সাড়া জাগাল ক্রুজশিপ
jugantor
চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম যাত্রা
সাড়া জাগাল ক্রুজশিপ

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম যাত্রাতেই ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটে চালু হওয়া বিলাসবহুল ক্রুজশিপ (প্রমোদতরী) বে-ওয়ান। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনাল থেকে বে-ওয়ান যাত্রা করে। ফিরে আসে পরদিন রাত ১০টায়। প্রথম ট্রিপেই ভ্রমণপিপাসু প্রায় ৬০০ পর্যটক এই জাহাজে চড়ে জীবনের এক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। দেশের সাগরেও প্রমোদতরীতে ভ্রমণের এমন আনন্দময় সুযোগ আসবে সেটা ভেবেই অনেকে বিস্মিত। জাহাজে চড়ে গভীর সাগরের নীল জলরাশি ও খোলা আকাশের মিতালি উপভোগ করার এমন সুযোগ লুফে নেয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন তারা।

‘সি ট্যুরিজমের’ অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত এই প্রমোদতরী গভীর সমুদ্রে থাকলেও এতে আধুনিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তাই অবকাশ যাপন আর ছুটির দিনগুলো উপভোগে এ ধরনের ক্রুজশিপই বেছে নেবেন পর্যটকরা- এমনই আশাবাদ দেশের সাগরে প্রথমবারের মতো ক্রুজশিপ ভাসানো প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের। কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা জটিলতায় বারবার নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও বিলাসবহুল ক্রুজশিপে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত ধরা দিয়েছে।

দেশের পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতেই জাপান থেকে বিলাসবহুল ক্রুজশিপ ‘বে-ওয়ান’ কেনা হয়েছে বলে জানালেন কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এমএ রশিদ। তিনি বললেন, ‘প্রমোদতরীতে চড়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করে। দেশের টাকা দেশে রাখা ও ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটাতেই আমি আন্তর্জাতিক মানের এই প্রমোদতরী দেশে এনে বিনিয়োগ ঝুঁকি নিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দর, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে জেটি সুবিধা আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হলে এবং এটি চলাচলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা পেলে এই জাহাজ বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের গণমাধ্যম সমন্বয়ক সিকদার নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ২১ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে বে-ওয়ান। এক রাত থাকার পর শনিবার বেলা ১১টায় পুনরায় সেন্টমার্টিন থেকে চট্টগ্রাম ফিরে আসবে এই প্রমোদতরী। জাহাজটি আইএমও রেজিস্টার্ড সমুদ্রগামী তারকা মানসম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও আশপাশের দ্বীপাঞ্চলেও ভেড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

ভাড়ার নানা প্যাকেজ : সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য এই জাহাজে যাওয়া-আসার সর্বনিু ভাড়া ৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। একাধিক প্যাকেজও রয়েছে। ফিরতি ভাড়া ও রাত্রিযাপনসহ ভিভিআইপি প্যাকেজের আওতায় দুজনের কেবিনের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা, ফ্যামিলি প্যাকেজের আওতায় ৪ জনের স্পেশাল ক্লাস বাংকারের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা, রয়েল প্যাকেজের আওতায় দুজনের রয়েল স্যুটের ভাড়া ৪৫ হাজার টাকা, প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা এবং বাংকার বেড প্যাকেজের আওতায় একজনের বাংকার বেডের ভাড়া ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ইকোনমি প্যাকেজের আওতায় ইকোনমি সিটের ভাড়া ৩ হাজার টাকা। বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া চার হাজার টাকা ধরা হয়েছে। একমুখী ভাড়া ও রাত্রিযাপনসহ ভিভিআইপি কেবিনে দুজনের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা, ফ্যামিলি প্যাকেজে স্পেশাল ফার্স্টক্লাস বাংকার বেডের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা এবং রয়েল প্যাকেজে দুজনের রয়েল স্যুটের ভাড়া ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া ১৫ হাজার টাকা এবং একজনের সিঙ্গেল বাংকার বেডের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার টাকা। বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ইকোনমি সিটের ভাড়া ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, বাংকার বেড কেবিন, টুইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২ হাজার আসন রয়েছে এ প্রমোদতরীতে। রেস্তোরাঁ, অনুষ্ঠানের জন্য পৃথক মঞ্চ ও উন্মুক্ত হল, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন এবং কয়েন পরিচালিত ঝরনা আছে। যাওয়া-আসার পথে পর্যটকদের বিনোদন পিপাসা মেটাতে উন্মুক্ত মঞ্চে থাকবে গানের আয়োজন।

ঘণ্টায় ২০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলবে এ জাহাজ : জাহাজের ক্যাপ্টেন আলমগীর কবির যুগান্তরকে জানান, জাপানের কোবেই শহরের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি এই ক্রুজশিপটির দৈর্ঘ্য ৪০০ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট ও প্রায় ১৮ ফুট ড্রাফট রয়েছে। এটির গড় গতি ঘণ্টায় ১৬ দশমিক ১ নটিক্যাল মাইল এবং সর্বোচ্চ গড় গতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল। বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্রপথে এই জাহাজ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৮ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইলবেগে চলতে সক্ষম। এটির গভীরতা পাঁচ দশমিক চার মিটার। জাহাজটিতে ১১ হাজার ২০০ বিএইচপিসম্পন্ন মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন রয়েছে, যা দিয়ে জাহাজটি প্রতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারবে। ৪ নম্বর সতর্ক সংকেতেও বিশেষ পাখার সাহায্যে এই জাহাজ গভীর সাগরে নিরাপদে ভেসে থাকতে পারবে। জাহাজে ক্রু রয়েছে ১৬৭ জন। এই জাহাজটি বসে থাকলেও এটির পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হবে ১৮ লাখ টাকা। জাহাজটি এক সময় টোকিও থেকে ওশিমা-তোশিমা-নিজিমা-শিকিনিজিমা-কোজুশিমা এবং গ্রীষ্মে টোকিও বে-নাইট ক্রুজ ‘টোকিও ওয়ান নুরউইসন’ হিসেবে যাত্রা করত। জাপানে এই জাহাজটির নাম ছিল ‘সালভিয়া মারু’। বাংলাদেশে আনার পর এই জাহাজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রুজশিপ বে-ওয়ান’। জাহাজটি গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব চীন সাগর অতিক্রম করে ১৫ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর এটি আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম যাত্রা

সাড়া জাগাল ক্রুজশিপ

 শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম যাত্রাতেই ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন রুটে চালু হওয়া বিলাসবহুল ক্রুজশিপ (প্রমোদতরী) বে-ওয়ান। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনাল থেকে বে-ওয়ান যাত্রা করে। ফিরে আসে পরদিন রাত ১০টায়। প্রথম ট্রিপেই ভ্রমণপিপাসু প্রায় ৬০০ পর্যটক এই জাহাজে চড়ে জীবনের এক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। দেশের সাগরেও প্রমোদতরীতে ভ্রমণের এমন আনন্দময় সুযোগ আসবে সেটা ভেবেই অনেকে বিস্মিত। জাহাজে চড়ে গভীর সাগরের নীল জলরাশি ও খোলা আকাশের মিতালি উপভোগ করার এমন সুযোগ লুফে নেয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন তারা।

‘সি ট্যুরিজমের’ অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত এই প্রমোদতরী গভীর সমুদ্রে থাকলেও এতে আধুনিক সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তাই অবকাশ যাপন আর ছুটির দিনগুলো উপভোগে এ ধরনের ক্রুজশিপই বেছে নেবেন পর্যটকরা- এমনই আশাবাদ দেশের সাগরে প্রথমবারের মতো ক্রুজশিপ ভাসানো প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের। কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা জটিলতায় বারবার নেওয়া উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও বিলাসবহুল ক্রুজশিপে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত ধরা দিয়েছে।

দেশের পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতেই জাপান থেকে বিলাসবহুল ক্রুজশিপ ‘বে-ওয়ান’ কেনা হয়েছে বলে জানালেন কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এমএ রশিদ। তিনি বললেন, ‘প্রমোদতরীতে চড়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করে। দেশের টাকা দেশে রাখা ও ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটাতেই আমি আন্তর্জাতিক মানের এই প্রমোদতরী দেশে এনে বিনিয়োগ ঝুঁকি নিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দর, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে জেটি সুবিধা আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হলে এবং এটি চলাচলে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা পেলে এই জাহাজ বাংলাদেশের পর্যটন খাতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের গণমাধ্যম সমন্বয়ক সিকদার নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ২১ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে বে-ওয়ান। এক রাত থাকার পর শনিবার বেলা ১১টায় পুনরায় সেন্টমার্টিন থেকে চট্টগ্রাম ফিরে আসবে এই প্রমোদতরী। জাহাজটি আইএমও রেজিস্টার্ড সমুদ্রগামী তারকা মানসম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও আশপাশের দ্বীপাঞ্চলেও ভেড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

ভাড়ার নানা প্যাকেজ : সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য এই জাহাজে যাওয়া-আসার সর্বনিু ভাড়া ৩ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। একাধিক প্যাকেজও রয়েছে। ফিরতি ভাড়া ও রাত্রিযাপনসহ ভিভিআইপি প্যাকেজের আওতায় দুজনের কেবিনের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা, ফ্যামিলি প্যাকেজের আওতায় ৪ জনের স্পেশাল ক্লাস বাংকারের ভাড়া ৫০ হাজার টাকা, রয়েল প্যাকেজের আওতায় দুজনের রয়েল স্যুটের ভাড়া ৪৫ হাজার টাকা, প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া ৩০ হাজার টাকা এবং বাংকার বেড প্যাকেজের আওতায় একজনের বাংকার বেডের ভাড়া ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। ইকোনমি প্যাকেজের আওতায় ইকোনমি সিটের ভাড়া ৩ হাজার টাকা। বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া চার হাজার টাকা ধরা হয়েছে। একমুখী ভাড়া ও রাত্রিযাপনসহ ভিভিআইপি কেবিনে দুজনের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা, ফ্যামিলি প্যাকেজে স্পেশাল ফার্স্টক্লাস বাংকার বেডের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা এবং রয়েল প্যাকেজে দুজনের রয়েল স্যুটের ভাড়া ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যাকেজের আওতায় দুজনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভাড়া ১৫ হাজার টাকা এবং একজনের সিঙ্গেল বাংকার বেডের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার টাকা। বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ইকোনমি সিটের ভাড়া ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, বাংকার বেড কেবিন, টুইন বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২ হাজার আসন রয়েছে এ প্রমোদতরীতে। রেস্তোরাঁ, অনুষ্ঠানের জন্য পৃথক মঞ্চ ও উন্মুক্ত হল, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন এবং কয়েন পরিচালিত ঝরনা আছে। যাওয়া-আসার পথে পর্যটকদের বিনোদন পিপাসা মেটাতে উন্মুক্ত মঞ্চে থাকবে গানের আয়োজন।

ঘণ্টায় ২০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলবে এ জাহাজ : জাহাজের ক্যাপ্টেন আলমগীর কবির যুগান্তরকে জানান, জাপানের কোবেই শহরের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি এই ক্রুজশিপটির দৈর্ঘ্য ৪০০ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট ও প্রায় ১৮ ফুট ড্রাফট রয়েছে। এটির গড় গতি ঘণ্টায় ১৬ দশমিক ১ নটিক্যাল মাইল এবং সর্বোচ্চ গড় গতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল। বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্রপথে এই জাহাজ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৮ থেকে ২০ নটিক্যাল মাইলবেগে চলতে সক্ষম। এটির গভীরতা পাঁচ দশমিক চার মিটার। জাহাজটিতে ১১ হাজার ২০০ বিএইচপিসম্পন্ন মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন রয়েছে, যা দিয়ে জাহাজটি প্রতি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারবে। ৪ নম্বর সতর্ক সংকেতেও বিশেষ পাখার সাহায্যে এই জাহাজ গভীর সাগরে নিরাপদে ভেসে থাকতে পারবে। জাহাজে ক্রু রয়েছে ১৬৭ জন। এই জাহাজটি বসে থাকলেও এটির পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হবে ১৮ লাখ টাকা। জাহাজটি এক সময় টোকিও থেকে ওশিমা-তোশিমা-নিজিমা-শিকিনিজিমা-কোজুশিমা এবং গ্রীষ্মে টোকিও বে-নাইট ক্রুজ ‘টোকিও ওয়ান নুরউইসন’ হিসেবে যাত্রা করত। জাপানে এই জাহাজটির নাম ছিল ‘সালভিয়া মারু’। বাংলাদেশে আনার পর এই জাহাজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রুজশিপ বে-ওয়ান’। জাহাজটি গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব চীন সাগর অতিক্রম করে ১৫ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর এটি আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন