অধিকাংশ ওয়েবসাইটে নেই হালনাগাদ তথ্য
jugantor
রাজশাহীতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি
অধিকাংশ ওয়েবসাইটে নেই হালনাগাদ তথ্য

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল নিয়ে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের প্রচারণার কমতি নেই। কিন্তু রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থা এখনো বেহাল। সন্নিবেশিত তথ্যও কয়েক বছরের পুরোনো। এসব তথ্যে বিভ্রান্তি ও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই সার্ভারের ত্রুটিতে বন্ধ থাকছে সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলো। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ কাক্সিক্ষত তথ্য পাওয়া যায় না। জেলা প্রশাসন ও প্রযুক্তি শাখার তথ্যমতে, রাজশাহীতে ৩৯৪টি সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট আছে। এসব সাইটের মধ্যে শুধু রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আওতায় আছে ৪৮টি। এর বাইরে ৯টি উপজেলায় আছে আরও ৩১০টি ওয়েবসাইট। এর মধ্যে পবা উপজেলায় ৩১টি, দুর্গাপুরে ৩৪টি, মোহনপুরে ৩৫টি, চারঘাটে ৩৮টি, পুঠিয়ায় ৩৪টি, বাঘায় ৩১টি, গোদাগাড়ীতে ৩৬টি, বাগমারায় ৩৭টি ও তানোরে ৩৪টি ওয়েবসাইট আছে। প্রতিটি দপ্তরে এসব ওয়েবসাইটের জন্য নিয়োজিত একজন করে জনবল। এ ছাড়া এগুলো তদারকির জন্য একজন আইটি অফিসারও রয়েছেন।

রাজশাহীর সরকারি দপ্তরের এসব ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তৈরি এসব সাইট জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। অধিকাংশ ওয়েবসাইটেই তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি কয়েক বছর ধরে। সম্প্রতি ওয়েবসাইট হালনাগাদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়-বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব, দপ্তর-অধিদপ্তরের প্রধান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তার পরও রাজশাহীর দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইটে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। সার্ভারের ত্রুটির কারণে ডিসেম্বরই অন্তত দুবার বন্ধ ছিল রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও অধীন দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইট। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো ওয়েবসাইট খুঁজে পাচ্ছেন না সেবাপ্রার্থীরা। বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট আদৌ আছে কি না, তা-ও নিশ্চিত নন তারা। জেলা পুলিশ, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, রাজশাহী কৃষি অঞ্চল দপ্তরের কোনো ওয়েবসাইটও খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট থাকলেও সেখানে নেই কোনো হালনাগাদ তথ্য। রাজশাহীর সিনিয়র বিপণন কর্মকর্তা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও বিভিন্ন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, পাট দপ্তর, তুলা দপ্তর, সামাজিক বন বিভাগ, জেলা সঞ্চয় দপ্তর, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, সমাজসেবা দপ্তর, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কোনো ওয়েবসাইটও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, এসব দপ্তরের গুগল ম্যাপের লিংকও নেই কোথাও। রাজশাহী বিভাগ, জেলা, উপজেলার সরকারি প্রতিটি দপ্তর বিভাগ ও অধীন উপ-দপ্তরসহ সব দপ্তরের ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক। আছে জনবল ও নিয়মিত ভালো বাজেটও। কিন্তু কোথাও কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। পাঁচ বছর আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাকে চলতি কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে অনেক সরকারি ওয়েবসাইটে। পুলিশের সব নম্বর বদল হলেও জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটে পুরাতন নম্বরগুলো এখনো দেওয়া রয়েছে। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে বিভাগে তথ্য ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি কমিটি আছে। কমিটি প্রতিমাসে সভা করে থাকে। জনগণকে ডিজিটাল সুবিধা দিতে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত হয় এসব সভায়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয় না।

জানতে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের কোনো কোনো সাইট নষ্ট বা খারাপ অবস্থায় আছে, সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

রাজশাহীতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি

অধিকাংশ ওয়েবসাইটে নেই হালনাগাদ তথ্য

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল নিয়ে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের প্রচারণার কমতি নেই। কিন্তু রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থা এখনো বেহাল। সন্নিবেশিত তথ্যও কয়েক বছরের পুরোনো। এসব তথ্যে বিভ্রান্তি ও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই সার্ভারের ত্রুটিতে বন্ধ থাকছে সরকারি দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সাইটগুলো। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ কাক্সিক্ষত তথ্য পাওয়া যায় না। জেলা প্রশাসন ও প্রযুক্তি শাখার তথ্যমতে, রাজশাহীতে ৩৯৪টি সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট আছে। এসব সাইটের মধ্যে শুধু রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আওতায় আছে ৪৮টি। এর বাইরে ৯টি উপজেলায় আছে আরও ৩১০টি ওয়েবসাইট। এর মধ্যে পবা উপজেলায় ৩১টি, দুর্গাপুরে ৩৪টি, মোহনপুরে ৩৫টি, চারঘাটে ৩৮টি, পুঠিয়ায় ৩৪টি, বাঘায় ৩১টি, গোদাগাড়ীতে ৩৬টি, বাগমারায় ৩৭টি ও তানোরে ৩৪টি ওয়েবসাইট আছে। প্রতিটি দপ্তরে এসব ওয়েবসাইটের জন্য নিয়োজিত একজন করে জনবল। এ ছাড়া এগুলো তদারকির জন্য একজন আইটি অফিসারও রয়েছেন।

রাজশাহীর সরকারি দপ্তরের এসব ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তৈরি এসব সাইট জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। অধিকাংশ ওয়েবসাইটেই তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি কয়েক বছর ধরে। সম্প্রতি ওয়েবসাইট হালনাগাদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়-বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব, দপ্তর-অধিদপ্তরের প্রধান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তার পরও রাজশাহীর দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইটে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। সার্ভারের ত্রুটির কারণে ডিসেম্বরই অন্তত দুবার বন্ধ ছিল রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও অধীন দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইট। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো ওয়েবসাইট খুঁজে পাচ্ছেন না সেবাপ্রার্থীরা। বৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট আদৌ আছে কি না, তা-ও নিশ্চিত নন তারা। জেলা পুলিশ, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে, রাজশাহী কৃষি অঞ্চল দপ্তরের কোনো ওয়েবসাইটও খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট থাকলেও সেখানে নেই কোনো হালনাগাদ তথ্য। রাজশাহীর সিনিয়র বিপণন কর্মকর্তা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও বিভিন্ন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, কৃষি তথ্য সার্ভিস, পাট দপ্তর, তুলা দপ্তর, সামাজিক বন বিভাগ, জেলা সঞ্চয় দপ্তর, জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, সমাজসেবা দপ্তর, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কোনো ওয়েবসাইটও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, এসব দপ্তরের গুগল ম্যাপের লিংকও নেই কোথাও। রাজশাহী বিভাগ, জেলা, উপজেলার সরকারি প্রতিটি দপ্তর বিভাগ ও অধীন উপ-দপ্তরসহ সব দপ্তরের ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক। আছে জনবল ও নিয়মিত ভালো বাজেটও। কিন্তু কোথাও কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। পাঁচ বছর আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাকে চলতি কর্মকর্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে অনেক সরকারি ওয়েবসাইটে। পুলিশের সব নম্বর বদল হলেও জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটে পুরাতন নম্বরগুলো এখনো দেওয়া রয়েছে। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে বিভাগে তথ্য ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি কমিটি আছে। কমিটি প্রতিমাসে সভা করে থাকে। জনগণকে ডিজিটাল সুবিধা দিতে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত হয় এসব সভায়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয় না।

জানতে চাইলে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের কোনো কোনো সাইট নষ্ট বা খারাপ অবস্থায় আছে, সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।