৭০ ধারা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বিকলাঙ্গ করেছে
jugantor
৭০ ধারা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বিকলাঙ্গ করেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ ধারা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বিকলাঙ্গ করেছে।

৭০ ধারার কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে না। আর এ কারণেই সংসদে এক নায়কতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ’৯০ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু ’৯১ সালে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানই সরকার প্রধান হচ্ছেন, তিনি যা বলবেন তাই হবে। কারণ, দলের বাইরে কথা বললে সংসদ সদস্যের পদ চলে যাবে।

সোমবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় শ্রমিক পার্টির যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টি হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে যেমন উন্নয়ন করেছে ঠিক, তেমনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মনে কষ্ট দিয়েছে। দেশের মানুষ উন্নয়নের কথা বেশি দিন মনে রাখে না কিন্তু কষ্টের কথা দীর্ঘদিন মনে রাখে। তিনি বলেন, আবার বিএনপি চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষও বিএনপিকে নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পার্টি হচ্ছে জনগণের আস্থার একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণ চায় জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হোক, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করুক।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাই অপরাধ প্রবণতা রোধ করতে পারছে না সরকার। প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে অপরাধীদের বিচার হয়েছে।

প্রমাণ হয়েছে শুধু জাতীয় পার্টিই দেশে উন্নয়ন এবং সুশাসন দিতে পারে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। জাতীয় পার্টি বিকাশমান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আসরাফুজ্জামান, সভা পরিচালনা করেন জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ শান্ত। আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুস সালাম, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, জাতীয় শ্রমিক পার্টির কাজী মেহতাব উদ্দিন জসীম, আলহাজ আবদুল আজিজ, আব্বাস আলী মণ্ডল, মো. শাহজাহান, শহিদুল আলম শহীদ, মিজান তালুকদার।

পুনর্নির্বাচন দাবি জাপা প্রার্থীর : ঢাকা-৫ উপনির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন লাঙ্গলের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির উদ্দিন ঢালু, ফখরুল আহসান শাহাজাদাসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মীর আবদুস সবুর আসুদের অভিযোগ, ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি। আর যারা ঢুকেছিল তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটার তো দূরের কথা আমাদের কোনো এজেন্টকেও ভোট দিতে দেননি সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাংরা। এরা সরকারি প্রশ্রয়ে প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে রেখেছিল। পুলিশ প্রশাসন তা দেখেও কোনো ভূমিকা নেয়নি। সেদিন আমাদের সব কর্মীর জীবন ছিল হুমকির মুখে। আসুদ বলেন, বর্তমান পরিবেশে কোনো সভ্য ও ভদ্র মানুষের পক্ষে নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এমপি বাবলা হাসপাতালে : ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি হাসপাতালের প্রফেসর এবিএম সারোয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে আছেন। বাবলার রাজনৈতিক সচিব সুজন দে জানান, জ্বর ও শরীর ব্যথার উপসর্গ থাকার কারণে শুক্রবার সকালে বাবলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়ার পর শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। এছাড়া বাবলাকে করোনা পরীক্ষাও করানো হয়। বাবলার সহধর্মিণী সালমা হোসেন তার আশু রোগমুক্তি কামনায় সবার দোয়া কামনা করেছেন।

৭০ ধারা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বিকলাঙ্গ করেছে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ ধারা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাকে বিকলাঙ্গ করেছে।

৭০ ধারার কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে না। আর এ কারণেই সংসদে এক নায়কতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ’৯০ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। কিন্তু ’৯১ সালে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধানই সরকার প্রধান হচ্ছেন, তিনি যা বলবেন তাই হবে। কারণ, দলের বাইরে কথা বললে সংসদ সদস্যের পদ চলে যাবে।

সোমবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় শ্রমিক পার্টির যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় পার্টি হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক শক্তি। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে যেমন উন্নয়ন করেছে ঠিক, তেমনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মনে কষ্ট দিয়েছে। দেশের মানুষ উন্নয়নের কথা বেশি দিন মনে রাখে না কিন্তু কষ্টের কথা দীর্ঘদিন মনে রাখে। তিনি বলেন, আবার বিএনপি চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষও বিএনপিকে নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পার্টি হচ্ছে জনগণের আস্থার একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণ চায় জাতীয় পার্টি আরও শক্তিশালী হোক, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করুক।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাই অপরাধ প্রবণতা রোধ করতে পারছে না সরকার। প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে অপরাধীদের বিচার হয়েছে।

 

প্রমাণ হয়েছে শুধু জাতীয় পার্টিই দেশে উন্নয়ন এবং সুশাসন দিতে পারে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। জাতীয় পার্টি বিকাশমান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আসরাফুজ্জামান, সভা পরিচালনা করেন জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ শান্ত। আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আজম খান, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুস সালাম, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, জাতীয় শ্রমিক পার্টির কাজী মেহতাব উদ্দিন জসীম, আলহাজ আবদুল আজিজ, আব্বাস আলী মণ্ডল, মো. শাহজাহান, শহিদুল আলম শহীদ, মিজান তালুকদার।

পুনর্নির্বাচন দাবি জাপা প্রার্থীর : ঢাকা-৫ উপনির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন লাঙ্গলের প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির উদ্দিন ঢালু, ফখরুল আহসান শাহাজাদাসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মীর আবদুস সবুর আসুদের অভিযোগ, ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি। আর যারা ঢুকেছিল তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। সাধারণ ভোটার তো দূরের কথা আমাদের কোনো এজেন্টকেও ভোট দিতে দেননি সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাংরা। এরা সরকারি প্রশ্রয়ে প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে রেখেছিল। পুলিশ প্রশাসন তা দেখেও কোনো ভূমিকা নেয়নি। সেদিন আমাদের সব কর্মীর জীবন ছিল হুমকির মুখে। আসুদ বলেন, বর্তমান পরিবেশে কোনো সভ্য ও ভদ্র মানুষের পক্ষে নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এমপি বাবলা হাসপাতালে : ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি হাসপাতালের প্রফেসর এবিএম সারোয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে আছেন। বাবলার রাজনৈতিক সচিব সুজন দে জানান, জ্বর ও শরীর ব্যথার উপসর্গ থাকার কারণে শুক্রবার সকালে বাবলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়ার পর শারীরিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত। এছাড়া বাবলাকে করোনা পরীক্ষাও করানো হয়। বাবলার সহধর্মিণী সালমা হোসেন তার আশু রোগমুক্তি কামনায় সবার দোয়া কামনা করেছেন।