কাউন্সিলর ওসিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শুরু
jugantor
চট্টগ্রামে ভুল তথ্যে ‘ক্রসফায়ারে’ স্কুলছাত্রকে হত্যা
কাউন্সিলর ওসিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শুরু

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ভুল তথ্যে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্কুলছাত্র জয়নাল আবেদিন (১৭) নিহতের ঘটনায় কাউন্সিলর ও ওসিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শুরু করছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার নথিপত্র গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর) পৌঁছেছে। আজ থেকে শুরু হবে মামলার তদন্ত কাজ। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছেন ডিসি-ডিবি উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আলী হোসেন। আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। জয়নাল বায়েজিদ থানাধীন

আমিন জুট মিল সংলগ্ন আতুরার ডিপো এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একটি মারামারির ঘটনায় এ মামলা করা হয়। মামলার একজন আসামি ছিলেন জয়নাল। মামলার আসামি ভেবে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ গিয়ে স্কুলছাত্র জয়নালকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীর পরামর্শে তাকে তুলে আনার পর রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জয়নাল। এদিকে ২০১৮ সালে করা মারামারির ওই মামলার চার্জশিট থেকে আসামি জয়নালকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। এতে বলা হয়, বন্দুকযুদ্ধে জয়নাল নিহত হয়েছেন।

কিন্তু ওই মামলার প্রকৃত আসামি জয়নাল আদালতে হাজির হয়ে জানান, তিনি মারা যাননি। এ ঘটনায় পুলিশের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। মূলত যে মামলার আসামি সন্দেহে স্কুলছাত্র জয়নালকে তুলে নিয়ে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা হয় সে মামলার প্রকৃত আসামি জয়নাল এখনও বেঁচে আছেন। তাই তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনা জানার পরই নিহত স্কুলছাত্র জয়নালের মা জোহরা বেগম বাদী হয়ে গত ৭ অক্টোবর ৭ নম্বর ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী, বায়েজিদ বোস্তামী থানার সাবেক ওসি আতাউর রহমান খন্দকার (বর্তমানে চান্দগাঁও থানার ওসি), এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, এসআই নোমান, এসআই দীপঙ্কর রায় ও কনস্টেবল মাসুদ রানা। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে পুলিশের সোর্স আলাউদ্দিন, ফোরকান, ইলিয়াস, মিঠু কুমার দে, হারুন ও লাল সুমন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১২-১৫ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৬৪/৩৪২/৩৪/৫০৬ দণ্ডবিধি ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন।

ডিবি (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার আলী হোসেন যুগান্তরকে জানান, বন্দুকযুদ্ধে স্কুলছাত্র জয়নালের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার কাগজপত্র বৃহস্পতিবার আদালত থেকে আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এখন মামলার তদন্ত কাজ শুরু করব। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনাই হবে প্রধান কাজ।

জয়নালের মা জোহরা বেগম মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট রাতে কাউন্সিলর মোবারক আলীর পিএস শামসু পুলিশের সোর্স ইলিয়াস ও মিঠু কুমার দে জোহরা বেগমের বাসায় আসেন। এ সময় আসামিরা আমিন জুট মিলে ২০১৮ সালে সংঘটিত মারামারিতে জয়নাল ছিল কি না তার কাছে জানতে চান। জয়নাল মারামারিতে না থাকার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানে না বলেও জানান জোহরা বেগম। পরে আসামিরা জয়নালের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করে বেরিয়ে যায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুটি মোটরসাইকেল, ১টি মাইক্রোবাস ও ৩টি পুলিশের গাড়িতে করে ২৫-৩০ জন পুলিশ ও সিভিল ড্রেসে লোকজন এসে জোহরা বেগমের বাসা ঘিরে ফেলে।

পুলিশ দরজা ধাক্কা দিলে জোহরা বেগমের স্বামী দরজা খুলে দেন। এ সময় বাসার ভেতর থেকে জোর করে জয়নালকে ধরে নিয়ে যায় তারা। পরদিন জোহরা বেগম বায়েজিদ বোস্তামী থানায় গিয়ে তার ছেলে জয়নালের খোঁজ করেন। দায়িত্বরত পুলিশ লোকজন জয়নালের ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জোহরা বেগমকে জানান। পরে জয়নালের মা জোহরা বেগম কাউন্সিলর মোবারক আলীর পিএস শামসুকে ফোন করেন। শামসু কিছু টাকা নিয়ে তার অফিসে আসার জন্য জোহরা বেগমকে বলেন। এরপর মামলার বাদী জোহরা বেগম ৫ হাজার টাকা নিয়ে কাউন্সিলর অফিসে গেলে শামসু ওই টাকা নিয়ে থানায় যাওয়ার জন্য বলেন। তিন ঘণ্টা পর আসামিরা জয়নাল থানার ভেতর নেই বলে জানান এবং জোহরা বেগমকে চলে যেতে বলেন।

পরবর্তীতে ছেলের খোঁজে আসামিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাদী জোহরা বেগমকে কাউন্সিলর অফিসে আসার জন্য বলে আসামিরা। বেলা ৩টা নাগাদ বাদী সেখানে গেলে কাউন্সিলর অফিসের একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়। রাত ৯টায় জোহরা বেগমকে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জোহরা বাসায় ফিরে আসেন। পরদিন রাত ৩টায় জোহরা বেগমের বাসায় তিনজন অজ্ঞাত লোক এসে জয়নালের জন্য রক্ত প্রয়োজন জানিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলে। জোহরা বেগম হাসপাতালে গেলে সেখানে তার ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় জয়নালের মা জোহরা বেগম থানায় মামলা করতে গেলে তখন পুলিশ মামলা নেয়নি।

চট্টগ্রামে ভুল তথ্যে ‘ক্রসফায়ারে’ স্কুলছাত্রকে হত্যা

কাউন্সিলর ওসিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শুরু

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ভুল তথ্যে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ স্কুলছাত্র জয়নাল আবেদিন (১৭) নিহতের ঘটনায় কাউন্সিলর ও ওসিসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শুরু করছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার নথিপত্র গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর) পৌঁছেছে। আজ থেকে শুরু হবে মামলার তদন্ত কাজ। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছেন ডিসি-ডিবি উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আলী হোসেন। আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। জয়নাল বায়েজিদ থানাধীন

আমিন জুট মিল সংলগ্ন আতুরার ডিপো এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একটি মারামারির ঘটনায় এ মামলা করা হয়। মামলার একজন আসামি ছিলেন জয়নাল। মামলার আসামি ভেবে ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ গিয়ে স্কুলছাত্র জয়নালকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলীর পরামর্শে তাকে তুলে আনার পর রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জয়নাল। এদিকে ২০১৮ সালে করা মারামারির ওই মামলার চার্জশিট থেকে আসামি জয়নালকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। এতে বলা হয়, বন্দুকযুদ্ধে জয়নাল নিহত হয়েছেন।

কিন্তু ওই মামলার প্রকৃত আসামি জয়নাল আদালতে হাজির হয়ে জানান, তিনি মারা যাননি। এ ঘটনায় পুলিশের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। মূলত যে মামলার আসামি সন্দেহে স্কুলছাত্র জয়নালকে তুলে নিয়ে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা হয় সে মামলার প্রকৃত আসামি জয়নাল এখনও বেঁচে আছেন। তাই তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনা জানার পরই নিহত স্কুলছাত্র জয়নালের মা জোহরা বেগম বাদী হয়ে গত ৭ অক্টোবর ৭ নম্বর ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোবারক আলী, বায়েজিদ বোস্তামী থানার সাবেক ওসি আতাউর রহমান খন্দকার (বর্তমানে চান্দগাঁও থানার ওসি), এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, এসআই নোমান, এসআই দীপঙ্কর রায় ও কনস্টেবল মাসুদ রানা। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে পুলিশের সোর্স আলাউদ্দিন, ফোরকান, ইলিয়াস, মিঠু কুমার দে, হারুন ও লাল সুমন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১২-১৫ জনকে এ মামলায় আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৬৪/৩৪২/৩৪/৫০৬ দণ্ডবিধি ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন।

ডিবি (উত্তর) বিভাগের উপকমিশনার আলী হোসেন যুগান্তরকে জানান, বন্দুকযুদ্ধে স্কুলছাত্র জয়নালের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার কাগজপত্র বৃহস্পতিবার আদালত থেকে আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এখন মামলার তদন্ত কাজ শুরু করব। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনাই হবে প্রধান কাজ।

জয়নালের মা জোহরা বেগম মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট রাতে কাউন্সিলর মোবারক আলীর পিএস শামসু পুলিশের সোর্স ইলিয়াস ও মিঠু কুমার দে জোহরা বেগমের বাসায় আসেন। এ সময় আসামিরা আমিন জুট মিলে ২০১৮ সালে সংঘটিত মারামারিতে জয়নাল ছিল কি না তার কাছে জানতে চান। জয়নাল মারামারিতে না থাকার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানে না বলেও জানান জোহরা বেগম। পরে আসামিরা জয়নালের কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করে বেরিয়ে যায়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুটি মোটরসাইকেল, ১টি মাইক্রোবাস ও ৩টি পুলিশের গাড়িতে করে ২৫-৩০ জন পুলিশ ও সিভিল ড্রেসে লোকজন এসে জোহরা বেগমের বাসা ঘিরে ফেলে।

পুলিশ দরজা ধাক্কা দিলে জোহরা বেগমের স্বামী দরজা খুলে দেন। এ সময় বাসার ভেতর থেকে জোর করে জয়নালকে ধরে নিয়ে যায় তারা। পরদিন জোহরা বেগম বায়েজিদ বোস্তামী থানায় গিয়ে তার ছেলে জয়নালের খোঁজ করেন। দায়িত্বরত পুলিশ লোকজন জয়নালের ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জোহরা বেগমকে জানান। পরে জয়নালের মা জোহরা বেগম কাউন্সিলর মোবারক আলীর পিএস শামসুকে ফোন করেন। শামসু কিছু টাকা নিয়ে তার অফিসে আসার জন্য জোহরা বেগমকে বলেন। এরপর মামলার বাদী জোহরা বেগম ৫ হাজার টাকা নিয়ে কাউন্সিলর অফিসে গেলে শামসু ওই টাকা নিয়ে থানায় যাওয়ার জন্য বলেন। তিন ঘণ্টা পর আসামিরা জয়নাল থানার ভেতর নেই বলে জানান এবং জোহরা বেগমকে চলে যেতে বলেন।

পরবর্তীতে ছেলের খোঁজে আসামিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাদী জোহরা বেগমকে কাউন্সিলর অফিসে আসার জন্য বলে আসামিরা। বেলা ৩টা নাগাদ বাদী সেখানে গেলে কাউন্সিলর অফিসের একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়। রাত ৯টায় জোহরা বেগমকে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর জোহরা বাসায় ফিরে আসেন। পরদিন রাত ৩টায় জোহরা বেগমের বাসায় তিনজন অজ্ঞাত লোক এসে জয়নালের জন্য রক্ত প্রয়োজন জানিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলে। জোহরা বেগম হাসপাতালে গেলে সেখানে তার ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় জয়নালের মা জোহরা বেগম থানায় মামলা করতে গেলে তখন পুলিশ মামলা নেয়নি।