হানিফ সাহেব বসুরহাট পৌর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন
jugantor
হানিফ সাহেব বসুরহাট পৌর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন
-কাদের মির্জা

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বসুরহাট পৌর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেছেন, ‘হানিফ সাহেব আপনি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’ রোববার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি ভয়কে জয় করেছি। আমার বিজয়টি আমার কাজের ফল। আমাদের নেতার (ওবায়দুল কাদের) উন্নয়নের জয়, শেখ হাসিনার উন্নয়নের জয়। আমাদের অনেক নেতা বড় নেতাদের তেল মারেন। নিজ এলাকার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গরিব বাবা-মা মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না, তারা কি তাদের ১০ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। একটা মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, তাদের কি কোনো সহযোগিতা করছেন। এদের কি এলাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ আছে?’

তিনি বলেন, ভোটের সময় আসলে কিছু নেতা নানা কায়দায় নমিনেশন ভাগিয়ে নেন। ভোটের পর আর এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না। তারা এলাকার কোনো কর্মকাণ্ডে থাকেন না, উন্নয়নের সঙ্গে থাকেন না।

কাদের মির্জা বলেন, ‘অনেক এমপি আছেন, নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করেন না। শতভাগ না পারলেও অন্তত ৭০-৮০ ভাগ যদি প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করতেন, তাহলে এখন যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে সব নির্বাচনই আওয়ামী লীগ জয়ী হতো। আজ দাগনভূঞা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নর্বাচনগুলোয় যে ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক। কিন্তু এর পরিবর্তন কে আনবে? খালেদা জিয়া এখন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে বাসায় শুয়ে আছেন। ছেলে (তারেক রহমান) হলো দুর্নীতিবাজ। বাংলাদেশে এলেও তার পক্ষে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আর জামায়াতে ইসলামী আছে, তাদের কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। জামায়াত হলো কোলবালিশ; কোলবালিশ হিসাবে আরও ৫০ বছর থাকতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই। আসলে কেউই পরিবর্তন আনতে পারবে না। পরিবর্তন আনতে পারবে একমাত্র বাংলার প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার সেই সৎ সাহস আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে ৩-৪টা আসন আমাদের। ওবায়দুল কাদের সাহেবের উন্নয়ন এবং ওনার নীতি-নৈতিকতার কারণে এখানে আগের চেয়ে ওনার জনসমর্থন অনেক বেড়েছে। উনি এখানে নির্বাচিত হবেন। হাতিয়ায় আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। এসব এলাকায়ও যে অপরাজনীতি আছে, তা আমি অস্বীকার করব না। সেখানে যে খুনাখুনির রাজনীতি, এটিও আমরা ঘৃণা করি। বেগমগঞ্জের আসনটা বর্তমান এমপি সাহেব মোটামুটি চালাচ্ছেন। চাটখিল-সোনাইমুড়ী আসনে ইব্রাহীম সাহেব অনেক ভালো চালাচ্ছেন। যতটুকু তথ্য আমি নিয়েছি, বৃহত্তর নোয়াখালীতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এর বাইরে একটিতেও আওয়ামী লীগ জয় পাবে না।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকার দু-একজন কুলাঙ্গারের সহযোগিতায় ফেনীর দাগনভূঞার ছেলেরা আমার বাড়িতে চারবার আক্রমণ করেছে। আমি নিজাম হাজারীকে বলে কোনো বিচার পাইনি। এরা সেখানে কী করে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন। স্বপন মিয়াজী সেখানে নমিনেশন নিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়ে দেখেন তারা সেখানে কী করে। এ বিষয়গুলো আমাদের নেতার (ওবায়দুল কাদের) বিবেচনায় আনা দরকার। যেহেতু ওনার এলাকা। উনি শুধু বৃহত্তর নোয়াখালীর নেতা নন; চট্টগ্রাম বিভাগে আমার মনে হয় এই প্রথম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছে। তাই এ বিষয়গুলোর প্রতি তাকে (ওবায়দুল কাদের) নজর দিতে হবে। তাকে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছে সঠিক তথ্যটা তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে অস্ত্রের রাজনীতি চিরবিদায় নেবে। বিরোধী দলের যাদের কাছে অস্ত্র আছে, তাদের বিষয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। ইতোমধ্যে দুজনের কথা আমি বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে জানিয়েছি।

মিষ্টি নিয়ে প্রতিপক্ষের বাসায় কাদের মির্জা : বসুরহাট পৌরসভার নতুন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা রোববার বিকালে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেনের বাসায় যান। এ সময় তিনি নির্বাচনে দুজনকে বলেন, আপনাদের সহযোগিতা থাকার কারণে আমি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। এ জয় শুধু আমার না, আপনাদেরও। এ সময় তাদের কাছে অপরাজনীতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকসহ পৌরসভা পরিচালনায় সহযোগিতা চান তিনি। এ নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে তারা একসঙ্গে বসারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হানিফ সাহেব বসুরহাট পৌর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন

-কাদের মির্জা
 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বসুরহাট পৌর নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেছেন, ‘হানিফ সাহেব আপনি নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’ রোববার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি ভয়কে জয় করেছি। আমার বিজয়টি আমার কাজের ফল। আমাদের নেতার (ওবায়দুল কাদের) উন্নয়নের জয়, শেখ হাসিনার উন্নয়নের জয়। আমাদের অনেক নেতা বড় নেতাদের তেল মারেন। নিজ এলাকার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গরিব বাবা-মা মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না, তারা কি তাদের ১০ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। একটা মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন, তাদের কি কোনো সহযোগিতা করছেন। এদের কি এলাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ আছে?’

তিনি বলেন, ভোটের সময় আসলে কিছু নেতা নানা কায়দায় নমিনেশন ভাগিয়ে নেন। ভোটের পর আর এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না। তারা এলাকার কোনো কর্মকাণ্ডে থাকেন না, উন্নয়নের সঙ্গে থাকেন না।

কাদের মির্জা বলেন, ‘অনেক এমপি আছেন, নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করেন না। শতভাগ না পারলেও অন্তত ৭০-৮০ ভাগ যদি প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করতেন, তাহলে এখন যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে সব নির্বাচনই আওয়ামী লীগ জয়ী হতো। আজ দাগনভূঞা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নর্বাচনগুলোয় যে ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক। কিন্তু এর পরিবর্তন কে আনবে? খালেদা জিয়া এখন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে বাসায় শুয়ে আছেন। ছেলে (তারেক রহমান) হলো দুর্নীতিবাজ। বাংলাদেশে এলেও তার পক্ষে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আর জামায়াতে ইসলামী আছে, তাদের কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। জামায়াত হলো কোলবালিশ; কোলবালিশ হিসাবে আরও ৫০ বছর থাকতে হবে। তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সুযোগ নেই। আসলে কেউই পরিবর্তন আনতে পারবে না। পরিবর্তন আনতে পারবে একমাত্র বাংলার প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার সেই সৎ সাহস আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে ৩-৪টা আসন আমাদের। ওবায়দুল কাদের সাহেবের উন্নয়ন এবং ওনার নীতি-নৈতিকতার কারণে এখানে আগের চেয়ে ওনার জনসমর্থন অনেক বেড়েছে। উনি এখানে নির্বাচিত হবেন। হাতিয়ায় আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা মোটামুটি ভালো। এসব এলাকায়ও যে অপরাজনীতি আছে, তা আমি অস্বীকার করব না। সেখানে যে খুনাখুনির রাজনীতি, এটিও আমরা ঘৃণা করি। বেগমগঞ্জের আসনটা বর্তমান এমপি সাহেব মোটামুটি চালাচ্ছেন। চাটখিল-সোনাইমুড়ী আসনে ইব্রাহীম সাহেব অনেক ভালো চালাচ্ছেন। যতটুকু তথ্য আমি নিয়েছি, বৃহত্তর নোয়াখালীতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এর বাইরে একটিতেও আওয়ামী লীগ জয় পাবে না।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকার দু-একজন কুলাঙ্গারের সহযোগিতায় ফেনীর দাগনভূঞার ছেলেরা আমার বাড়িতে চারবার আক্রমণ করেছে। আমি নিজাম হাজারীকে বলে কোনো বিচার পাইনি। এরা সেখানে কী করে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন। স্বপন মিয়াজী সেখানে নমিনেশন নিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়ে দেখেন তারা সেখানে কী করে। এ বিষয়গুলো আমাদের নেতার (ওবায়দুল কাদের) বিবেচনায় আনা দরকার। যেহেতু ওনার এলাকা। উনি শুধু বৃহত্তর নোয়াখালীর নেতা নন; চট্টগ্রাম বিভাগে আমার মনে হয় এই প্রথম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছে। তাই এ বিষয়গুলোর প্রতি তাকে (ওবায়দুল কাদের) নজর দিতে হবে। তাকে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছে সঠিক তথ্যটা তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে অস্ত্রের রাজনীতি চিরবিদায় নেবে। বিরোধী দলের যাদের কাছে অস্ত্র আছে, তাদের বিষয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। ইতোমধ্যে দুজনের কথা আমি বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে জানিয়েছি।

মিষ্টি নিয়ে প্রতিপক্ষের বাসায় কাদের মির্জা : বসুরহাট পৌরসভার নতুন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা রোববার বিকালে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী কামাল উদ্দিন চৌধুরী ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেনের বাসায় যান। এ সময় তিনি নির্বাচনে দুজনকে বলেন, আপনাদের সহযোগিতা থাকার কারণে আমি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। এ জয় শুধু আমার না, আপনাদেরও। এ সময় তাদের কাছে অপরাজনীতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদকসহ পৌরসভা পরিচালনায় সহযোগিতা চান তিনি। এ নিয়ে কিছুদিনের মধ্যে তারা একসঙ্গে বসারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।