রাজশাহীতে কিট সংকটে ডোপ টেস্ট
jugantor
মাদকাসক্ত ৪ পুলিশ শনাক্ত
রাজশাহীতে কিট সংকটে ডোপ টেস্ট

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী জেলা পুলিশের চার সদস্য মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি ডোপ টেস্টে তারা মাদকাসক্ত বলে শনাক্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন।

এদিকে রোববার জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আরও ৮ পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেসব ফলাফলও ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসে পৌঁছাবে। জেলা পুলিশের সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দেশের মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি অধিক। রাজশাহী জেলায় পুলিশের মাঝে মাদকাসক্তির হার অধিক বিবেচনায় ডোপ টেস্ট চলমান রয়েছে। তবে কিট সংকটে রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) ডোপ টেস্ট শুরু হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ মতে, অক্টোবরে রাজশাহী জেলা পুলিশে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। ইতোমধ্যে ৭ সন্দেহভাজনের ডোপ টেস্ট করার পর ৪ জনকে শনাক্ত করা হয়। এই চারজনই বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল। ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, রোববার রাজশাহী জেলা পুলিশের আরও আটজনের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল রয়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যে এসব টেস্টের ফলাফল জেলা পুলিশের হাতে আসবে। আরও কিছু সন্দেহভাজন সদস্যের ডোপ টেস্ট হবে। রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে ডোপ টেস্ট কমিটি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রথমে ফলাফল ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে পাঠিয়ে থাকে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর পুলিশকে ফলাফল জানানো হয়।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার আরও জানান, পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি রাজশাহীর প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাদকাসক্ত হিসেবে যারা সন্দেহভাজন তাদের নাম গোপনে পুলিশ সুপারের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো থানার ওসি বা ইউনিট প্রধান অধীনস্থ কোনো সন্দেহভাজনের বিষয়টি গোপন করলে ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসপি মাসুদ আরও বলেন, গণহারে সবার ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে না। শুধু যারা সন্দেহভাজন তাদেরই করা হচ্ছে। এদের মুখ, চোখ ও ঠোঁট দেখেও অনেক সময় মাদকাসক্ত বলে সন্দেহভাজনদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। ডোপ টেস্টের সময় তাদের এসব লক্ষণ দেখা হচ্ছে। পুলিশের সূত্রগুলো আরও বলছেন, রাজশাহী সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পুলিশের অনেকের কাছে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তারা দিনে দিনে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। এই সংখ্যা নেহাত কম নয়। আবার অনেকেই মাদকের কারবারেও জড়িয়ে পড়েছেন। ইতোপূর্বে মাদক পাচারের সময় একাধিক পুলিশ সদস্য গ্রেফতারও হন।

এদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশে ডোপ টেস্ট শুরু হলেও রাজশাহী মহানগর পুলিশে এখনও এই কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম রুহুল কুদ্দুশ জানান, আরএমপিতে ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় কিট আসেনি। কিট পৌঁছালে মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্য শনাক্তে ডোপ টেস্ট শুরু হবে। কবে নাগাদ কিট আসবে জানতে চাইলে বলেন, পুলিশ সদর দফতর যখন সরবরাহ দেবেন তখনই।

অন্যদিকে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশে কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা ও পুলিশ কনস্টেবল রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো কঠিন মাদক গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। আবার কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব পুলিশ সদস্য কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫ বছর ঘুরেফিরে রাজশাহী জেলা থেকে মহানগরে আবার মহানগর থেকে জেলা পুলিশে পোস্টিং নিয়ে রাজশাহীতেই থাকছেন। মূলত তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদক গ্রহণের অভিযোগ বেশি। আবার ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই তবদির করে বদলি নিয়ে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছেন।

মাদকাসক্ত ৪ পুলিশ শনাক্ত

রাজশাহীতে কিট সংকটে ডোপ টেস্ট

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী জেলা পুলিশের চার সদস্য মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি ডোপ টেস্টে তারা মাদকাসক্ত বলে শনাক্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন।

এদিকে রোববার জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আরও ৮ পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেসব ফলাফলও ঢাকা থেকে রাজশাহীতে এসে পৌঁছাবে। জেলা পুলিশের সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দেশের মধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি অধিক। রাজশাহী জেলায় পুলিশের মাঝে মাদকাসক্তির হার অধিক বিবেচনায় ডোপ টেস্ট চলমান রয়েছে। তবে কিট সংকটে রাজশাহী মহানগর পুলিশে (আরএমপি) ডোপ টেস্ট শুরু হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ মতে, অক্টোবরে রাজশাহী জেলা পুলিশে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। ইতোমধ্যে ৭ সন্দেহভাজনের ডোপ টেস্ট করার পর ৪ জনকে শনাক্ত করা হয়। এই চারজনই বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল। ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, রোববার রাজশাহী জেলা পুলিশের আরও আটজনের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল রয়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যে এসব টেস্টের ফলাফল জেলা পুলিশের হাতে আসবে। আরও কিছু সন্দেহভাজন সদস্যের ডোপ টেস্ট হবে। রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে ডোপ টেস্ট কমিটি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রথমে ফলাফল ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে পাঠিয়ে থাকে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগর পুলিশকে ফলাফল জানানো হয়।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার আরও জানান, পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি রাজশাহীর প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাদকাসক্ত হিসেবে যারা সন্দেহভাজন তাদের নাম গোপনে পুলিশ সুপারের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো থানার ওসি বা ইউনিট প্রধান অধীনস্থ কোনো সন্দেহভাজনের বিষয়টি গোপন করলে ওসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসপি মাসুদ আরও বলেন, গণহারে সবার ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে না। শুধু যারা সন্দেহভাজন তাদেরই করা হচ্ছে। এদের মুখ, চোখ ও ঠোঁট দেখেও অনেক সময় মাদকাসক্ত বলে সন্দেহভাজনদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। ডোপ টেস্টের সময় তাদের এসব লক্ষণ দেখা হচ্ছে। পুলিশের সূত্রগুলো আরও বলছেন, রাজশাহী সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পুলিশের অনেকের কাছে মাদক সহজলভ্য হওয়ায় তারা দিনে দিনে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। এই সংখ্যা নেহাত কম নয়। আবার অনেকেই মাদকের কারবারেও জড়িয়ে পড়েছেন। ইতোপূর্বে মাদক পাচারের সময় একাধিক পুলিশ সদস্য গ্রেফতারও হন।

এদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশে ডোপ টেস্ট শুরু হলেও রাজশাহী মহানগর পুলিশে এখনও এই কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম রুহুল কুদ্দুশ জানান, আরএমপিতে ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় কিট আসেনি। কিট পৌঁছালে মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্য শনাক্তে ডোপ টেস্ট শুরু হবে। কবে নাগাদ কিট আসবে জানতে চাইলে বলেন, পুলিশ সদর দফতর যখন সরবরাহ দেবেন তখনই।

অন্যদিকে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশে কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা ও পুলিশ কনস্টেবল রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো কঠিন মাদক গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। আবার কারও কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব পুলিশ সদস্য কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫ বছর ঘুরেফিরে রাজশাহী জেলা থেকে মহানগরে আবার মহানগর থেকে জেলা পুলিশে পোস্টিং নিয়ে রাজশাহীতেই থাকছেন। মূলত তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও মাদক গ্রহণের অভিযোগ বেশি। আবার ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই তবদির করে বদলি নিয়ে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছেন।