রাজশাহীতে ১৬ স্বর্ণের বার উদ্ধার, গ্রেফতার এক
jugantor
আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সাজানো ছিনতাই
রাজশাহীতে ১৬ স্বর্ণের বার উদ্ধার, গ্রেফতার এক

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুঠিয়া উপজেলার জামনগর গ্রামের জিতেন ধরের বাড়ি থেকে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে ১৬টি সোনার বার উদ্ধার করেছে। এ জিতেন ধর ২১ ডিসেম্বর রাজশাহীর ভদ্রা মোড়ে ১৭টি সোনার বার ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিল। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। জিতেনের বাবার নাম দীনেশ ধর। নিজ ভাই দ্বিজেন ধরের স্বর্ণ আত্মসাৎ করতেই জিতেন ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিল ওই দিন।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকায় এ ছিনতাই নাটক সাজানো হয়েছিল। এ নিয়ে এসব স্বর্ণের প্রকৃত মালিক জিতেনের ভাই দ্বিজেন ধর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন। এরপর শুক্রবার বোয়ালিয়া থানা পুলিশ জিতেন ধরকে গ্রেফতার করে। পরে শনিবার এ নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেফতার জিতেনের বড় ভাই দ্বিজেন ধর ফেনীতে থাকেন। ২১ ডিসেম্বর তিনি ফেনীর দুটি জুয়েলার্স থেকে ১৭টি স্বর্ণের বার কিনে নিয়ে ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাই জিতেন ধরের বাড়িতে স্বর্ণগুলো রাখতে দেন। প্রতিটি বারের ওজন ১০ ভরি করে। ১৭টি বারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৭১ লাখ টাকা। জিতেন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। তিনি স্বর্ণ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি বারের পরিবর্তে তিনটি সিসার রড কাগজে স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচিয়ে স্বর্ণের বারের ব্যাগে রেখে দেন। আর আসল বারগুলো নিজের বাড়িতেই রেখে দেন।

পরে দ্বিজেন তার ভাই জিতেনকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী শহরে মানিক জুয়েলার্সের দোকানে স্বর্ণ বিক্রি করতে আসেন। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে জিতেন আগে থেকেই ছিনতাইয়ের নাটক সাজায়। জিতেন ও দ্বিজেন নগরীর শিরোইল এলাকায় পৌঁছামাত্র হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে চার ব্যক্তি এসে নিজেদের ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয় দেয়। তাদের কাছে থাকা হ্যান্ডকাফ দেখায়। তারা জিতেনের কাছে থাকা ব্যাগটি জোর করে কেড়ে নেয়। মানিব্যাগ এবং দুটি মুঠোফোনও কেড়ে নেয়া হয়। এরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছিনতাইয়ের নাটকটি সাজিয়েছিল জিতেন। তার পরিকল্পনা মোতাবেক মিজানুর রহমান মিজান ও মৃদুল নামে দুই ব্যক্তি পুঠিয়া থেকেই বাসের পেছনে মোটরসাইকেলে আসে। তারা ব্যাগ ছিনতাইয়ের জন্য শহরে অন্য তিনজনকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রস্তুত রাখে। জিতেন ও দ্বিজেন বাস থেকে নামলেই সে তথ্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেয় মিজান ও মৃদুল। এরপরই ব্যাগ কেড়ে নেয় তারা। তবে আসল স্বর্ণ জিতেন বাড়িতেই ছিল। সেখান থেকে একটি বার জিতেন বিক্রি করে দেয়। তাকে গ্রেফতারের সময় বাড়ি থেকে বাকি ১৬টি বার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ‘ক্লু-লেস’ ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। এ ঘটনায় শুধু জিতেনকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এখন তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সাজানো ছিনতাই

রাজশাহীতে ১৬ স্বর্ণের বার উদ্ধার, গ্রেফতার এক

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুঠিয়া উপজেলার জামনগর গ্রামের জিতেন ধরের বাড়ি থেকে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে ১৬টি সোনার বার উদ্ধার করেছে। এ জিতেন ধর ২১ ডিসেম্বর রাজশাহীর ভদ্রা মোড়ে ১৭টি সোনার বার ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিল। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। জিতেনের বাবার নাম দীনেশ ধর। নিজ ভাই দ্বিজেন ধরের স্বর্ণ আত্মসাৎ করতেই জিতেন ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিল ওই দিন।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল এলাকায় এ ছিনতাই নাটক সাজানো হয়েছিল। এ নিয়ে এসব স্বর্ণের প্রকৃত মালিক জিতেনের ভাই দ্বিজেন ধর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা করেন। এরপর শুক্রবার বোয়ালিয়া থানা পুলিশ জিতেন ধরকে গ্রেফতার করে। পরে শনিবার এ নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেফতার জিতেনের বড় ভাই দ্বিজেন ধর ফেনীতে থাকেন। ২১ ডিসেম্বর তিনি ফেনীর দুটি জুয়েলার্স থেকে ১৭টি স্বর্ণের বার কিনে নিয়ে ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ভাই জিতেন ধরের বাড়িতে স্বর্ণগুলো রাখতে দেন। প্রতিটি বারের ওজন ১০ ভরি করে। ১৭টি বারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৭১ লাখ টাকা। জিতেন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। তিনি স্বর্ণ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন। এজন্য তিনি বারের পরিবর্তে তিনটি সিসার রড কাগজে স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচিয়ে স্বর্ণের বারের ব্যাগে রেখে দেন। আর আসল বারগুলো নিজের বাড়িতেই রেখে দেন।

পরে দ্বিজেন তার ভাই জিতেনকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী শহরে মানিক জুয়েলার্সের দোকানে স্বর্ণ বিক্রি করতে আসেন। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে জিতেন আগে থেকেই ছিনতাইয়ের নাটক সাজায়। জিতেন ও দ্বিজেন নগরীর শিরোইল এলাকায় পৌঁছামাত্র হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে চার ব্যক্তি এসে নিজেদের ‘প্রশাসনের লোক’ পরিচয় দেয়। তাদের কাছে থাকা হ্যান্ডকাফ দেখায়। তারা জিতেনের কাছে থাকা ব্যাগটি জোর করে কেড়ে নেয়। মানিব্যাগ এবং দুটি মুঠোফোনও কেড়ে নেয়া হয়। এরপর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছিনতাইয়ের নাটকটি সাজিয়েছিল জিতেন। তার পরিকল্পনা মোতাবেক মিজানুর রহমান মিজান ও মৃদুল নামে দুই ব্যক্তি পুঠিয়া থেকেই বাসের পেছনে মোটরসাইকেলে আসে। তারা ব্যাগ ছিনতাইয়ের জন্য শহরে অন্য তিনজনকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রস্তুত রাখে। জিতেন ও দ্বিজেন বাস থেকে নামলেই সে তথ্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেয় মিজান ও মৃদুল। এরপরই ব্যাগ কেড়ে নেয় তারা। তবে আসল স্বর্ণ জিতেন বাড়িতেই ছিল। সেখান থেকে একটি বার জিতেন বিক্রি করে দেয়। তাকে গ্রেফতারের সময় বাড়ি থেকে বাকি ১৬টি বার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ‘ক্লু-লেস’ ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। এ ঘটনায় শুধু জিতেনকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এখন তার সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন