রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পার্ক দখলের চেষ্টা
jugantor
রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পার্ক দখলের চেষ্টা

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি  

০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙ্গামাটি ডিসি (জেলা প্রশাসক) বাংলো পার্কটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা প্রশাসন পার্কে বসানো পাইরেটস রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে। পার্কটি দখলমুক্ত করতে বিপাকে পড়তে হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছেন পাইরেটস রেস্টুরেন্টের মালিকানা দাবিদার নাজনীন আনোয়ার। অথচ ওইসব মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মনোরম কাপ্তাই হ্রদ পরিবেষ্টিত রাঙ্গামাটি শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জেলা প্রশাসকের বাংলো। বাংলোর সামনেই কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে জেলা প্রশাসনের প্রায় তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পার্ক।

জানা যায়, ২০১৭ সালের শেষের দিকে এ পার্কটি সার্বজনীন ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হয়। এতে নির্ধারিত হারে বাৎসরিক ভাড়াসহ শর্ত ছিল ১৩টি। দুই বছরের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হয়েছিল রাঙ্গামাটি শহরের দেবাশীষ নগরের আবুল হাসেমের ছেলে মো. হোসেনের নামে। কিন্তু কার্যত পার্কে ‘পাইরেটস রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে তা পরিচালনা করে আসছিলেন নাজনীন আনোয়ার। নাজনীনের মা ফিরোজা বেগম চিনু ওই সময় রাঙ্গামাটির সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রভাব খাটিয়ে ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া হলেও ইতোমধ্যেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরও দখল ছেড়ে দেয়া হচ্ছে না। শর্তে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পার্কের কোনো কিছুই পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট, কিডস জোন, সেলফি কর্নার, ফুল ও ফলের বাগান, গণশৌচাগার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সোলার লাইট স্থাপন, সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা বেষ্টনী, পাহাড়ধস নিরোধ ব্যবস্থা, পানির মোটর স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নে প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাইরেটস রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ওই পাইরেটস রেস্টুরেন্টে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকদ্রব্য ব্যবহারসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। ডিসি বাংলো পার্ক সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রোকনুজ্জামান বলেন, প্রায় প্রতি রাতেই লোকজন দেয়াল টপকে ওই রেস্টুরেন্টে ঢুকে হইহুল্লোড় করে, মদ-গাঁজা সেবন করে।

১ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে নাজনীন আনোয়ার ও মো. হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাইরেটস পরিবারের ওপর মামলা, হামলাসহ নানা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজনীন আনোয়ার বলেন, পার্কটি মো. হোসেনের নামে ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হলেও আমরা অংশীদারী মূলে মালিকানায় চারজন রয়েছি। তাছাড়া পার্কটি ছাড়তে জেলা প্রশাসন আমাদের লিখিত কোনো নোটিশ বা চিঠি দেয়নি। আমি সেখানে অনেক টাকা বিনিয়োগ করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, পার্কটির সম্পদ সরকারের। আর আমরা সরকার ও জনগণের কাজ করি। তাই সরকারের সম্পদ হিসেবে পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের। আমি ব্যক্তিগতভাবে নাজনীন আনোয়ারকে চিনি না। তার নামে কোনো মামলাও করিনি। বরং তিনি আমার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। তিনি যা করছেন সেগুলো অনভিপ্রেত, বিব্রতকর ও খুবই দুঃখজনক।

রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পার্ক দখলের চেষ্টা

 সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি 
০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙ্গামাটি ডিসি (জেলা প্রশাসক) বাংলো পার্কটি দখলে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা প্রশাসন পার্কে বসানো পাইরেটস রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছে। পার্কটি দখলমুক্ত করতে বিপাকে পড়তে হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছেন পাইরেটস রেস্টুরেন্টের মালিকানা দাবিদার নাজনীন আনোয়ার। অথচ ওইসব মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

মনোরম কাপ্তাই হ্রদ পরিবেষ্টিত রাঙ্গামাটি শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জেলা প্রশাসকের বাংলো। বাংলোর সামনেই কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে জেলা প্রশাসনের প্রায় তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলো পার্ক।

জানা যায়, ২০১৭ সালের শেষের দিকে এ পার্কটি সার্বজনীন ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হয়। এতে নির্ধারিত হারে বাৎসরিক ভাড়াসহ শর্ত ছিল ১৩টি। দুই বছরের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হয়েছিল রাঙ্গামাটি শহরের দেবাশীষ নগরের আবুল হাসেমের ছেলে মো. হোসেনের নামে। কিন্তু কার্যত পার্কে ‘পাইরেটস রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে তা পরিচালনা করে আসছিলেন নাজনীন আনোয়ার। নাজনীনের মা ফিরোজা বেগম চিনু ওই সময় রাঙ্গামাটির সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রভাব খাটিয়ে ব্যবহারের জন্য অনুমতি নেয়া হলেও ইতোমধ্যেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এরপরও দখল ছেড়ে দেয়া হচ্ছে না। শর্তে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পার্কের কোনো কিছুই পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট, কিডস জোন, সেলফি কর্নার, ফুল ও ফলের বাগান, গণশৌচাগার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সোলার লাইট স্থাপন, সিসি ক্যামেরা নিরাপত্তা বেষ্টনী, পাহাড়ধস নিরোধ ব্যবস্থা, পানির মোটর স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নে প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাইরেটস রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ওই পাইরেটস রেস্টুরেন্টে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকদ্রব্য ব্যবহারসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। ডিসি বাংলো পার্ক সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রোকনুজ্জামান বলেন, প্রায় প্রতি রাতেই লোকজন দেয়াল টপকে ওই রেস্টুরেন্টে ঢুকে হইহুল্লোড় করে, মদ-গাঁজা সেবন করে।

১ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে নাজনীন আনোয়ার ও মো. হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাইরেটস পরিবারের ওপর মামলা, হামলাসহ নানা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজনীন আনোয়ার বলেন, পার্কটি মো. হোসেনের নামে ব্যবহারের অনুমতি নেয়া হলেও আমরা অংশীদারী মূলে মালিকানায় চারজন রয়েছি। তাছাড়া পার্কটি ছাড়তে জেলা প্রশাসন আমাদের লিখিত কোনো নোটিশ বা চিঠি দেয়নি। আমি সেখানে অনেক টাকা বিনিয়োগ করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, পার্কটির সম্পদ সরকারের। আর আমরা সরকার ও জনগণের কাজ করি। তাই সরকারের সম্পদ হিসেবে পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের। আমি ব্যক্তিগতভাবে নাজনীন আনোয়ারকে চিনি না। তার নামে কোনো মামলাও করিনি। বরং তিনি আমার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। তিনি যা করছেন সেগুলো অনভিপ্রেত, বিব্রতকর ও খুবই দুঃখজনক।