গা ঢাকা দিয়েছেন গডফাদাররা
jugantor
গা ঢাকা দিয়েছেন গডফাদাররা
চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান আটক: একজন জাহেদ; অপরজন শিবির ক্যাডার ও এক ডজন মামলার আসামি জিসান * বারবার মোবাইল বদল করে স্থান পরিবর্তন -পুলিশ

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সপ্তাহেও গ্রেফতার করতে পারেনি দেড় লাখ পিস ইয়াবা পাচারের ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের। পুলিশ বলছে, তারা বারবার মোবাইল ফোন বদল করে স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার কারণে ইয়াবা পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করে নৌপথে নেমেছে।

শনিবার রাতে চান্দগাঁও থানার পুরাতন কালুরঘাট এলাকায় ট্রলার থেকে ইয়াবা খালাসের সময় ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেড় লাখ পিস ইয়াবা। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই গডফাদারের নাম প্রকাশ করে সোহেল। এর মধ্যে একজন হচ্ছে জাহেদ। সে সাতকানিয়া থানার ঢেমশা ইউনিয়নের সোনা মিয়ার ছেলে। অপরজন শিবির ক্যাডার ও প্রায় এক ডজন মামলার আসামি জিসান। সে সাতকানিয়া থানার বাজালিয়া ইউনিয়নে আলী আকবরের ছেলে।

সাতকানিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, জিসান একজন ভয়ংকর শিবির ক্যাডার। ২০১৩ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার রাজনৈতিক নাশকতার মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একাধিক নাশকতার মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে। পলাতক থাকা অবস্থায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। একইভাবে জাহেদ এলাকার চিহ্নিত মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। সেও এলাকায় থাকে না। তারা চট্টগ্রাম শহরে ও কক্সবাজারে বাসা নিয়ে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ঘন ঘন বাসা বদল করে। এক জায়গায় দু-তিন মাসের বেশি থাকে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইয়াবা পাচার বন্ধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় চেকপোস্টে চেক করা হয়। এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তল্লাশি রয়েছে। ফলে সড়কপথে ইয়াবা পাচার এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা নৌরুট ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। সমুদ্রপথে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের রুটটি আগের মতোই রয়ে গেছে। পাচারকারীরা মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপ থেকে স্পিডবোটে বুচিডং ছেরাদ্বীপে প্রথমে আসছে। সেখানে আসার পর তারা বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পেয়ে যাচ্ছে। ওই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাচারকারীরা গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের পাচারকারীদের উদ্দেশে যাত্রা করে। দ্রুতগামী স্পিডবোটগুলো ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ও ট্রলারে অবস্থানরত পাচারকারীদের কাছে। কর্ণফুলী নদী হয়ে এসে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এসব ইয়াবা খালাস করা হয়। শুক্রবার আটক ইয়াবার চালানটিও নদীপথে আসে। কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে ট্রলার থকে খালাসের সময় দেড় লাখ পিস ইয়াবার এ চালানটি আটক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আনোয়ারার বিভিন্ন ঘাট ও পয়েন্ট ব্যবহার করছে। মহেশখালী থেকে আনোয়ারা হয়ে নৌপথে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় আসা চালানও সম্প্রতি ধরা পড়েছে।

চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দুই মূল হোতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারা বারবার স্থান পরিবর্তন করার কারণে গ্রেফতারে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। দু’জনের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। স্থানীয় থানা থেকেও তাদের ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তাদের ধরতে আমরা কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি।

গা ঢাকা দিয়েছেন গডফাদাররা

চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান আটক: একজন জাহেদ; অপরজন শিবির ক্যাডার ও এক ডজন মামলার আসামি জিসান * বারবার মোবাইল বদল করে স্থান পরিবর্তন -পুলিশ
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক সপ্তাহেও গ্রেফতার করতে পারেনি দেড় লাখ পিস ইয়াবা পাচারের ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের। পুলিশ বলছে, তারা বারবার মোবাইল ফোন বদল করে স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার কারণে ইয়াবা পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করে নৌপথে নেমেছে।

শনিবার রাতে চান্দগাঁও থানার পুরাতন কালুরঘাট এলাকায় ট্রলার থেকে ইয়াবা খালাসের সময় ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেড় লাখ পিস ইয়াবা। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই গডফাদারের নাম প্রকাশ করে সোহেল। এর মধ্যে একজন হচ্ছে জাহেদ। সে সাতকানিয়া থানার ঢেমশা ইউনিয়নের সোনা মিয়ার ছেলে। অপরজন শিবির ক্যাডার ও প্রায় এক ডজন মামলার আসামি জিসান। সে সাতকানিয়া থানার বাজালিয়া ইউনিয়নে আলী আকবরের ছেলে।

সাতকানিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, জিসান একজন ভয়ংকর শিবির ক্যাডার। ২০১৩ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার রাজনৈতিক নাশকতার মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একাধিক নাশকতার মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে। পলাতক থাকা অবস্থায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। একইভাবে জাহেদ এলাকার চিহ্নিত মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী। সেও এলাকায় থাকে না। তারা চট্টগ্রাম শহরে ও কক্সবাজারে বাসা নিয়ে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা ঘন ঘন বাসা বদল করে। এক জায়গায় দু-তিন মাসের বেশি থাকে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইয়াবা পাচার বন্ধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় চেকপোস্টে চেক করা হয়। এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তল্লাশি রয়েছে। ফলে সড়কপথে ইয়াবা পাচার এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা নৌরুট ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। সমুদ্রপথে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের রুটটি আগের মতোই রয়ে গেছে। পাচারকারীরা মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপ থেকে স্পিডবোটে বুচিডং ছেরাদ্বীপে প্রথমে আসছে। সেখানে আসার পর তারা বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পেয়ে যাচ্ছে। ওই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পাচারকারীরা গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের পাচারকারীদের উদ্দেশে যাত্রা করে। দ্রুতগামী স্পিডবোটগুলো ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশের ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ও ট্রলারে অবস্থানরত পাচারকারীদের কাছে। কর্ণফুলী নদী হয়ে এসে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে এসব ইয়াবা খালাস করা হয়। শুক্রবার আটক ইয়াবার চালানটিও নদীপথে আসে। কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে ট্রলার থকে খালাসের সময় দেড় লাখ পিস ইয়াবার এ চালানটি আটক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আনোয়ারার বিভিন্ন ঘাট ও পয়েন্ট ব্যবহার করছে। মহেশখালী থেকে আনোয়ারা হয়ে নৌপথে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় আসা চালানও সম্প্রতি ধরা পড়েছে।

চান্দগাঁও থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দুই মূল হোতাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারা বারবার স্থান পরিবর্তন করার কারণে গ্রেফতারে একটু বেগ পেতে হচ্ছে। দু’জনের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়। স্থানীয় থানা থেকেও তাদের ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তাদের ধরতে আমরা কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি।