সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না
jugantor
সিটি করপোরেশন নির্বাচন
সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না
- সিইসি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তার প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করি না। ইভিএমে যেখানে ভোটগ্রহণ হবে সেখানে সশস্ত্র পুলিশ পাহারায় থাকবে। ভেতরে গিয়ে (বুথে) একজনের ভোট আরেকজনের দেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, প্রতিযোগিতা হয়, কিন্তু প্রতিহিংসাপূর্ণ যেন না হয়। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, এটা কাম্য হতে পারে না। যারা এই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করছেন তাদের সহনশীল হতে হবে। সেটা যদি অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ হয় তাহলে সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে না।

রোববার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি মার্কিন নির্বাচনের চেয়েও বাংলাদেশের নির্বাচন উৎসবমুখর হচ্ছে বলে দাবি করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আলমগীর হোসেন। অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যেই কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির প্রাণ গেছে। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একটি জীবন এই নির্বাচনের চেয়ে অনেক মূল্যবান। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করবেন কিন্তু সেটা সহনশীল পর্যায়ে থাকতে হবে। সংঘাত-সংঘর্ষে কারও জীবন চলে যাবে এটা হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের ধন্যবাদ যে, এই নির্বাচনকে আপনারা উৎসবমুখর করেছেন। নির্বাচন ভোটারদের পছন্দের বিষয় সেটা চসিক নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমার উপলব্ধি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে একজন প্রার্থীর পরিচয় প্রার্থী হিসাবেই। তিনি কোন দলের মতের গোত্রের সেটা পরিচয় নয়। প্রত্যেককে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় আইনি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।’

নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশি হয়রানি প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে বা আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে পুলিশ তাদের ধরতে বা গ্রেফতার করার চেষ্টা করতেই পারে। নতুনভাবে বা নিষ্প্রোয়জনে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করবে না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আজও বলেছি, কোনো নিরপরাধ লোক বা সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তারা যেন হয়রানির সম্মুখীন না হন। এ ব্যাপারে তারা তৎপর আছেন। যারা ফৌজদারি অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। রোববার পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৫৬টি অভিযোগ পড়েছিল। এসব অভিযোগের বিপরীতে ৩৫ অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও চসিক নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে বলেও সিইসি দাবি করেন। প্রসঙ্গত, আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারণা শুরুর পর আচরণবিধি লংঘন, হামলা হুমকিসহ গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৫৬টি অভিযোগ জমা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন

সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না

- সিইসি
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তার প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করি না। ইভিএমে যেখানে ভোটগ্রহণ হবে সেখানে সশস্ত্র পুলিশ পাহারায় থাকবে। ভেতরে গিয়ে (বুথে) একজনের ভোট আরেকজনের দেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, প্রতিযোগিতা হয়, কিন্তু প্রতিহিংসাপূর্ণ যেন না হয়। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, এটা কাম্য হতে পারে না। যারা এই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করছেন তাদের সহনশীল হতে হবে। সেটা যদি অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ হয় তাহলে সহিংস ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে না।

রোববার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি মার্কিন নির্বাচনের চেয়েও বাংলাদেশের নির্বাচন উৎসবমুখর হচ্ছে বলে দাবি করেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আলমগীর হোসেন। অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যেই কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তির প্রাণ গেছে। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একটি জীবন এই নির্বাচনের চেয়ে অনেক মূল্যবান। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করবেন কিন্তু সেটা সহনশীল পর্যায়ে থাকতে হবে। সংঘাত-সংঘর্ষে কারও জীবন চলে যাবে এটা হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের ধন্যবাদ যে, এই নির্বাচনকে আপনারা উৎসবমুখর করেছেন। নির্বাচন ভোটারদের পছন্দের বিষয় সেটা চসিক নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমার উপলব্ধি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে একজন প্রার্থীর পরিচয় প্রার্থী হিসাবেই। তিনি কোন দলের মতের গোত্রের সেটা পরিচয় নয়। প্রত্যেককে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় আইনি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।’

নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশি হয়রানি প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে বা আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে পুলিশ তাদের ধরতে বা গ্রেফতার করার চেষ্টা করতেই পারে। নতুনভাবে বা নিষ্প্রোয়জনে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করবে না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আজও বলেছি, কোনো নিরপরাধ লোক বা সংঘাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তারা যেন হয়রানির সম্মুখীন না হন। এ ব্যাপারে তারা তৎপর আছেন। যারা ফৌজদারি অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। রোববার পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৫৬টি অভিযোগ পড়েছিল। এসব অভিযোগের বিপরীতে ৩৫ অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও চসিক নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে বলেও সিইসি দাবি করেন। প্রসঙ্গত, আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারণা শুরুর পর আচরণবিধি লংঘন, হামলা হুমকিসহ গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৫৬টি অভিযোগ জমা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন।