ওয়ারীতে তালহা হত্যা

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সন্দেহভাজন প্রধান আসামি রাকিব

নাম-ঠিকানা জেনেও সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ও বয়স ২২, স্বজনের দাবি ১৫

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ওয়ারীর জয়কালী মন্দির এলাকায় শুক্রবার রাত ৩টার দিকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাকিব নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ও তার বয়স ২২ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাকিবের জš§সনদ দেখিয়ে তার স্বজনরা জানিয়েছেন, রাকিবের বয়স ১৫। পুলিশ তার নাম-ঠিকানা জানত।

পুলিশ জানিয়েছে, রাকিব ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র খন্দকার আবু তালহা হত্যার প্রধান আসামি। গত বছরের ৮ অক্টোবর তালহাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। তালহা হত্যায় গ্রেফতার হওয়া সবুজ এবং মিলন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রাকিবের নাম উল্লেখ করেছে। স্বীকারোক্তিতে তারা জানায়, রাকিবের ছুরিকাঘাতেই তালহার মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে রাকিবের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, রাকিব কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল না। পুলিশ তাকে আগেই ধরে নিয়ে যায়। পরে ক্রসফায়ার নাটক সাজায়। ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ২ এপ্রিল জয়কালী মন্দির এলাকায় মোক্তার নামে একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রাকিব তার ১০-১২ সহযোগী নিয়ে একই এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ খবর পেয়ে অভিযানে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে রাকিব ও তার সহযোগীরা গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে রাকিব নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে জাকির হোসেন (২০) ও সাহেদ হোসেন সীমান্ত ওরফে ধলা (১৮) নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি চাপাতি, দুটি ছোরা ও একটা চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, তালহা হত্যার ২ দিন পর গত বছরের ১০ অক্টোবর ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তার নামে মামলাও হয়। তখন আমরা বুঝতে পারিনি যে তালহা হত্যার সঙ্গে জড়িত এ রাকিব। কারণ তালহা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছিল ঘটনার ১৬ দিন পর। ওসি জানান, ছিনতাইয়ের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। নিহত রাকিবের বাবা মহসিন হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, রাকিবের জন্ম ২০১৩ সালের ১ ফেব্র“য়ারি হলেও সুরতহাল প্রতিবেদনে বয়স লেখা হয়েছে ২২ বছর। আগে থেকেই পুলিশ আমার ছেলের নাম-ঠিকানা জানত। তারপরও সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘অজ্ঞাত’ লেখা হয়। তিনি বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ছেলে বাসায় রাতের খাবার খাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ ১১ নম্বর ওয়ারীতে অবস্থিত (সুপার হোটেলের পেছনে) আমার বাসায় হানা দেয়। পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে রাকিবকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার আমার স্ত্রী রিতা থানায় গিয়েছিল। থানা পুলিশ তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। রিতা তার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও থানা পুলিশ সে সুযোগ দেয়নি।

রাকিবের নানা কাপ্তানবাজার আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল লতিফ জানান, রাকিবের বাবা সিনেমা প্রযোজনার সঙ্গে জড়িত। তার বাবার ‘ভালো আমাকে বাসতেই হবে’ ছবিতে শিশু চরিত্রে অভিনয়ও করে রাকিব। রাকিবকে ক্রসফায়ারে দেয়ার পর পুলিশ অনেক মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। তিনি জানান, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রাকিব ছিল চতুর্থ। তার ছোট ভাইয়ের বয়স ৩-৪ বছর। তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার কলমা গ্রামে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter