‘ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া নৌকার প্রার্থী’
jugantor
বাঘারপাড়া উপনির্বাচন বিএনপির অভিযোগ
‘ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া নৌকার প্রার্থী’

  যশোর ব্যুরো  

০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে নৌকার প্রার্থী। নিজেদের ক্ষমতার অনুকূল পরিবেশ পেয়ে প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা, ভাংচুর করছে। ভোটগ্রহণের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই শঙ্কা বাড়ছে। নৌকা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। নির্বাচনের মাঠ গরম করতে বিএনপি অপপ্রচার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু দাবি করেন, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পর নৌকা প্রতীকের লোকজন ৫ ডিসেম্বরের পর থেকে মাঠ দখলের আলটিমেটাম দিয়েছিল। তারা ঘোষণা দিয়েছিল ৫ তারিখের পর ভোটের চিত্র বদলে দেবে। যার আলামত ৪ ডিসেম্বর রাত থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এর আগে ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় নৌকার প্রার্থীর কর্মীরা তালা লাগিয়ে দেয়। ধানের শীষের একাধিক অফিসে নৌকার পোস্টার টানিয়ে দেয়। বেশ কয়েকটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা হলেও কোনো প্রতিকার তারা পাননি। উল্টো ওইসব ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগ ও তার বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা নিজেরা হামলা-পাল্টা হামলা ঘটালেও মামলা হচ্ছে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের নামে। এমন পরিস্থিতি থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেন, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। এটা জেনেই পরিবেশ অশান্ত করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থী জয়ী হতে চাইছেন। আমরা সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। এজন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য আবদুস সালাম আজাদ, বাঘাপাড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান, বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, সাবেক মেয়র আবদুল হাই মনা।

বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনাতয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পিএম রেজাউল ইসলাম দ্বীন মোহাম্মদ ওরফে দিলু পাটোয়ারী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে নৌকা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী ছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামছুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

বাঘারপাড়া উপনির্বাচন বিএনপির অভিযোগ

‘ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া নৌকার প্রার্থী’

 যশোর ব্যুরো 
০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোটের মাঠ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে নৌকার প্রার্থী। নিজেদের ক্ষমতার অনুকূল পরিবেশ পেয়ে প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা, ভাংচুর করছে। ভোটগ্রহণের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই শঙ্কা বাড়ছে। নৌকা ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছে বিএনপি।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। নির্বাচনের মাঠ গরম করতে বিএনপি অপপ্রচার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু দাবি করেন, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পর নৌকা প্রতীকের লোকজন ৫ ডিসেম্বরের পর থেকে মাঠ দখলের আলটিমেটাম দিয়েছিল। তারা ঘোষণা দিয়েছিল ৫ তারিখের পর ভোটের চিত্র বদলে দেবে। যার আলামত ৪ ডিসেম্বর রাত থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এর আগে ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় নৌকার প্রার্থীর কর্মীরা তালা লাগিয়ে দেয়। ধানের শীষের একাধিক অফিসে নৌকার পোস্টার টানিয়ে দেয়। বেশ কয়েকটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে করা হলেও কোনো প্রতিকার তারা পাননি। উল্টো ওইসব ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগ ও তার বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা নিজেরা হামলা-পাল্টা হামলা ঘটালেও মামলা হচ্ছে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের নামে। এমন পরিস্থিতি থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেন, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। এটা জেনেই পরিবেশ অশান্ত করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থী জয়ী হতে চাইছেন। আমরা সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট চাই। এজন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য আবদুস সালাম আজাদ, বাঘাপাড়া উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামসুর রহমান, বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, সাবেক মেয়র আবদুল হাই মনা।

বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাব যশোর মিলনাতয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পিএম রেজাউল ইসলাম দ্বীন মোহাম্মদ ওরফে দিলু পাটোয়ারী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে নৌকা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী ছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শামছুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।