চট্টগ্রামে সুমাইয়াকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার চান মা
jugantor
চট্টগ্রামে সুমাইয়াকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার চান মা

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ সুমাইয়াকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার চান মা সৈয়দা দিলরুবা বেগম। শুক্রবার এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত সুমাইয়ার স্বামী নওশাদকে খুলশী থেকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ, এরপর মামলার তদন্ত যায় পুলিশের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কাছে। তদন্ত শেষে সিআইডির দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে নওশাদের প্রথম স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন পরীকে বাদ দেয়ায় চার্জশিটের ওপর নারাজি দেন মামলার বাদী ও নিহতের মা সৈয়দা দিলরুবা বেগম। পরে আদালতের নির্দেশে এ মামলার পুনঃতদন্তের জন্য তদন্তভার দেয়া হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশকে।

রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কাজী আহমদ কবিরের মেয়ে কাজী কানিজ ফাতেমা সুমাইয়া (২৮)। ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল তাকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাসা থেকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় আদালতে বিচার শুরু তো দূরে থাক; দীর্ঘ ৫ বছরে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। নিহতের মা মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে।

২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর ভালোবেসে সুমাইয়া বিয়ে করেছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর সৈনিক লীগ নেতা শেখ নওশাদ সরোয়ার পিন্টুকে (৩৪)। রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী নওশাদ বন্দর থানাধীন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোসাইলডাঙ্গা এলাকার শেখ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া বিয়ের আগে জানত না নওশাদ বিবাহিত। তার আগের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন পরী (৪২)। বিয়ের পর কয়েক মাস আনন্দে কাটলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দেড় বছরের সংসারে তাদের কোলজুড়ে আসে ছেলে নিলয় সরোয়ার। যৌতুকের জন্য নির্যাতন নেমে আসে পরিবারের অমতে বিয়ে করা সুমাইয়ার ওপর। যৌতুকের জন্য নির্যাতন বেড়ে গেলে সুমাইয়া আদালতে মামলা করেন। মামলায় স্বামী নওশাদসহ তার প্রথম স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন পরী ও প্রিন্স নামে এক ব্যক্তিকেও আসামি করেন। এ নিয়ে শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন।

সুমাইয়ার পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে সুমাইয়াকে ফোন করে নওশাদ। বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বাবার বাসা থেকে পরী ও প্রিন্সের সহযোগিতায় ইমরান বাবু ও নওশাদরা কৌশলে অপরহরণ করে নিয়ে যায়। পরে চন্দনাইশ উপজেলায় নিয়ে গিয়ে রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় সুমাইয়াকে। মৃত্যুর সময় সুমাইয়ার একমাত্র ছেলেসন্তান নিলয় সরোয়ারের বয়স ছিল ৯ মাস। নানির কাছে মানুষ হচ্ছে নিলয়। বর্তমানে নিলয়ের বয়স ৬ বছর।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক ওসমান গনি যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি আমি নতুনভাবে গত আগস্টে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। শুক্রবার এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত সুমাইয়ার স্বামী নওশাদকে খুলশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলার তদন্ত কবে নাগাদ শেষ করা যাবে, এ বিষয়ে এখনই বলা যাবে না।

চট্টগ্রামে সুমাইয়াকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার চান মা

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ সুমাইয়াকে পুড়িয়ে হত্যার বিচার চান মা সৈয়দা দিলরুবা বেগম। শুক্রবার এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত সুমাইয়ার স্বামী নওশাদকে খুলশী থেকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ, এরপর মামলার তদন্ত যায় পুলিশের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কাছে। তদন্ত শেষে সিআইডির দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে নওশাদের প্রথম স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন পরীকে বাদ দেয়ায় চার্জশিটের ওপর নারাজি দেন মামলার বাদী ও নিহতের মা সৈয়দা দিলরুবা বেগম। পরে আদালতের নির্দেশে এ মামলার পুনঃতদন্তের জন্য তদন্তভার দেয়া হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশকে।

রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কাজী আহমদ কবিরের মেয়ে কাজী কানিজ ফাতেমা সুমাইয়া (২৮)। ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল তাকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাসা থেকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় আদালতে বিচার শুরু তো দূরে থাক; দীর্ঘ ৫ বছরে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। নিহতের মা মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে।

২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর ভালোবেসে সুমাইয়া বিয়ে করেছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর সৈনিক লীগ নেতা শেখ নওশাদ সরোয়ার পিন্টুকে (৩৪)। রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী নওশাদ বন্দর থানাধীন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোসাইলডাঙ্গা এলাকার শেখ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। চট্টগ্রাম কলেজের মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া বিয়ের আগে জানত না নওশাদ বিবাহিত। তার আগের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন পরী (৪২)। বিয়ের পর কয়েক মাস আনন্দে কাটলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দেড় বছরের সংসারে তাদের কোলজুড়ে আসে ছেলে নিলয় সরোয়ার। যৌতুকের জন্য নির্যাতন নেমে আসে পরিবারের অমতে বিয়ে করা সুমাইয়ার ওপর। যৌতুকের জন্য নির্যাতন বেড়ে গেলে সুমাইয়া আদালতে মামলা করেন। মামলায় স্বামী নওশাদসহ তার প্রথম স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন পরী ও প্রিন্স নামে এক ব্যক্তিকেও আসামি করেন। এ নিয়ে শুরু হয় সম্পর্কের টানাপোড়েন।

সুমাইয়ার পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল বেলা ২টার দিকে সুমাইয়াকে ফোন করে নওশাদ। বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির বাবার বাসা থেকে পরী ও প্রিন্সের সহযোগিতায় ইমরান বাবু ও নওশাদরা কৌশলে অপরহরণ করে নিয়ে যায়। পরে চন্দনাইশ উপজেলায় নিয়ে গিয়ে রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় সুমাইয়াকে। মৃত্যুর সময় সুমাইয়ার একমাত্র ছেলেসন্তান নিলয় সরোয়ারের বয়স ছিল ৯ মাস। নানির কাছে মানুষ হচ্ছে নিলয়। বর্তমানে নিলয়ের বয়স ৬ বছর।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক ওসমান গনি যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি আমি নতুনভাবে গত আগস্টে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। শুক্রবার এ মামলার অন্যতম আসামি নিহত সুমাইয়ার স্বামী নওশাদকে খুলশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলার তদন্ত কবে নাগাদ শেষ করা যাবে, এ বিষয়ে এখনই বলা যাবে না।