলিম) একসঙ্গে ইয়াবা গ্রহণ করে থাকে। এমনই এক আসরে সাকিব ও সেলিম মিজানুরকে বলে, ‘নীলা রাজি না হলে তাকে শেষ করে ফেলতে হবে।’

মিজানুর আদালতে আরও জানায়, লকডাউনের কারণে নীলা বাসা থেকে কম বের হতো। তাই সে সুযোগ খুঁজতে থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে নীলা তার ভাই অলককে নিয়ে অক্সিজেন কেনার জন্য রিকশায় যাচ্ছিল। এটা দেখে মিজানুর নীলার রিকশা থামায়। পরে তারা স্থানীয় এক চাইনিজ হোটেলে খাবার খায়। খাওয়া শেষে মিজানুরের বাবার পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে এলে কথা আছে বলে নীলাকে মিজানুর ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে ঢুকিয়ে মিজানুর নীলাকে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। নীলা তা প্রত্যাখ্যান করার সঙ্গে সঙ্গে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নীলাকে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সুইচ গিয়ার চাকু বন্ধু সাকিব দিয়েছিল বলে জানায় মিজানুর।

মিজানুর আরও জানায়, ছুরিকাঘাতের আগমুহূর্তে বন্ধু সেলিমকে ফোন দিলে সে বলে, আজই কাজ শেষ করতে হবে। নীলাকে হত্যা করে মিজানুর বাসে উঠে হেমায়েতপুরের দিকে চলে যায় এবং সুইচ গিয়ার চাকুটি উলাইল বাসস্ট্যান্ডে ফেলে দেয়।

পুলিশ ২৬ সেপ্টেম্বর মিজানুরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই মিজানুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল। নীলা হত্যার ঘটনায় তার বাবা নারায়ণ রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় মিজানুরের বাবা আবদুর রহমান, মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকা ও সহযোগী সেলিম পাহলান রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।

প্রেমে রাজি না হওয়ায় নীলাকে ছুরিকাঘাত

-১৬৪ ধারায় মিজান
 হাসিব বিন শহিদ 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাভারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নীলা রায়কে (১৪) ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা আদালতকে জানিয়েছে তার ঘাতক মিজানুর রহমান চৌধুরী (২১)। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসানের কাছে বৃহস্পতিবার ১৬৪ ধারায় ওই স্বীকারোক্তি দেয় সে। মিজানুর জানায়, ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল নীলার সঙ্গে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার দুই বন্ধু সাকিব ও সেলিম নীলাকে হত্যার পরামর্শ দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মিজানুরকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাসফিকুল ইসলাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জবানবন্দি গ্রহণের নির্দেশ দেন। রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবীর বাবুল যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে মিজানুর জানায়, সে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। ফেসবুকের মাধ্যমে নীলার সঙ্গে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে প্রায়ই অ্যাসেড স্কুলের গেটে গিয়ে নীলার সঙ্গে দেখা করত। নীলাকে পছন্দ করায় মিজানুরের বাবা-মা দুই মাস আগে তাকে (মিজানুর) বিয়ে করিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের পরও নীলাকে ভুলতে পারেননি মিজানুর। তাই বারবার নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু নীলা তা প্রত্যাখ্যান করে। বিষয়টি মিজানুর তার স্কুল বন্ধু সাকিব ও সেলিমকে জানায়। তারা তিনজন (মিজানুর, সাকিব ও সেলিম) একসঙ্গে ইয়াবা গ্রহণ করে থাকে। এমনই এক আসরে সাকিব ও সেলিম মিজানুরকে বলে, ‘নীলা রাজি না হলে তাকে শেষ করে ফেলতে হবে।’

মিজানুর আদালতে আরও জানায়, লকডাউনের কারণে নীলা বাসা থেকে কম বের হতো। তাই সে সুযোগ খুঁজতে থাকে। ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে নীলা তার ভাই অলককে নিয়ে অক্সিজেন কেনার জন্য রিকশায় যাচ্ছিল। এটা দেখে মিজানুর নীলার রিকশা থামায়। পরে তারা স্থানীয় এক চাইনিজ হোটেলে খাবার খায়। খাওয়া শেষে মিজানুরের বাবার পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে এলে কথা আছে বলে নীলাকে মিজানুর ওই বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে ঢুকিয়ে মিজানুর নীলাকে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। নীলা তা প্রত্যাখ্যান করার সঙ্গে সঙ্গে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নীলাকে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সুইচ গিয়ার চাকু বন্ধু সাকিব দিয়েছিল বলে জানায় মিজানুর।

মিজানুর আরও জানায়, ছুরিকাঘাতের আগমুহূর্তে বন্ধু সেলিমকে ফোন দিলে সে বলে, আজই কাজ শেষ করতে হবে। নীলাকে হত্যা করে মিজানুর বাসে উঠে হেমায়েতপুরের দিকে চলে যায় এবং সুইচ গিয়ার চাকুটি উলাইল বাসস্ট্যান্ডে ফেলে দেয়।

পুলিশ ২৬ সেপ্টেম্বর মিজানুরকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই মিজানুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল। নীলা হত্যার ঘটনায় তার বাবা নারায়ণ রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় মিজানুরের বাবা আবদুর রহমান, মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকা ও সহযোগী সেলিম পাহলান রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।