পদ্মা সেতুতে বসল ৩৪তম স্প্যান
jugantor
পদ্মা সেতুতে বসল ৩৪তম স্প্যান

  যুগান্তর রিপোর্ট, মুন্সীগঞ্জ  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুতে ৩৪তম স্প্যান ‘টু-এ’ বসানো শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রচেষ্টায় রোববার সকাল ১০টার পর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৭ ও ৮নং পিয়ারের উপর বসানো হয় স্প্যানটি। এতে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ১০০ মিটার অর্থাৎ ৫.১ কিলোমিটার। ৩৩তম স্প্যান বসানোর ৬ দিনের মাথায় ৩৪তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ের ব্যবধানে ৩৪তম স্প্যান বসানো হয়। এর আগে শনিবার স্প্যানটি বসানোর পরিকল্পনা করা হলেও দিনভর চেষ্টা করেও বৈরী আবহওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) মো. আবদুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার বিকালে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে মডিউল নং ২ এর স্প্যানটি ভাসমান ক্রেনের সাহায্য নির্ধারিত পিয়ারের কাছে নোঙর করা হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে পরে স্প্যানটি উপরে তোলা যায়নি। রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ক্রেনটির সাহায্যে পুনরায় পজিশন অনুযায়ী ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘের স্প্যানটি তোলার চেষ্টা করা হয়। এতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৭ ও ৮নং পিয়ারের থাকা ভূমিকম্প সহনশীল বিয়ারিংয়ের উপর স্প্যানটি বসানো হয়।

এদিকে ৩৪তম স্প্যান বসে যাওয়ায় সেতুতে বাকি রয়েছে আরও ৭টি স্প্যান। যেগুলো সেতুর মাওয়া প্রান্তে বসানো হবে। ইতোমধ্যেই জাজিরা প্রান্তের সব স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে ১৯ অক্টোবর পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছিল ৩৩তম স্প্যান।

জানা গেছে, ৩৪তম স্প্যানের পরে ৩০ অক্টোবর ২ এবং ৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৫তম স্প্যান, নভেম্বরের ৪ তারিখ ৩৬তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান বাসানোর নির্দেশনা রয়েছে সেতু সচিবের।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৩টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৪ হাজার ৯৫০ মিটার মিটার অংশ।

৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবক’টি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।

পদ্মা সেতুতে বসল ৩৪তম স্প্যান

 যুগান্তর রিপোর্ট, মুন্সীগঞ্জ 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুতে ৩৪তম স্প্যান ‘টু-এ’ বসানো শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের প্রচেষ্টায় রোববার সকাল ১০টার পর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৭ ও ৮নং পিয়ারের উপর বসানো হয় স্প্যানটি। এতে দৃশ্যমান হয় সেতুর ৫ হাজার ১০০ মিটার অর্থাৎ ৫.১ কিলোমিটার। ৩৩তম স্প্যান বসানোর ৬ দিনের মাথায় ৩৪তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ের ব্যবধানে ৩৪তম স্প্যান বসানো হয়। এর আগে শনিবার স্প্যানটি বসানোর পরিকল্পনা করা হলেও দিনভর চেষ্টা করেও বৈরী আবহওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) মো. আবদুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার বিকালে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে মডিউল নং ২ এর স্প্যানটি ভাসমান ক্রেনের সাহায্য নির্ধারিত পিয়ারের কাছে নোঙর করা হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের কারণে পরে স্প্যানটি উপরে তোলা যায়নি। রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ক্রেনটির সাহায্যে পুনরায় পজিশন অনুযায়ী ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘের স্প্যানটি তোলার চেষ্টা করা হয়। এতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৭ ও ৮নং পিয়ারের থাকা ভূমিকম্প সহনশীল বিয়ারিংয়ের উপর স্প্যানটি বসানো হয়।

এদিকে ৩৪তম স্প্যান বসে যাওয়ায় সেতুতে বাকি রয়েছে আরও ৭টি স্প্যান। যেগুলো সেতুর মাওয়া প্রান্তে বসানো হবে। ইতোমধ্যেই জাজিরা প্রান্তের সব স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে ১৯ অক্টোবর পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছিল ৩৩তম স্প্যান।

জানা গেছে, ৩৪তম স্প্যানের পরে ৩০ অক্টোবর ২ এবং ৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৫তম স্প্যান, নভেম্বরের ৪ তারিখ ৩৬তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব স্প্যান বাসানোর নির্দেশনা রয়েছে সেতু সচিবের।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৩টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৪ হাজার ৯৫০ মিটার মিটার অংশ।

৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবক’টি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।