তৃতীয় পক্ষের কিছুই করার নেই
jugantor
মালয়েশিয়ায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া
তৃতীয় পক্ষের কিছুই করার নেই
প্রতারণা করলেই জেল জরিমানা

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে কোনো গাইডলাইন নেই। এছাড়া কর্মীদের বৈধ করার প্রক্রিয়া নিয়োগদাতানির্ভর হওয়ায় এজেন্ট, দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কিছুই করার নেই। এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক লেনদেন না করার

পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বুধবার ‘মালয়েশিয়ায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া ও নতুন শ্রমবাজার’ শিরোনামে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব মালয়েশিয়ার ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এদিকে শুক্রবার দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিকদের সঙ্গে কোনোরকম প্রতারণা বা জালিয়াতি করলেই জেল-জরিমানা করা হবে।

প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পেজে প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম হিরনের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রধান শরিফুল হাসান, ডেইলি স্টারের পরিমল পালমা, বাংলাভিশনের মিরাজ হোসেন গাজী ও প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আহমাদুল কবির বক্তব্য দেন। মালয়েশিয়ায় বৈধতা প্রক্রিয়া ও কত টাকা লাগতে পারে এবং ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা কবে নাগাদ কাজে ফিরতে পারেন- এমন সব বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দিতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে এখনও গাইডলাইন তৈরি হয়নি। বৈধকরণ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এজন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। গাইডলাইন তৈরির আগে মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, কর্মীদের বৈধ করার প্রক্রিয়াটি পুরোটাই নিয়োগদাতা বা মালিকনির্ভর। সুতরাং এখানে কোনো এজেন্ট, দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কিছু করার সুযোগ নেই।

জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, মালয়েশিয়ার দূর-দূরান্তে কর্মরত কর্মীদের কাছে পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে দেশটির পোস্ট অফিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কাউকে আর দূতাবাসে আসার প্রয়োজন হবে না। ছুটিতে গিয়ে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। ৩১ ডিসেম্বরের পর মালয়েশিয়া প্রবেশে কোনো সমস্যা হবে না।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, মালয়েশিয়ায় যেতে আমাদের কর্মীদের অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। যে মেয়াদে তারা যান সেই সময়ের মধ্যে তারা সেই পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন না। মেয়াদ শেষের পরও দেশটিতে থাকলে তারা অবৈধ হয়ে যান। তখন তারা খুব কম বেতন পান, তাদের কষ্টকর কাজ করতে হয়। সব সময় পুলিশি অভিযানের মধ্যে আতঙ্কে থাকতে হয়।

অন্য আলোচকরা বলেন, অতীতে প্রতারণা করে দালাল চক্র প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবার মালয়েশিয়া সরকার বলছে, কোনো থার্ড পার্টি এখানে থাকবে না। এটা যাতে নিশ্চিত হয় সেটা হাইকমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। যারা অনিয়মিত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে কী হবে? বিশেষ করে প্রত্যেক শ্রমিকের কাছে অভিবাসন সংক্রান্ত সব তথ্য পৌঁছে দেয়া, যাতে তারা প্রতারণার শিকার না হয়।

প্রতারণা করলেই জেল-জরিমানা : মালয়েশিয়ায় ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক বৈধকরণ প্রক্রিয়া। শ্রমিক বৈধকরণ নিবন্ধনে সরকার আগের মতো কোনো ভেন্ডর বা এজেন্ট নিয়োগ করেনি। এবার সরাসরি দেশটির শ্রম ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এছাড়া তৃতীয় পক্ষ, এজেন্ট বা দালাল শ্রমিকদের সঙ্গে কোনোরকম প্রতারণা বা জালিয়াতি করলে শাস্তি দেয়া হবে বলে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। শুক্রবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (কেএসএম) এক বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড এবং দুই লাখ রিংগিত (প্রায় ৪০ লাখ টাকা) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

২০১৫ সালে রি-হায়ারিং কর্মসূচিতে মালয়েশিয়া প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশিকে সেদেশে নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। এবারও বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় অন্য ১৪টি দেশের কর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।

মালয়েশিয়ায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া

তৃতীয় পক্ষের কিছুই করার নেই

প্রতারণা করলেই জেল জরিমানা
 আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে কোনো গাইডলাইন নেই। এছাড়া কর্মীদের বৈধ করার প্রক্রিয়া নিয়োগদাতানির্ভর হওয়ায় এজেন্ট, দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কিছুই করার নেই। এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থিক লেনদেন না করার

পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বুধবার ‘মালয়েশিয়ায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া ও নতুন শ্রমবাজার’ শিরোনামে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব অব মালয়েশিয়ার ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এদিকে শুক্রবার দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রমিকদের সঙ্গে কোনোরকম প্রতারণা বা জালিয়াতি করলেই জেল-জরিমানা করা হবে।

প্রেস ক্লাবের ফেসবুক পেজে প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম হিরনের সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রধান শরিফুল হাসান, ডেইলি স্টারের পরিমল পালমা, বাংলাভিশনের মিরাজ হোসেন গাজী ও প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি আহমাদুল কবির বক্তব্য দেন। মালয়েশিয়ায় বৈধতা প্রক্রিয়া ও কত টাকা লাগতে পারে এবং ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা কবে নাগাদ কাজে ফিরতে পারেন- এমন সব বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।

হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দিতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে এখনও গাইডলাইন তৈরি হয়নি। বৈধকরণ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এজন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। গাইডলাইন তৈরির আগে মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, কর্মীদের বৈধ করার প্রক্রিয়াটি পুরোটাই নিয়োগদাতা বা মালিকনির্ভর। সুতরাং এখানে কোনো এজেন্ট, দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কিছু করার সুযোগ নেই।

জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, মালয়েশিয়ার দূর-দূরান্তে কর্মরত কর্মীদের কাছে পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে দেশটির পোস্ট অফিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কাউকে আর দূতাবাসে আসার প্রয়োজন হবে না। ছুটিতে গিয়ে দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। ৩১ ডিসেম্বরের পর মালয়েশিয়া প্রবেশে কোনো সমস্যা হবে না।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, মালয়েশিয়ায় যেতে আমাদের কর্মীদের অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। যে মেয়াদে তারা যান সেই সময়ের মধ্যে তারা সেই পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন না। মেয়াদ শেষের পরও দেশটিতে থাকলে তারা অবৈধ হয়ে যান। তখন তারা খুব কম বেতন পান, তাদের কষ্টকর কাজ করতে হয়। সব সময় পুলিশি অভিযানের মধ্যে আতঙ্কে থাকতে হয়।

অন্য আলোচকরা বলেন, অতীতে প্রতারণা করে দালাল চক্র প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবার মালয়েশিয়া সরকার বলছে, কোনো থার্ড পার্টি এখানে থাকবে না। এটা যাতে নিশ্চিত হয় সেটা হাইকমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। যারা অনিয়মিত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে কী হবে? বিশেষ করে প্রত্যেক শ্রমিকের কাছে অভিবাসন সংক্রান্ত সব তথ্য পৌঁছে দেয়া, যাতে তারা প্রতারণার শিকার না হয়।

প্রতারণা করলেই জেল-জরিমানা : মালয়েশিয়ায় ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক বৈধকরণ প্রক্রিয়া। শ্রমিক বৈধকরণ নিবন্ধনে সরকার আগের মতো কোনো ভেন্ডর বা এজেন্ট নিয়োগ করেনি। এবার সরাসরি দেশটির শ্রম ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এছাড়া তৃতীয় পক্ষ, এজেন্ট বা দালাল শ্রমিকদের সঙ্গে কোনোরকম প্রতারণা বা জালিয়াতি করলে শাস্তি দেয়া হবে বলে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। শুক্রবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (কেএসএম) এক বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড এবং দুই লাখ রিংগিত (প্রায় ৪০ লাখ টাকা) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

২০১৫ সালে রি-হায়ারিং কর্মসূচিতে মালয়েশিয়া প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশিকে সেদেশে নিয়মিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। এবারও বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় অন্য ১৪টি দেশের কর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।