প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ
jugantor
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম
প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ’ (আইএমইডি)। রোববার আইএমইডি প্রধান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্তদল কাজ শুরু করেন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) সাইফুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক মতিয়ার রহমান, গণপূর্ত বিভাগের যুগ্মসচিব শওকত আলী এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুর রউফ।

তদন্তদল সরেজমিন নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে। পরে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় প্রকল্প শুরুর পর থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালনকারী প্রকল্প পরিচালকরা, সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তদল।

উল্লেখ্য, অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘায়িত নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের নির্মাণকাল বাড়ানোসহ আনুষঙ্গিক চাহিদা পূরণে উন্নয়ন প্রস্তাবনা অনুমোদন চেয়ে একনেক সভায় উপস্থাপন করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ৫ জানুয়ারি একনেক সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে উন্নয়ন প্রস্তাবনার ফাইল ফেরত পাঠান এবং ওইদিনই প্রকল্পটি তদন্তের নির্দেশ দেন আইএমইডিকে। ১৬ জানুয়ারি যুগান্তরে ‘অনিয়মে অনিশ্চিত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্প’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ফলে নির্ধারিত নির্মাণকালের প্রায় তিন গুণ সময় অতিবাহিত এবং সরকারি অর্থ ব্যয়সহ অপচয়ের কারণে ঝুলে থাকা নির্মাণাধীন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক-এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু। জানা যায়, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের পাঁচ জেলার মানুষের অন্তত ২০ বছর পরের চাহিদা মাথায় রেখে ২০১২ সালের ৩ মার্চ ২৭৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন, দরবৃদ্ধি করে কার্যাদেশ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ২০১৭ সালের মধ্যভাগে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ’ (আইএমইডি) তদন্ত করেছিল। ওই সময় তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্পটির একাডেমিক, হাসপাতাল, ছাত্রাবাস ও আবাসিকসহ সব কটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেই নকশা পরিবর্তনসহ নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়েছিল তদন্তদল। ওই প্রতিবেদনে প্রকল্পটির প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেঁধে দেওয়া ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদন না নিয়েই অর্থ ব্যয় করে সরকারি ক্রয় আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, দেখুন নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পটি ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বলতে পারেন আমি নিজেই কাঠগড়ায়। ফলে তদন্তাধীন এই বিষয়ে কোনো কিছুই বলার এখতিয়ার আমার নেই।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম

প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের জিজ্ঞাসাবাদ

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ’ (আইএমইডি)। রোববার আইএমইডি প্রধান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্তদল কাজ শুরু করেন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) সাইফুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক মতিয়ার রহমান, গণপূর্ত বিভাগের যুগ্মসচিব শওকত আলী এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুর রউফ।

তদন্তদল সরেজমিন নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে। পরে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় প্রকল্প শুরুর পর থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালনকারী প্রকল্প পরিচালকরা, সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তদল।

উল্লেখ্য, অব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘায়িত নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের নির্মাণকাল বাড়ানোসহ আনুষঙ্গিক চাহিদা পূরণে উন্নয়ন প্রস্তাবনা অনুমোদন চেয়ে একনেক সভায় উপস্থাপন করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ৫ জানুয়ারি একনেক সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে উন্নয়ন প্রস্তাবনার ফাইল ফেরত পাঠান এবং ওইদিনই প্রকল্পটি তদন্তের নির্দেশ দেন আইএমইডিকে। ১৬ জানুয়ারি যুগান্তরে ‘অনিয়মে অনিশ্চিত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্প’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ফলে নির্ধারিত নির্মাণকালের প্রায় তিন গুণ সময় অতিবাহিত এবং সরকারি অর্থ ব্যয়সহ অপচয়ের কারণে ঝুলে থাকা নির্মাণাধীন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক-এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু। জানা যায়, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের পাঁচ জেলার মানুষের অন্তত ২০ বছর পরের চাহিদা মাথায় রেখে ২০১২ সালের ৩ মার্চ ২৭৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয়ে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন, দরবৃদ্ধি করে কার্যাদেশ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ২০১৭ সালের মধ্যভাগে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ‘বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ’ (আইএমইডি) তদন্ত করেছিল। ওই সময় তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্পটির একাডেমিক, হাসপাতাল, ছাত্রাবাস ও আবাসিকসহ সব কটি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেই নকশা পরিবর্তনসহ নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়েছিল তদন্তদল। ওই প্রতিবেদনে প্রকল্পটির প্রায় সব ক্ষেত্রেই বেঁধে দেওয়া ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করে অনুমোদন না নিয়েই অর্থ ব্যয় করে সরকারি ক্রয় আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, দেখুন নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ প্রকল্পটি ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বলতে পারেন আমি নিজেই কাঠগড়ায়। ফলে তদন্তাধীন এই বিষয়ে কোনো কিছুই বলার এখতিয়ার আমার নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন