বান্দরবানে সাইরু রিসোর্টের ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ
jugantor
গোয়েন্দা অভিযান
বান্দরবানে সাইরু রিসোর্টের ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ

  বান্দরবান প্রতিনিধি  

০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে গড়ে তোলা বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র সাইরু রিসোর্টে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়েছেন। এ সময় ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। সোমবার দিনব্যাপী এই গোয়েন্দাদের একটি টিম এ অভিযান চালায়। উদ্ধার তথ্যমতে, সাইরু রিসোর্ট গড়ে প্রতি মাসে ভ্যাট দিয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃত বিক্রয় অনুসারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয় মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

গোয়েন্দা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল সোমবার বান্দারবানের চিম্বুক পাহাড় এলাকায় গড়ে তোলা বিলাসবহুল রিসোর্ট সাইরুতে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ব্যাপক ফাঁকির অনিয়ম পাওয়া গেছে। পাহাড়ের এই রিসোর্টটি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক রোডে অবস্থিত। এর মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০১৫৭৭০৯৪-০৫০১। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের একটি বিশেষ দল সাইরু রিসোর্টে অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন বান্দরবানের সাইরু রিসোর্ট প্রাঙ্গণে অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাদের আরেকটি দল সাইরু রিসোর্টের রাজধানীর বনানীর প্রধান কার্যালয়েও অভিযান চালায়। কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর সফুরা টাওয়ারের ১৪ তলায় এর প্রধান কার্যালয়। এতে উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

প্রাথমিকভাবে দুটো অভিযানে ভ্যাট গোয়েন্দার দল ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। গোয়েন্দারা ২০১৮ থেকে রিসোর্টের প্রকৃত বিক্রয় তথ্য উদ্ধার এবং কম্পিউটার থেকে তথ্যাদি জব্দ করেছে। এতে দেখা যায়, স্থানীয় বান্দরবান ভ্যাট সার্কেলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত বিক্রয় গোপন করেছে। যেমন সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর ২০২০ কর মেয়াদের রিটার্নে (যা নভেম্বর ১৫ তারিখে দাখিলকৃত) তাদের হোটেলে সেবা বিক্রয় প্রদর্শন করেছে ১১.৩৯ লাখ টাকা- যার ওপর ১৫ শতাংশ হিসাবে আদর্শ হারে পরিশোধিত মূসক ১.৭০ লাখ টাকা এবং আদর্শ হার ব্যতীত বিক্রয় ৪ লাখ টাকা, যার ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে পরিশোধিত মূসক ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধার করা বিক্রয় তথ্য অনুসারে, গোয়েন্দার দল দেখতে পান ওই মাসে বিক্রয় হয় ১.২৯ কোটি টাকা, যার ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রদেয় মূসক ১৯.৪৭ লাখ টাকা অর্থাৎ মূসকসহ মোট বিক্রয় ১.৪৮ কোটি টাকা। এই হিসাব অনুসারে, কেবল অক্টোবর ২০২০ মাসে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রায় ১৭.৪৭ লাখ টাকা। ভ্যাট গোয়েন্দারা অন্যান্য মাসেও অনুরূপ ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছেন।

সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন ও উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদ জানান, অভিযানে গোয়েন্দা দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সাইরু কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। জব্দকৃত কাগজপত্র যাচাই ও আরও তদন্ত শেষে সাইরু রিসোর্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সাইরু রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রাংলাই ম্রো জানান, ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল হঠাৎ সাইরু রিসোর্ট ভিজিট করে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেছেন। অসঙ্গতির অভিযোগে ভ্যাটের কিছু কাগজপত্রও তারা নিয়ে গেছেন। তাৎক্ষণিক কোনো অসঙ্গতি তারা পাননি। কোনো ধরনের জরিমানাও করা হয়নি।

সাইরু রিসোর্টের সংশ্লিষ্ট ওয়াহিদ বাবুল বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম সাইরু পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে তারা বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন। প্রায় সময় ভ্যাট গোয়েন্দারা ঝটিকা পরিদর্শন করেন।

গোয়েন্দা অভিযান

বান্দরবানে সাইরু রিসোর্টের ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ

 বান্দরবান প্রতিনিধি 
০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে গড়ে তোলা বিলাসবহুল পর্যটন কেন্দ্র সাইরু রিসোর্টে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়েছেন। এ সময় ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ মিলেছে। সোমবার দিনব্যাপী এই গোয়েন্দাদের একটি টিম এ অভিযান চালায়। উদ্ধার তথ্যমতে, সাইরু রিসোর্ট গড়ে প্রতি মাসে ভ্যাট দিয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃত বিক্রয় অনুসারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয় মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

গোয়েন্দা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল সোমবার বান্দারবানের চিম্বুক পাহাড় এলাকায় গড়ে তোলা বিলাসবহুল রিসোর্ট সাইরুতে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ব্যাপক ফাঁকির অনিয়ম পাওয়া গেছে। পাহাড়ের এই রিসোর্টটি বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক রোডে অবস্থিত। এর মূসক নিবন্ধন নম্বর ০০১৫৭৭০৯৪-০৫০১। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতরের একটি বিশেষ দল সাইরু রিসোর্টে অভিযান পরিচালনা করে। সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন বান্দরবানের সাইরু রিসোর্ট প্রাঙ্গণে অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি গোয়েন্দাদের আরেকটি দল সাইরু রিসোর্টের রাজধানীর বনানীর প্রধান কার্যালয়েও অভিযান চালায়। কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর সফুরা টাওয়ারের ১৪ তলায় এর প্রধান কার্যালয়। এতে উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

প্রাথমিকভাবে দুটো অভিযানে ভ্যাট গোয়েন্দার দল ব্যাপক ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। গোয়েন্দারা ২০১৮ থেকে রিসোর্টের প্রকৃত বিক্রয় তথ্য উদ্ধার এবং কম্পিউটার থেকে তথ্যাদি জব্দ করেছে। এতে দেখা যায়, স্থানীয় বান্দরবান ভ্যাট সার্কেলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত বিক্রয় গোপন করেছে। যেমন সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর ২০২০ কর মেয়াদের রিটার্নে (যা নভেম্বর ১৫ তারিখে দাখিলকৃত) তাদের হোটেলে সেবা বিক্রয় প্রদর্শন করেছে ১১.৩৯ লাখ টাকা- যার ওপর ১৫ শতাংশ হিসাবে আদর্শ হারে পরিশোধিত মূসক ১.৭০ লাখ টাকা এবং আদর্শ হার ব্যতীত বিক্রয় ৪ লাখ টাকা, যার ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে পরিশোধিত মূসক ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধার করা বিক্রয় তথ্য অনুসারে, গোয়েন্দার দল দেখতে পান ওই মাসে বিক্রয় হয় ১.২৯ কোটি টাকা, যার ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রদেয় মূসক ১৯.৪৭ লাখ টাকা অর্থাৎ মূসকসহ মোট বিক্রয় ১.৪৮ কোটি টাকা। এই হিসাব অনুসারে, কেবল অক্টোবর ২০২০ মাসে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রায় ১৭.৪৭ লাখ টাকা। ভ্যাট গোয়েন্দারা অন্যান্য মাসেও অনুরূপ ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছেন।

সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. মহিউদ্দীন ও উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদ জানান, অভিযানে গোয়েন্দা দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সাইরু কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা যথাযথভাবে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। জব্দকৃত কাগজপত্র যাচাই ও আরও তদন্ত শেষে সাইরু রিসোর্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সাইরু রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী রাংলাই ম্রো জানান, ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল হঠাৎ সাইরু রিসোর্ট ভিজিট করে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেছেন। অসঙ্গতির অভিযোগে ভ্যাটের কিছু কাগজপত্রও তারা নিয়ে গেছেন। তাৎক্ষণিক কোনো অসঙ্গতি তারা পাননি। কোনো ধরনের জরিমানাও করা হয়নি।

সাইরু রিসোর্টের সংশ্লিষ্ট ওয়াহিদ বাবুল বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম সাইরু পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে তারা বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন। প্রায় সময় ভ্যাট গোয়েন্দারা ঝটিকা পরিদর্শন করেন।