কোভিড আক্রান্তদের ৯ জনে একজন শিশু
jugantor
ইউনিসেফের প্রতিবেদন
কোভিড আক্রান্তদের ৯ জনে একজন শিশু

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ইউনিসেফ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশ শিশু। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও সংক্রমণের হার বাড়ছে। শিশু ও তরুণদের পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টি ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার ইউনিসেফের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়- কোভিড-১৯ মহামারী অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্বিতীয় বছরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে ইউনিসেফ শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। এতে বলা হয়- আক্রান্তদের বয়স ২০ বছরের কম। তাদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়- যেহেতু শিশুরা পরস্পরের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে, এমনকি বড়দের মাঝেও। এক্ষেত্রে জোরালো প্রমাণ রয়েছে- স্কুল বন্ধ রাখলে যে ক্ষতি হয় প্রাথমিক সুরক্ষা ব্যবস্থাসহ স্কুল খোলা রাখলে তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্কুলগুলো একমাত্র চালিকাশক্তি নয় এবং শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুলের বাইরে থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

বিশ্ব শিশু দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘অ্যাভারটিং এ লস্ট কোভিড জেনারেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ইউনিসেফের প্রথম প্রতিবেদন। যেখানে মহামারী অব্যাহত থাকায় শিশুদের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন বলা হয়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্য একজন ২০ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরী। যা দেশগুলোতে মোট আক্রান্ত ২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের ১১ শতাংশ। এ সংকট কীভাবে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এবং এটি মোকাবেলার উপায় কী তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সংক্রমণ, মৃত্যু ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার আরও নির্ভরযোগ্য বয়সভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়জুড়ে অব্যাহতভাবে একটি ধারণা চলে আসছে, এ রোগে শিশুদের তেমন ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটা সত্য নয়। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাদের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, শিশুদের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সংকট যত দীর্ঘ হবে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব তত গভীর হবে। পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, মহামারীর ব্যাপকতায় বিশ্বের ১৯২টি দেশ স্কুল বন্ধ করে দেয়। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্কুল পুনরায় চালু করে। একটি নির্ধারিত তারিখ লক্ষ্য করে নিরাপদে স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য পরিচালনাগত পরিকল্পনার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৫টি দেশে নারী ও শিশুদের পুষ্টি সেবার আওতা ৪০ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৫০ লাখ শিশু স্কুলের খাবার-বঞ্চিত ছিল। পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৫ কোটির বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট কর্মসূচির জীবনরক্ষামূলক সুবিধা গ্রহণ থেকে বাদ পড়ছে। ৬৫টি দেশ জানিয়েছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সমাজকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন কমেছে। ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩০টি দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ হওয়ায় ৫৭ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা বিশ্বব্যাপী স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩৩ শতাংশ। আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান অপুষ্টির সমস্যাসহ আনুমানিক ২০ লাখ অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু হতে পারে এবং ২ লাখ অতিরিক্ত মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে। ২০২০ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৭০ লাখ শিশু উচ্চতার তুলনায় পাতলা বা ওজন কম বা তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগবে। যা ১৪ শতাংশ বেশি এবং এ কারণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হবে, যার বেশিরভাগই ঘটবে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়।

ইউনিসেফের প্রতিবেদন

কোভিড আক্রান্তদের ৯ জনে একজন শিশু

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ইউনিসেফ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশ শিশু। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও সংক্রমণের হার বাড়ছে। শিশু ও তরুণদের পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টি ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার ইউনিসেফের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়- কোভিড-১৯ মহামারী অনিয়ন্ত্রিতভাবে দ্বিতীয় বছরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে ইউনিসেফ শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। এতে বলা হয়- আক্রান্তদের বয়স ২০ বছরের কম। তাদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়- যেহেতু শিশুরা পরস্পরের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে, এমনকি বড়দের মাঝেও। এক্ষেত্রে জোরালো প্রমাণ রয়েছে- স্কুল বন্ধ রাখলে যে ক্ষতি হয় প্রাথমিক সুরক্ষা ব্যবস্থাসহ স্কুল খোলা রাখলে তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্কুলগুলো একমাত্র চালিকাশক্তি নয় এবং শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুলের বাইরে থেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

বিশ্ব শিশু দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘অ্যাভারটিং এ লস্ট কোভিড জেনারেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ইউনিসেফের প্রথম প্রতিবেদন। যেখানে মহামারী অব্যাহত থাকায় শিশুদের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহ ও ক্রমবর্ধমান পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন বলা হয়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত প্রতি ৯ জনের মধ্য একজন ২০ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরী। যা দেশগুলোতে মোট আক্রান্ত ২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের ১১ শতাংশ। এ সংকট কীভাবে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এবং এটি মোকাবেলার উপায় কী তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সংক্রমণ, মৃত্যু ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার আরও নির্ভরযোগ্য বয়সভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়জুড়ে অব্যাহতভাবে একটি ধারণা চলে আসছে, এ রোগে শিশুদের তেমন ক্ষতি হয় না। কিন্তু এটা সত্য নয়। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাদের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রাপ্তিতে বিঘ্ন এবং দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, শিশুদের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এ সংকট যত দীর্ঘ হবে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব তত গভীর হবে। পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, মহামারীর ব্যাপকতায় বিশ্বের ১৯২টি দেশ স্কুল বন্ধ করে দেয়। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৩ শতাংশ দেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্কুল পুনরায় চালু করে। একটি নির্ধারিত তারিখ লক্ষ্য করে নিরাপদে স্কুলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য পরিচালনাগত পরিকল্পনার প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৫টি দেশে নারী ও শিশুদের পুষ্টি সেবার আওতা ৪০ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ২৬ কোটি ৫০ লাখ শিশু স্কুলের খাবার-বঞ্চিত ছিল। পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৫ কোটির বেশি শিশু ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট কর্মসূচির জীবনরক্ষামূলক সুবিধা গ্রহণ থেকে বাদ পড়ছে। ৬৫টি দেশ জানিয়েছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সমাজকর্মীদের বাড়ি পরিদর্শন কমেছে। ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩০টি দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ হওয়ায় ৫৭ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা বিশ্বব্যাপী স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ৩৩ শতাংশ। আগামী ১২ মাসে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান অপুষ্টির সমস্যাসহ আনুমানিক ২০ লাখ অতিরিক্ত শিশু মৃত্যু হতে পারে এবং ২ লাখ অতিরিক্ত মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে। ২০২০ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৭০ লাখ শিশু উচ্চতার তুলনায় পাতলা বা ওজন কম বা তীব্র অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগবে। যা ১৪ শতাংশ বেশি এবং এ কারণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হবে, যার বেশিরভাগই ঘটবে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়।