কলাপাড়ায় কৃষকের কয়েকশ’ একর জমি দখলের অভিযোগ
jugantor
ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন
কলাপাড়ায় কৃষকের কয়েকশ’ একর জমি দখলের অভিযোগ

  পটুয়াখালী (দক্ষিণ) প্রতিনিধি  

২৬ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষকের কয়েকশ একর ফসলি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার টিয়াখালী, ইটবাড়িয়া, বালিয়াতলী, সোনাপাড়া ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নে দখলের পর ওই জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে দখলদাররা।

এ ঘটনায় রোববার কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আবু সাঈদ হাওলাদার, মো. ইসমাইল খান, মায়া রাখাইন, আবু জাফর তালুকদার, মো. সরোয়ার সিকদারসহ অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা কলাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদার উদ্দিন ওরফে মাসুম ব্যাপারী, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য মো. আসলাম হাওলাদার, তার দুই ভাই আলামিন হাওলাদার, মুশফিকুর রহমান হাওলাদার, ফোরকান মৃধা, রুবেল সিকদার, টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু ও ফয়সাল মেলকারসহ একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দখলে সহায়তা করার অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা জোট বেঁধে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানের নাম- ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে ভুক্তভোগীদের সাত দশক দখলে থাকা সম্পত্তি গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে। প্রভাবশালীরা কলাপাড়া ইউএনওকে ম্যানেজ করে জমি বিক্রির অনুমতি গ্রহণ, সাবরেজিস্ট্রি অফিস ম্যানেজ করে দলিল রেজিস্ট্রি, উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মো. বেলাল হোসেন, লালুয়ার নয়াকাটার তহসিলদার মো. কামরুল ইসলামের সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নামজারি ও জমা-খারিজ খতিয়ান খুলতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম বেপারী যুগান্তরকে বলেন, আমার এক আত্মীয় মারা গেছে, তাই আমি স্টেশনে নেই। কলাপাড়ায় এসে রিপোর্টটা দেখে এর উত্তর দিতে পারব।

টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু বলেন, ওটা মূলত হিন্দুদের জমি এবং খাস জমি, রাখাইনদের নয়। যারা অভিযোগ করছে, তারা কি জমির প্রকৃত মালিক? এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ হয়েছে। তাছাড়া সামনে আমার নির্বাচন। একটি মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

এছাড়া বাকি অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসানাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন, ওয়ারিশ সনদ, ভূমি অফিসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে যদি কোনো ব্যক্তি জমি বিক্রির অনুমতি চায়, সেটা আটকানোর সুযোগ কোথায়? কারণ অনুমতি দেয়া আমার সরকারি দায়িত্ব। অনুমতি দেয়া মানেই জমি বিক্রি করে দেয়া নয়। অভিযোগকারীদের আপত্তি নিয়ে আমার কাছে এলে আমি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারতাম। কিন্তু তারা না এসে উল্টো অভিযোগ করছে।

ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

কলাপাড়ায় কৃষকের কয়েকশ’ একর জমি দখলের অভিযোগ

 পটুয়াখালী (দক্ষিণ) প্রতিনিধি 
২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষকের কয়েকশ একর ফসলি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। উপজেলার টিয়াখালী, ইটবাড়িয়া, বালিয়াতলী, সোনাপাড়া ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নে দখলের পর ওই জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে দখলদাররা।

এ ঘটনায় রোববার কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আবু সাঈদ হাওলাদার, মো. ইসমাইল খান, মায়া রাখাইন, আবু জাফর তালুকদার, মো. সরোয়ার সিকদারসহ অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা কলাপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদার উদ্দিন ওরফে মাসুম ব্যাপারী, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য মো. আসলাম হাওলাদার, তার দুই ভাই আলামিন হাওলাদার, মুশফিকুর রহমান হাওলাদার, ফোরকান মৃধা, রুবেল সিকদার, টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু ও ফয়সাল মেলকারসহ একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দখলে সহায়তা করার অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্লিখিত ব্যক্তিরা জোট বেঁধে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানের নাম- ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে ভুক্তভোগীদের সাত দশক দখলে থাকা সম্পত্তি গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে। প্রভাবশালীরা কলাপাড়া ইউএনওকে ম্যানেজ করে জমি বিক্রির অনুমতি গ্রহণ, সাবরেজিস্ট্রি অফিস ম্যানেজ করে দলিল রেজিস্ট্রি, উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মো. বেলাল হোসেন, লালুয়ার নয়াকাটার তহসিলদার মো. কামরুল ইসলামের সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নামজারি ও জমা-খারিজ খতিয়ান খুলতে সক্ষম হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম বেপারী যুগান্তরকে বলেন, আমার এক আত্মীয় মারা গেছে, তাই আমি স্টেশনে নেই। কলাপাড়ায় এসে রিপোর্টটা দেখে এর উত্তর দিতে পারব।

টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু বলেন, ওটা মূলত হিন্দুদের জমি এবং খাস জমি, রাখাইনদের নয়। যারা অভিযোগ করছে, তারা কি জমির প্রকৃত মালিক? এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ হয়েছে। তাছাড়া সামনে আমার নির্বাচন। একটি মহল আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

এছাড়া বাকি অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসানাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন, ওয়ারিশ সনদ, ভূমি অফিসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে যদি কোনো ব্যক্তি জমি বিক্রির অনুমতি চায়, সেটা আটকানোর সুযোগ কোথায়? কারণ অনুমতি দেয়া আমার সরকারি দায়িত্ব। অনুমতি দেয়া মানেই জমি বিক্রি করে দেয়া নয়। অভিযোগকারীদের আপত্তি নিয়ে আমার কাছে এলে আমি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারতাম। কিন্তু তারা না এসে উল্টো অভিযোগ করছে।