কোডে আটকা হাজার টন চাল
jugantor
কোডে আটকা হাজার টন চাল

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরুর চার দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এইচএস কোড জটিলতার কারণ দেখিয়ে ১৩ জানুয়ারি থেকে চাল রফতানি বন্ধ রেখেছে ভারত। ফলে পাঁচ দিন ধরে এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেনি কোনো চাল। ভারতে আটকা পড়েছে দেশি আমদানিকারকদের কয়েক হাজার টন চাল।

এ ব্যাপারে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক কোড থাকে। যেটাকে বলা হয় এইচএস (হারমোনাইজড সিস্টেম) কোড। চাল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে কোডটি দিয়েছে তাতে উল্লেখ রয়েছে ‘নন বাসমতি হাসকিং রো-রাইস’। কিন্তু ভারতে সেই কোডটি রয়েছে ‘নন বাসমতি রাইস’। ফলে ভারতীয় কাস্টমসে আমাদের এই কোডটি মিলছে না। এ জটিলতায় ভারতীয় কাস্টমস ১৩ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা সেই আমদানি কোডটি সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। এটি সংশোধন হয়ে এলেই আবার ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হবে।

হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম জানান, আমদানি কোড জটিলতা দেখিয়ে পাঁচ দিন ধরে এই বন্দর দিয়ে চাল রপ্তানি বন্ধ রেখেছে ভারতীয় কাস্টমস। ফলে বন্দরের ওপারে ভারতে বেশ কয়েকজন আমদানিকারকের কয়েক হাজার টন চাল ট্রাক বোঝাই অবস্থায় রয়েছে-যা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রিপন রায় জানান, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি ভারতে ওদের নাকি কী সমস্যা হয়েছে, যার কারণে তারাই বাংলাদেশে আপাতত চাল রপ্তানি করছে না। যেহেতু বিষয়টি ভারতীয়, তাই আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে কোনো প্রকার সমস্যা নেই। হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ জানান, দীর্ঘ দেড় বছর পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৯ জানুয়ারি প্রথম ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়। এর পরদিন ১০ জানুয়ারি ২০টি ট্রাকে ৮২৮ টন, ১১ জানুয়ারি ৮টি ট্রাকে ৩২৯ টন এবং ১২ জানুয়ারি ২৩টি ট্রাকে ৮৮৪ টন চাল আমদানি হয়। চার দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয় মোট ২ হাজার ১৪৩ টন চাল। কিন্তু ১৩ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি বন্ধ রাখে ভারত। ফলে ১৩ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো চালবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। চাল না আসার বিষয়টি আমদানিকারকরাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান সোহরাব হোসেন মল্লিক। উল্লেখ্য, চালের বাজারে অস্থিরতা কমাতে সম্প্রতি নিত্যপণ্যটি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এজন্য আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে সরকার। এরপর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৯ জানুয়ারি থেকে চাল আমদানি শুরু হয়।

কোডে আটকা হাজার টন চাল

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরুর চার দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে যায়। এইচএস কোড জটিলতার কারণ দেখিয়ে ১৩ জানুয়ারি থেকে চাল রফতানি বন্ধ রেখেছে ভারত। ফলে পাঁচ দিন ধরে এই বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেনি কোনো চাল। ভারতে আটকা পড়েছে দেশি আমদানিকারকদের কয়েক হাজার টন চাল।

এ ব্যাপারে হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানান, বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক কোড থাকে। যেটাকে বলা হয় এইচএস (হারমোনাইজড সিস্টেম) কোড। চাল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে কোডটি দিয়েছে তাতে উল্লেখ রয়েছে ‘নন বাসমতি হাসকিং রো-রাইস’। কিন্তু ভারতে সেই কোডটি রয়েছে ‘নন বাসমতি রাইস’। ফলে ভারতীয় কাস্টমসে আমাদের এই কোডটি মিলছে না। এ জটিলতায় ভারতীয় কাস্টমস ১৩ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা সেই আমদানি কোডটি সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। এটি সংশোধন হয়ে এলেই আবার ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হবে।

হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম জানান, আমদানি কোড জটিলতা দেখিয়ে পাঁচ দিন ধরে এই বন্দর দিয়ে চাল রপ্তানি বন্ধ রেখেছে ভারতীয় কাস্টমস। ফলে বন্দরের ওপারে ভারতে বেশ কয়েকজন আমদানিকারকের কয়েক হাজার টন চাল ট্রাক বোঝাই অবস্থায় রয়েছে-যা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে। হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রিপন রায় জানান, ‘আমরা যতটুকু শুনেছি ভারতে ওদের নাকি কী সমস্যা হয়েছে, যার কারণে তারাই বাংলাদেশে আপাতত চাল রপ্তানি করছে না। যেহেতু বিষয়টি ভারতীয়, তাই আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে কোনো প্রকার সমস্যা নেই। হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাপ জানান, দীর্ঘ দেড় বছর পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৯ জানুয়ারি প্রথম ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়। এর পরদিন ১০ জানুয়ারি ২০টি ট্রাকে ৮২৮ টন, ১১ জানুয়ারি ৮টি ট্রাকে ৩২৯ টন এবং ১২ জানুয়ারি ২৩টি ট্রাকে ৮৮৪ টন চাল আমদানি হয়। চার দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয় মোট ২ হাজার ১৪৩ টন চাল। কিন্তু ১৩ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে চাল রপ্তানি বন্ধ রাখে ভারত। ফলে ১৩ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো চালবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। চাল না আসার বিষয়টি আমদানিকারকরাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান সোহরাব হোসেন মল্লিক। উল্লেখ্য, চালের বাজারে অস্থিরতা কমাতে সম্প্রতি নিত্যপণ্যটি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এজন্য আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে সরকার। এরপর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৯ জানুয়ারি থেকে চাল আমদানি শুরু হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন