রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে মাটি কেটে পাচার
jugantor
রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে মাটি কেটে পাচার
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভ

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উত্তোলিত মাটি ঢাকায় কয়েকটি ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে। আর এ পাচারের কারণে নদী ভাঙনের আশঙ্কা করছে জেলার হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের পূর্ব মান্দা, অরাকূল গ্রামের তিন-চারটি স্পট থেকে আটটি ভেকু মেশিন দিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন জাকির সিকদার। ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের সহযোগিতায় এ মাটি কেটে নেয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে সেখানে কেউ বাধা দিতেও সাহস পাচ্ছে না। পরে স্থানীয়রা শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। বাধ্য হয়েছে সেই বিক্ষোভ সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান মিলন মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

অভিযুক্ত হিজলা-গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, দু’দিন আগেই পরিষদে মিটিং করে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজই তারা এ ইউনিয়ন ছেড়ে চলে যাবে। আমি যদি এদের সঙ্গে জড়িত থাকতাম তবে কেন যারা মাটি কাটছেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলব। এমনি ইউএনওকেও বলা হয়েছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। সেখানে মাটি কাটছিল জাকির সিকদার। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এ অপরাধের সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সর্বহারা পার্টির নেতা জাকির সিকদার বলেন, আমি তো মাটির ব্যবসাই করি না। যে আমার নাম বলছে, সেই মিথ্যা কথা বলছে। তবে আমি শুনেছি একদিন মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কে নিয়েছে তা আমি জানি না।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, কোথাও এ ধরনের ঘটনা পেলে আমরা মোবাইল কোর্ট পাঠাই। কিন্তু অনেক সময় রাতের বেলা হলে সেটা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতা চাই আমরা। হিজলা-গৌরবদীর বিষয়টি আমার জানা নেই। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু ও মাটি কাটার কারণেই নদী ভাঙনের মূল কারণ। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, বালুখেকো ও অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া দরকার।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নদী শাসন ও স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, আমরা নদীতে ড্রেজিং করি, তীর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু লোক এসে নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে, এতে নদীর তীর ভেঙে যায়। আর আমরা বাঁধ নির্মাণ করলে তাও ভেঙে যাবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে মাটি কেটে পাচার

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভ
 সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাতের আঁধারে মেঘনা নদী থেকে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উত্তোলিত মাটি ঢাকায় কয়েকটি ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে। আর এ পাচারের কারণে নদী ভাঙনের আশঙ্কা করছে জেলার হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের পূর্ব মান্দা, অরাকূল গ্রামের তিন-চারটি স্পট থেকে আটটি ভেকু মেশিন দিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন জাকির সিকদার। ইউপি চেয়ারম্যান মিলনের সহযোগিতায় এ মাটি কেটে নেয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাবের কারণে সেখানে কেউ বাধা দিতেও সাহস পাচ্ছে না। পরে স্থানীয়রা শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। বাধ্য হয়েছে সেই বিক্ষোভ সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান মিলন মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

অভিযুক্ত হিজলা-গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, দু’দিন আগেই পরিষদে মিটিং করে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আজই তারা এ ইউনিয়ন ছেড়ে চলে যাবে। আমি যদি এদের সঙ্গে জড়িত থাকতাম তবে কেন যারা মাটি কাটছেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলব। এমনি ইউএনওকেও বলা হয়েছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। সেখানে মাটি কাটছিল জাকির সিকদার। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এ অপরাধের সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সর্বহারা পার্টির নেতা জাকির সিকদার বলেন, আমি তো মাটির ব্যবসাই করি না। যে আমার নাম বলছে, সেই মিথ্যা কথা বলছে। তবে আমি শুনেছি একদিন মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কে নিয়েছে তা আমি জানি না।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, কোথাও এ ধরনের ঘটনা পেলে আমরা মোবাইল কোর্ট পাঠাই। কিন্তু অনেক সময় রাতের বেলা হলে সেটা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতা চাই আমরা। হিজলা-গৌরবদীর বিষয়টি আমার জানা নেই। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু ও মাটি কাটার কারণেই নদী ভাঙনের মূল কারণ। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, বালুখেকো ও অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি উত্তোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া দরকার।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নদী শাসন ও স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, আমরা নদীতে ড্রেজিং করি, তীর রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করি। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু লোক এসে নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে, এতে নদীর তীর ভেঙে যায়। আর আমরা বাঁধ নির্মাণ করলে তাও ভেঙে যাবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।