স্কুলের নতুন নামে কালি লেপটে দিল বিএনপি
jugantor
রাজধানীতে বিক্ষোভ
স্কুলের নতুন নামে কালি লেপটে দিল বিএনপি
বংশাল থানায় জিডি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের মোগলটুলির একটি স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় স্কুলটির নতুন নামে কালি লেপটে দেন তারা। বিক্ষোভে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খানসহ কয়েকশ’ নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে এ ঘটনায় বংশাল থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

বিক্ষোভ মিছিলটি বংশাল মোড় থেকে মালিটোলা হয়ে স্কুলটির সামনে যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা স্কুলের নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, মোগলটুলিতে ২০০৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন নাম রাখা হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত স্কুলটির নাম রেখেছিলেন তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। কিছুদিন আগে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে ‘মোগলটুলি উচ্চবিদ্যালয়’ রাখা হয়।

নবাবপুর রোডের জাবিন টাওয়ারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা ও তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্কুলটি নির্মাণ করেন। আজ ন্যক্কারজনকভাবে স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। না এটি ঢাকাবাসীর দাবি ছিল, না অন্য কারও। এ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্লজ্জ মানসিকতা দেখিয়েছেন।

সরকারকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, নাম বদলে জনগণের মন থেকে জিয়াউর রহমানকে মুছে ফেলা যাবে না। হাবিব-উন-নবী খান বলেন, আজ থেকে প্রতিবাদ শুরু হল। যেখানেই অন্যায়ভাবে নামফলক পরিবর্তন করা হবে, সেখানেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের যুগান্তরকে বলেন, স্কুলের নামফলকে কালি লেপন করা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার মুখে কালিমা লেপন করার শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনভিপ্রেত, নিন্দনীয়। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এই স্কুলটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ফোরাম ‘বোর্ড সভায়’।

বংশাল থানার ওসি শাহিন ফকির যুগান্তরকে বলেন, স্কুলের নামফলকে কালি লেপনের অভিযোগে বিএন?পি নেতা হা?বিবুন্নবী খান সোহেল ও ইসরাক হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির ৫০-৬০ জন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জিডি নেয়া হয়েছে।

এদিকে নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে রোববার তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষণাসহ মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ, গৌরবোজ্জ্বল ও সাহসী ভূমিকা এবং আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের ইতিহাস বিকৃতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বশতবর্তী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। নগরবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি হলে তারা এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারতেন না। জিয়ার নাম যারাই মুছে ফেলার চেষ্টা করবে, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

রাজধানীতে বিক্ষোভ

স্কুলের নতুন নামে কালি লেপটে দিল বিএনপি

বংশাল থানায় জিডি
 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের মোগলটুলির একটি স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে রোববার দুপুরে এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় স্কুলটির নতুন নামে কালি লেপটে দেন তারা। বিক্ষোভে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খানসহ কয়েকশ’ নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে এ ঘটনায় বংশাল থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

বিক্ষোভ মিছিলটি বংশাল মোড় থেকে মালিটোলা হয়ে স্কুলটির সামনে যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা স্কুলের নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।

এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, মোগলটুলিতে ২০০৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন নাম রাখা হয় ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চবিদ্যালয়’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত স্কুলটির নাম রেখেছিলেন তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। কিছুদিন আগে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে ‘মোগলটুলি উচ্চবিদ্যালয়’ রাখা হয়।

নবাবপুর রোডের জাবিন টাওয়ারের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা ও তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্কুলটি নির্মাণ করেন। আজ ন্যক্কারজনকভাবে স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। না এটি ঢাকাবাসীর দাবি ছিল, না অন্য কারও। এ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্লজ্জ মানসিকতা দেখিয়েছেন।

সরকারকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, নাম বদলে জনগণের মন থেকে জিয়াউর রহমানকে মুছে ফেলা যাবে না। হাবিব-উন-নবী খান বলেন, আজ থেকে প্রতিবাদ শুরু হল। যেখানেই অন্যায়ভাবে নামফলক পরিবর্তন করা হবে, সেখানেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের যুগান্তরকে বলেন, স্কুলের নামফলকে কালি লেপন করা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার মুখে কালিমা লেপন করার শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনভিপ্রেত, নিন্দনীয়। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এই স্কুলটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ফোরাম ‘বোর্ড সভায়’।

বংশাল থানার ওসি শাহিন ফকির যুগান্তরকে বলেন, স্কুলের নামফলকে কালি লেপনের অভিযোগে বিএন?পি নেতা হা?বিবুন্নবী খান সোহেল ও ইসরাক হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির ৫০-৬০ জন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জিডি নেয়া হয়েছে।

এদিকে নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে রোববার তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষণাসহ মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ, গৌরবোজ্জ্বল ও সাহসী ভূমিকা এবং আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যুগান্তকারী নেতৃত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের ইতিহাস বিকৃতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির বশতবর্তী হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। নগরবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধি হলে তারা এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারতেন না। জিয়ার নাম যারাই মুছে ফেলার চেষ্টা করবে, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।