আ.লীগ প্রার্থী সাইফুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ভারী
jugantor
৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড
আ.লীগ প্রার্থী সাইফুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ভারী

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম  

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ততই ভারি হচ্ছে। বারবার খোলস পাল্টানোতে পটু এ কাউন্সিলর প্রার্থীর অতীতের নানা অপকর্মও সামনে আসছে।

চান্দগাঁও ওয়ার্ডে সাইফুদ্দিন খালেদসহ ৮ প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাইফু ছাড়া আরও দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এদের একজন হচ্ছেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আরেকজন নাছির উদ্দিন। বিএনপির মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন মাহাবুবুল আলম। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে এসরারুল হক, সাইফুল্লাহ খাঁন, জাহেদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও ইউচুফ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খোঁজখবর নিয়ে ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাইফুর অবস্থা এবার নড়বড়ে। বিপরীতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান ও বিএনপির একক প্রার্থী মাহবুবুল আলম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার বাবা এলাকার চিহ্নিত রাজাকার এবং ভাই ও চাচারা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সাইফু আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ডে নির্বাচন করে বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে। নানা উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও ‘চাঁদাবাজি’ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চান্দগাঁওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরকারের সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর সাইনবোর্ড অপসারণের মতো দুঃসাহসও দেখান সাইফু। এত কিছুর পরও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় এবার কাউন্সিলর হিসাবে দলের সমর্থন বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। তবে এবারের নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাইফুর পক্ষে কাজ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তারা দলের জন্য ত্যাগী ও সৎ প্রার্থীকেই বেছে নেবেন বলে জানান।

সূত্র জানায়, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী ছিলেন সাইফুদ্দিন খালেদ। এরপর কাউন্সিলর টিকিট পেতে খোলস পাল্টে যোগ দেন তৎকালীন মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চোধুরীর গ্রুপে। সেখানেও ব্যাটে-বলে বেশিদিন মেলেনি। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় আবার ডিগবাজি দিয়ে বনে যান নাছির অনুসারী। এরপর কাউন্সিলরও হয়ে যান। সর্বশেষ মেয়র হিসাবে মনোনয়ন না পাওয়ায় নাছির গ্রুপ ছেড়ে দিয়ে মহিউদ্দিন পুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গ্রুপে যোগ দেন সাইফু। আর এভাবেই সাইফুদ্দিন খালেদ কাউন্সিলর পদে সরকার দলীয় সমর্থন বাগিয়ে নেন। যদিও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতেই ছিল সাইফুদ্দিন খালেদের হাতেখড়ি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত সব প্রকল্পের ঠিকাদার থেকে ১৫-২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাইফু। তার পিএস এমদাদুল হক জুনু ও আয়াসের মাধ্যমে এসব কমিশন সংগ্রহ করতেন। এছাড়া কমিশনের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেন সাইফু। কমিশন দিতে রাজি থাকলেই রাস্তাঘাট নির্মাণ করতেন অদক্ষ ঠিকাদাররা। এছাড়া নামসর্বস্ব অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফু নিজেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিুমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন সীমানা প্রাচীর। ফলে নির্মাণের অল্পদিনেই দেখা দেয় বেহাল দশা। এই ওয়ার্ডের বেজু মুন্সির বাড়ির সড়কে ৫ ইঞ্চি ঢালাই বরাদ্দ থাকলেও ঢালাই দেয়া হয় দেড় ইঞ্চি। ঠিকাদার হারুন ও সাইফু খরচের উদ্বৃত্ত টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ওয়ার্ডের সরকারি সুবিধাসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেন সাইফু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এদের মধ্যে বিএনপির সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত সেলিম ওরফে কালা সেলিম্যা, শোয়েব মিথুন, নিজাম উদ্দিন নিজু, আয়াস, জুনু, সাহেদুল ইসলাম অপু অন্যতম। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় চোলাই মদ বিক্রয়কারী, বহদ্দারহাট টার্মিনালের স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন অনৈতিক ম্যাসেজ পার্লার থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এসব কারণে নড়বড়ে অবস্থান থেকে নিজেকে তুলে আনতে এবং নির্বাচনে জিততে সাইফু তুরুপের তাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন থানা পুলিশকে!

মন্ত্রীর নামফলক ভেঙে ফেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু। তিনি বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি বা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই। এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে আছেন। ৫ বছর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছি। তাই ভোটাররা আমাকেই বেছে নেবেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আমাকে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।’

৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড

আ.লীগ প্রার্থী সাইফুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ভারী

 এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম 
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ততই ভারি হচ্ছে। বারবার খোলস পাল্টানোতে পটু এ কাউন্সিলর প্রার্থীর অতীতের নানা অপকর্মও সামনে আসছে।

চান্দগাঁও ওয়ার্ডে সাইফুদ্দিন খালেদসহ ৮ প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাইফু ছাড়া আরও দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এদের একজন হচ্ছেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আরেকজন নাছির উদ্দিন। বিএনপির মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন মাহাবুবুল আলম। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে এসরারুল হক, সাইফুল্লাহ খাঁন, জাহেদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও ইউচুফ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খোঁজখবর নিয়ে ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাইফুর অবস্থা এবার নড়বড়ে। বিপরীতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান ও বিএনপির একক প্রার্থী মাহবুবুল আলম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার বাবা এলাকার চিহ্নিত রাজাকার এবং ভাই ও চাচারা বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সাইফু আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ডে নির্বাচন করে বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে। নানা উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য ও ‘চাঁদাবাজি’ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চান্দগাঁওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরকারের সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর সাইনবোর্ড অপসারণের মতো দুঃসাহসও দেখান সাইফু। এত কিছুর পরও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পুনরায় এবার কাউন্সিলর হিসাবে দলের সমর্থন বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে। তবে এবারের নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সাইফুর পক্ষে কাজ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তারা দলের জন্য ত্যাগী ও সৎ প্রার্থীকেই বেছে নেবেন বলে জানান।

সূত্র জানায়, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী ছিলেন সাইফুদ্দিন খালেদ। এরপর কাউন্সিলর টিকিট পেতে খোলস পাল্টে যোগ দেন তৎকালীন মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চোধুরীর গ্রুপে। সেখানেও ব্যাটে-বলে বেশিদিন মেলেনি। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় আবার ডিগবাজি দিয়ে বনে যান নাছির অনুসারী। এরপর কাউন্সিলরও হয়ে যান। সর্বশেষ মেয়র হিসাবে মনোনয়ন না পাওয়ায় নাছির গ্রুপ ছেড়ে দিয়ে মহিউদ্দিন পুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গ্রুপে যোগ দেন সাইফু। আর এভাবেই সাইফুদ্দিন খালেদ কাউন্সিলর পদে সরকার দলীয় সমর্থন বাগিয়ে নেন। যদিও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতেই ছিল সাইফুদ্দিন খালেদের হাতেখড়ি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির মাধ্যমে বরাদ্দকৃত সব প্রকল্পের ঠিকাদার থেকে ১৫-২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাইফু। তার পিএস এমদাদুল হক জুনু ও আয়াসের মাধ্যমে এসব কমিশন সংগ্রহ করতেন। এছাড়া কমিশনের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেন সাইফু। কমিশন দিতে রাজি থাকলেই রাস্তাঘাট নির্মাণ করতেন অদক্ষ ঠিকাদাররা। এছাড়া নামসর্বস্ব অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফু নিজেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিুমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন সীমানা প্রাচীর। ফলে নির্মাণের অল্পদিনেই দেখা দেয় বেহাল দশা। এই ওয়ার্ডের বেজু মুন্সির বাড়ির সড়কে ৫ ইঞ্চি ঢালাই বরাদ্দ থাকলেও ঢালাই দেয়া হয় দেড় ইঞ্চি। ঠিকাদার হারুন ও সাইফু খরচের উদ্বৃত্ত টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, ওয়ার্ডের সরকারি সুবিধাসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেন সাইফু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এদের মধ্যে বিএনপির সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত সেলিম ওরফে কালা সেলিম্যা, শোয়েব মিথুন, নিজাম উদ্দিন নিজু, আয়াস, জুনু, সাহেদুল ইসলাম অপু অন্যতম। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় চোলাই মদ বিক্রয়কারী, বহদ্দারহাট টার্মিনালের স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন অনৈতিক ম্যাসেজ পার্লার থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এসব কারণে নড়বড়ে অবস্থান থেকে নিজেকে তুলে আনতে এবং নির্বাচনে জিততে সাইফু তুরুপের তাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন থানা পুলিশকে!

মন্ত্রীর নামফলক ভেঙে ফেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আ’লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু। তিনি বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি বা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই। এলাকার মানুষ আমার সঙ্গে আছেন। ৫ বছর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছি। তাই ভোটাররা আমাকেই বেছে নেবেন। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আমাকে নানা হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।’