শাহবাজপুর চ্যানেলে সর্বাধিক ইলিশ ডিম ছেড়েছে
jugantor
মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার রিপোর্ট
শাহবাজপুর চ্যানেলে সর্বাধিক ইলিশ ডিম ছেড়েছে

  ভোলা প্রতিনিধি  

১৯ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলার শাহবাজপুর ও মৌলভীর চর চ্যানেলে এবার সর্বাধিক ইলিশ মাছ ডিম ছেড়েছে। এ ডিম ছাড়ার হার ছিল প্রায় ৮৮ ভাগ। দেশের ৩২ জেলার নদীতে গড়ে ইলিশের ডিম ছাড়ার হার ৫১ দশমিক ২ ভাগ। গেল বছর এ হার ছিল ৪৯ ভাগ। ফলে ইলিশ উৎপাদন ১০ ভাগ বাড়বে।

গবেষণা রিপোর্ট চূড়ান্ত করার পর বুধবার দুপুরে এমন আশার কথা জানান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান। যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ছিল ইলিশের ভরা প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়। ২২ দিনের মধ্যে ১৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর (অমাবস্যার জোঁ’র পর থেকে পূর্ণিমার জোঁ পর্যন্ত) সর্বাধিক ইলিশ ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার পর বেশিরভাগ ইলিশ সাগরে ফিরে গেছে। শীতের শেষে বড় আকারের ইলিশ আবার নদীতে বিচরণ করবে। মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৫টি টিমে ২৪ জন স্টাফ মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও পদ্মা নদী এলাকায় ডিম ছাড়া পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা জরিপ করেন। এই টিমের প্রধান সমন্বয়কের কাজ করেন ড. আনিছুর রহমান। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মেহেদী হাসান, মনিরুজ্জামান ও মনজুরুল আহসান।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশ মাছ সব চেয়ে বেশি ডিম ছেড়েছে ভোলা জেলার মেঘনা নদী অঞ্চলে। জেলার মনপুরা, ঢালচর, মৌলভীর চর, কালীরচর এলাকা ছিল ইলিশ বিচরণ এলাকা। গেল বছর এ অঞ্চলে ডিম ছাড়ার হার ছিল ৭০ ভাগ। এবার সর্বাধিক ডিম ছাড়ার হার ছিল ৮৮ ভাগ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছিল ১০ থেকে ৬০ ভাগ। চাঁদপুরের কাটাখালী পয়েন্টে, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা জেলার নদী এলাকায়ও জরিপ করা হয়। উপযোগী পরিবেশ ও প্রাকৃতিক কারণেই সবচেয়ে বেশি ইলিশ ডিম ছাড়তে ভোলার শাহবাজপুর চ্যানেলে উঠে আসে। দেশে গেল বছর ইলিশ উৎপাদনের হার ছিল ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। যদি জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ করা যথাযথ হয়, তবে উৎপাদন ৬ লাখ টন ছাড়াবে। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা রক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া নদীতে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস ও সাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন ইলিশের বেড়ে ওঠার সময় নির্ধারণ করা হয়। এ সময় সব ধরনের মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিয়ম মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইলিশ গবেষকরা।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ডিম ছাড়ার পরিবেশ ও জাটকা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সর্বাধিক চেষ্টা রয়েছে। এ কারণেই ইলিশ উৎপাদনে ভোলা হচ্ছে প্রথম। একই সঙ্গে বিশ্বে বাংলাদেশ হবে প্রথম। গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এ বছর ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। এই বৃদ্ধির হার ক্রমেই বাড়ছে বলেও জানান ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান। এর সুফল জেলেরা পেতে শুরু করছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল হক।

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার রিপোর্ট

শাহবাজপুর চ্যানেলে সর্বাধিক ইলিশ ডিম ছেড়েছে

 ভোলা প্রতিনিধি 
১৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলার শাহবাজপুর ও মৌলভীর চর চ্যানেলে এবার সর্বাধিক ইলিশ মাছ ডিম ছেড়েছে। এ ডিম ছাড়ার হার ছিল প্রায় ৮৮ ভাগ। দেশের ৩২ জেলার নদীতে গড়ে ইলিশের ডিম ছাড়ার হার ৫১ দশমিক ২ ভাগ। গেল বছর এ হার ছিল ৪৯ ভাগ। ফলে ইলিশ উৎপাদন ১০ ভাগ বাড়বে।

গবেষণা রিপোর্ট চূড়ান্ত করার পর বুধবার দুপুরে এমন আশার কথা জানান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান। যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ বছর ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ছিল ইলিশের ভরা প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়। ২২ দিনের মধ্যে ১৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর (অমাবস্যার জোঁ’র পর থেকে পূর্ণিমার জোঁ পর্যন্ত) সর্বাধিক ইলিশ ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার পর বেশিরভাগ ইলিশ সাগরে ফিরে গেছে। শীতের শেষে বড় আকারের ইলিশ আবার নদীতে বিচরণ করবে। মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ৫টি টিমে ২৪ জন স্টাফ মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও পদ্মা নদী এলাকায় ডিম ছাড়া পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণা জরিপ করেন। এই টিমের প্রধান সমন্বয়কের কাজ করেন ড. আনিছুর রহমান। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মেহেদী হাসান, মনিরুজ্জামান ও মনজুরুল আহসান।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশ মাছ সব চেয়ে বেশি ডিম ছেড়েছে ভোলা জেলার মেঘনা নদী অঞ্চলে। জেলার মনপুরা, ঢালচর, মৌলভীর চর, কালীরচর এলাকা ছিল ইলিশ বিচরণ এলাকা। গেল বছর এ অঞ্চলে ডিম ছাড়ার হার ছিল ৭০ ভাগ। এবার সর্বাধিক ডিম ছাড়ার হার ছিল ৮৮ ভাগ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছিল ১০ থেকে ৬০ ভাগ। চাঁদপুরের কাটাখালী পয়েন্টে, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা জেলার নদী এলাকায়ও জরিপ করা হয়। উপযোগী পরিবেশ ও প্রাকৃতিক কারণেই সবচেয়ে বেশি ইলিশ ডিম ছাড়তে ভোলার শাহবাজপুর চ্যানেলে উঠে আসে। দেশে গেল বছর ইলিশ উৎপাদনের হার ছিল ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। যদি জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ করা যথাযথ হয়, তবে উৎপাদন ৬ লাখ টন ছাড়াবে। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা রক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া নদীতে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস ও সাগরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন ইলিশের বেড়ে ওঠার সময় নির্ধারণ করা হয়। এ সময় সব ধরনের মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিয়ম মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইলিশ গবেষকরা।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ডিম ছাড়ার পরিবেশ ও জাটকা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সর্বাধিক চেষ্টা রয়েছে। এ কারণেই ইলিশ উৎপাদনে ভোলা হচ্ছে প্রথম। একই সঙ্গে বিশ্বে বাংলাদেশ হবে প্রথম। গেল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এ বছর ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। এই বৃদ্ধির হার ক্রমেই বাড়ছে বলেও জানান ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান। এর সুফল জেলেরা পেতে শুরু করছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল হক।