বারবার সুদ না দিতে ব্যবসায়ী মোস্তফাকে খুন করে প্রতিপক্ষ
jugantor
যশোরে পুলিশের তথ্য
বারবার সুদ না দিতে ব্যবসায়ী মোস্তফাকে খুন করে প্রতিপক্ষ

  যশোর ব্যুরো  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার (৫৫) খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সুদের জালে আটকে পড়ার ক্ষোভ ও ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে তাকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন। শনিবার বাড়ি থেকে মোস্তফাকে ডেকে নিয়ে বন্ধুর সহায়তায় হত্যার পর লাশ ভৈরব নদে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। রোববার তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ খুনের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেন জেলা পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি মোস্তফা সুদের কারবারও করতেন। মামুনও কাঠ ব্যবসায়ী। তবে তার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই কয়েক বছর আগে মোস্তফার কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ধার নেন। সুদসহ মূল টাকা শোধ করলেও তার কাছে সুদের সুদ দাবি করে আসছিলেন মোস্তফা। ঋণের জাল থেকে বের হতে পারছিলেন না মামুন। বাড়তি সুদ দেয়ার ক্ষোভ আর ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। বাসচালক ও বন্ধু সহিদুলের সঙ্গে দেখা করে মামুন তার পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর সহিদুলকে কাঠ ক্রেতা সাজিয়ে তারা মোটরসাইকেলে চুড়ামনকাটি বাজারে যান। এরমধ্যে মামুন মোবাইল ফোনে মোস্তফাকে জানান, বড় কাস্টমার পাওয়া গেছে। চুড়ামনকাটি বাজারে আসেন। মোস্তফা এলে তারা তিনজন এক মোটরসাইকেলে সলুয়া বাজারে গিয়ে ফেনসিডিল পান করেন। সেখান থেকে ফিরে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে গাঁজা কিনে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গাঁজা সেবনের এক পর্যায়ে মামুন ছুরি বের করে মারতে উদ্যত হলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। মোস্তফা পড়ে গেলে সহিদুল তাকে চেপে ধরে আর মামুন তার গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করে। মোস্তফার মোবাইল ফোনসেটও তারা ভেঙে ফেলে।

পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মোস্তফা খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী সালমা বেগম মামলা করেন। বুধবার সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৩) ও সদর উপজেলার শাখারীগাতি গ্রামের মাজেদ মোল্লার ছেলে সহিদুল ইসলামকে (৩৭) ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

যশোরে পুলিশের তথ্য

বারবার সুদ না দিতে ব্যবসায়ী মোস্তফাকে খুন করে প্রতিপক্ষ

 যশোর ব্যুরো 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার (৫৫) খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সুদের জালে আটকে পড়ার ক্ষোভ ও ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে তাকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন। শনিবার বাড়ি থেকে মোস্তফাকে ডেকে নিয়ে বন্ধুর সহায়তায় হত্যার পর লাশ ভৈরব নদে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। রোববার তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ খুনের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেন জেলা পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি মোস্তফা সুদের কারবারও করতেন। মামুনও কাঠ ব্যবসায়ী। তবে তার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই কয়েক বছর আগে মোস্তফার কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ধার নেন। সুদসহ মূল টাকা শোধ করলেও তার কাছে সুদের সুদ দাবি করে আসছিলেন মোস্তফা। ঋণের জাল থেকে বের হতে পারছিলেন না মামুন। বাড়তি সুদ দেয়ার ক্ষোভ আর ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মামুন। বাসচালক ও বন্ধু সহিদুলের সঙ্গে দেখা করে মামুন তার পরিকল্পনার কথা জানান। এরপর সহিদুলকে কাঠ ক্রেতা সাজিয়ে তারা মোটরসাইকেলে চুড়ামনকাটি বাজারে যান। এরমধ্যে মামুন মোবাইল ফোনে মোস্তফাকে জানান, বড় কাস্টমার পাওয়া গেছে। চুড়ামনকাটি বাজারে আসেন। মোস্তফা এলে তারা তিনজন এক মোটরসাইকেলে সলুয়া বাজারে গিয়ে ফেনসিডিল পান করেন। সেখান থেকে ফিরে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে গাঁজা কিনে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গাঁজা সেবনের এক পর্যায়ে মামুন ছুরি বের করে মারতে উদ্যত হলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। মোস্তফা পড়ে গেলে সহিদুল তাকে চেপে ধরে আর মামুন তার গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করে। মোস্তফার মোবাইল ফোনসেটও তারা ভেঙে ফেলে।

পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মোস্তফা খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী সালমা বেগম মামলা করেন। বুধবার সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৩) ও সদর উপজেলার শাখারীগাতি গ্রামের মাজেদ মোল্লার ছেলে সহিদুল ইসলামকে (৩৭) ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।