কুমিল্লায় করোনার সনদ পেতে নাজেহাল ৬ জেলার প্রবাসীরা
jugantor
কুমিল্লায় করোনার সনদ পেতে নাজেহাল ৬ জেলার প্রবাসীরা

  কুমিল্লা ব্যুরো  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং সনদ পেতে ছয় জেলার প্রবাসীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার পর সনদ দেয়া হচ্ছে। এসব পরীক্ষা এবং সনদ পেতে চরম নাজেহাল হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ও নমুনা সংগ্রহে ধীরগতি, রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানিসহ নানা জটিলতা পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলমান এ ভাইরাসে বিদেশগামীদের জন্য কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনা সনদ নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের কেলেঙ্কারি বহির্বিশ্বে ব্যাপক সমালোচিত হওয়ায় সরকার যথাযথ পরীক্ষা এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সনদ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সব জেলায় প্রবাসীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে একটি বুথ চালু করা হয়েছে। প্রতিদিনই ছয় জেলা থেকে আগত প্রবাসীরা করোনার সনদ পেতে ওই হাসপাতালে জড়ো হচ্ছেন। তারা নমুনা দেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি করছেন। একটি মাত্র বুথে তাদের কাছ থেকে নমুনা পরীক্ষার আবেদন ফরম ও পরীক্ষার ফি বাবদ এক হাজার ৫০০ টাকা নিচ্ছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল টেকনিশিয়ান। সেখানে নমুনা সংগ্রহ এবং সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চরম ধীরগতিতে আবেদন গ্রহণ এবং সনদ প্রদানে নাজেহাল করা হচ্ছে। আবেদন গ্রহণে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। এসব কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিদেশগামীরা।

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার গতিয়া সোনাপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী শাহজাহান বলেন, করোনার পরীক্ষা এবং সনদ পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। এখানে প্রবাসীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। ছয় জেলার প্রবাসীদের জন্য মাত্র একটি বুথে আবেদন নেয়া হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে প্রবাসীরা এসে দাঁড়িয়ে থাকেন, আবেদন সংগ্রহকারীরা আসেন বেলা ১১টার দিকে। দুপুরের পর তারা আবেদন গ্রহণ করতে চান না। এসব কারণে অনেকের বিদেশযাত্রা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের প্রবাসী বিল্লাল হোসেন বলেন, এভাবে বিদেশগামীদের হয়রানি আর কষ্ট দেয়ার কোনো মানে হয় না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, হয় এখানে আরও কয়েকটি বুথ বাড়ানো হোক, না হয় প্রতিটি জেলায় নমুনা সংগ্রহ করে করোনা সনদ দেয়া হোক। কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, কাগজপত্র পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন ফি জমা নেয়া ও করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় সঠিক সময়ের মধ্যে অনেককে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি একশ’ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে অন্তত ১০ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসছে। পজিটিভ আসা ব্যক্তিদের যাত্রা বাতিল হচ্ছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য আলাদা লোকবল নেই। অফিসের লোকজন তাদের প্রতিদিনের কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করছেন।

লোকবল সংকটে সময়মতো সনদ দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদেশগামীরা নমুনা দেয়ার পর যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমেও সনদ সংগ্রহ করতে পারেন। আর সরকারি নির্দিষ্ট ফি ছাড়া এখানে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া হয় না।

কুমিল্লায় করোনার সনদ পেতে নাজেহাল ৬ জেলার প্রবাসীরা

 কুমিল্লা ব্যুরো 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা এবং সনদ পেতে ছয় জেলার প্রবাসীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার পর সনদ দেয়া হচ্ছে। এসব পরীক্ষা এবং সনদ পেতে চরম নাজেহাল হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ও নমুনা সংগ্রহে ধীরগতি, রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানিসহ নানা জটিলতা পোহাতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলমান এ ভাইরাসে বিদেশগামীদের জন্য কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে করোনা সনদ নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের কেলেঙ্কারি বহির্বিশ্বে ব্যাপক সমালোচিত হওয়ায় সরকার যথাযথ পরীক্ষা এবং সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সনদ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সব জেলায় প্রবাসীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে একটি বুথ চালু করা হয়েছে। প্রতিদিনই ছয় জেলা থেকে আগত প্রবাসীরা করোনার সনদ পেতে ওই হাসপাতালে জড়ো হচ্ছেন। তারা নমুনা দেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি লাইনে দাঁড়িয়ে ধাক্কাধাক্কি করছেন। একটি মাত্র বুথে তাদের কাছ থেকে নমুনা পরীক্ষার আবেদন ফরম ও পরীক্ষার ফি বাবদ এক হাজার ৫০০ টাকা নিচ্ছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল টেকনিশিয়ান। সেখানে নমুনা সংগ্রহ এবং সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চরম ধীরগতিতে আবেদন গ্রহণ এবং সনদ প্রদানে নাজেহাল করা হচ্ছে। আবেদন গ্রহণে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। এসব কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিদেশগামীরা।

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার গতিয়া সোনাপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী শাহজাহান বলেন, করোনার পরীক্ষা এবং সনদ পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। এখানে প্রবাসীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। ছয় জেলার প্রবাসীদের জন্য মাত্র একটি বুথে আবেদন নেয়া হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে প্রবাসীরা এসে দাঁড়িয়ে থাকেন, আবেদন সংগ্রহকারীরা আসেন বেলা ১১টার দিকে। দুপুরের পর তারা আবেদন গ্রহণ করতে চান না। এসব কারণে অনেকের বিদেশযাত্রা বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের প্রবাসী বিল্লাল হোসেন বলেন, এভাবে বিদেশগামীদের হয়রানি আর কষ্ট দেয়ার কোনো মানে হয় না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, হয় এখানে আরও কয়েকটি বুথ বাড়ানো হোক, না হয় প্রতিটি জেলায় নমুনা সংগ্রহ করে করোনা সনদ দেয়া হোক। কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, কাগজপত্র পরীক্ষা, রেজিস্ট্রেশন ফি জমা নেয়া ও করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় সঠিক সময়ের মধ্যে অনেককে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি একশ’ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে অন্তত ১০ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসছে। পজিটিভ আসা ব্যক্তিদের যাত্রা বাতিল হচ্ছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য আলাদা লোকবল নেই। অফিসের লোকজন তাদের প্রতিদিনের কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব পালন করছেন।

লোকবল সংকটে সময়মতো সনদ দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদেশগামীরা নমুনা দেয়ার পর যেকোনো স্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমেও সনদ সংগ্রহ করতে পারেন। আর সরকারি নির্দিষ্ট ফি ছাড়া এখানে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া হয় না।