নির্বাচন ও আধিপত্য বজায় রাখতেই পরিকল্পিত খুন
jugantor
কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর হত্যা
নির্বাচন ও আধিপত্য বজায় রাখতেই পরিকল্পিত খুন

  কুমিল্লা ব্যুরো  

১৩ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিগত কাউন্সিলর নির্বাচন এবং আসছে নির্বাচনসহ নগরীর চৌয়ারা বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই পরিকল্পিতভাবে জিল্লুরকে হত্যা করা হয় বলে দাবি নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর। তিনি ২০১৬ সালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এলাকায় তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। বুধবার সকালে নগরীরর চৌয়ারা এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারদলীয় প্রভাবশালী তিন কাউন্সিলরসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবুল হাসানকে। আর দ্বিতীয় আসামি হলেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার ও ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান। এছাড়াও মামলায় মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শহীদ এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম রিন্টুকেও আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আবদুল কাদের নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কাদের ওই মামলার ৯ নম্বর আসামি।

অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা মহানগরের চৌয়ারা বাজারের আশপাশেই নগরীর ২৫-২৬-২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান। ভারত সীমান্তবর্তী নগরীর বৃহত্তর এ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মাঝে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের সামনের সারির নেতা ছিলেন নিহত জিল্লুর রহমান চৌধুরী। আর অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবুল হাসান এবং দ্বিতীয় আসামি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার গংরা। তবে নিহত জিল্লুর রহমান এলাকায় ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইতিপূর্বে ওই বাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দুটি গ্রুপের মাঝে একাধিকবার দ্বন্দ্ব-বিরোধ সৃষ্টি হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বৃহস্পতিবার জানান, নিহতের ভাই ইমরান হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার ৯ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রধান দুই আসামিসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার বাদী ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে তারা। আমি দ্রুত তাদের গ্রেফতার ও খুনিদের ফাঁসি চাই।

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর হত্যা

নির্বাচন ও আধিপত্য বজায় রাখতেই পরিকল্পিত খুন

 কুমিল্লা ব্যুরো 
১৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিগত কাউন্সিলর নির্বাচন এবং আসছে নির্বাচনসহ নগরীর চৌয়ারা বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই পরিকল্পিতভাবে জিল্লুরকে হত্যা করা হয় বলে দাবি নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর। তিনি ২০১৬ সালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এলাকায় তার বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। বুধবার সকালে নগরীরর চৌয়ারা এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারদলীয় প্রভাবশালী তিন কাউন্সিলরসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবুল হাসানকে। আর দ্বিতীয় আসামি হলেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার ও ২৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান। এছাড়াও মামলায় মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শহীদ এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম রিন্টুকেও আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আবদুল কাদের নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কাদের ওই মামলার ৯ নম্বর আসামি।

অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লা মহানগরের চৌয়ারা বাজারের আশপাশেই নগরীর ২৫-২৬-২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান। ভারত সীমান্তবর্তী নগরীর বৃহত্তর এ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মাঝে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের সামনের সারির নেতা ছিলেন নিহত জিল্লুর রহমান চৌধুরী। আর অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবুল হাসান এবং দ্বিতীয় আসামি ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সাত্তার গংরা। তবে নিহত জিল্লুর রহমান এলাকায় ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইতিপূর্বে ওই বাজারের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের দুটি গ্রুপের মাঝে একাধিকবার দ্বন্দ্ব-বিরোধ সৃষ্টি হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বৃহস্পতিবার জানান, নিহতের ভাই ইমরান হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার ৯ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রধান দুই আসামিসহ অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার বাদী ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে তারা। আমি দ্রুত তাদের গ্রেফতার ও খুনিদের ফাঁসি চাই।